সিলেটে বিদ্যুৎ দুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগ, স্থাপন হচ্ছে ৫৩ হাজার নতুন প্রি-পেইড মিটার
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ জুলাই ২০২৫, ২:৪১:২২ অপরাহ্ন
আনাস হাবিব কলিন্স :
সিলেটে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার গ্রাহকদের দুর্ভোগ লাঘবে আরো ৫৩ হাজার নতুন মিটার লাগানো হচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে পুরাতন মিটার পরিবর্তন করে এসব নতুন মিটার সংযোজন করা হবে। বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এবং বিতরণ বিভাগ-৫ এর গ্রাহকরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এ সুবিধা পাবেন।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি’র) সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদির সিলেটের ডাক-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রজেক্ট ইন ডিস্ট্রিবিউশন অব বিপিডিবি’র প্রকল্প বিউবো বিতরণ বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৩৫ হাজার পুরাতন মিটার ও বিউবো বিতরণ বিভাগ-৫ এর আওতাধীন আরো ১৮ হাজার পুরাতন মিটার বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত রোববার সিলেট নগরীতে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার রিচার্জ জটিলতায় অনেক গ্রাহক ২৪ ঘণ্টার অধিক সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় কাটিয়েছেন। ৭ ও ১৪ সিরিয়ালের মিটারের রিচার্জ জটিলতা কাটাতে তখন সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের মিটার পরিবর্তনের পরামর্শ দেন। হুট করে মিটার পরিবর্তনের তাগিদ দেয়াকে কেন্দ্র করে গ্রাকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ক্ষুদ্ধ গ্রাহকরা গত সোমবার সকাল থেকে নগরীর শাহজালাল উপশহরের বিদ্যুৎ অফিসে ভিড় করেন। শেষ পর্যন্ত জনতাকে সামাল দিতে সেখানে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে, ওই দিন বিকেলেই সার্ভার সচল হলে স্বস্থি ফিরে প্রি-পেইড মিটার গ্রাহকদের।
এদিকে, বিউবো বিতরণ বিভাগ -২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামছ-ই-আরেফিন জানান, ২০০৫ সালে পাইলট প্রকল্পের অধীনে প্রি-পেইড মিটার বসানো শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১২ ও ২০১৪ সালে লাগানো এসব পুরাতন মিটারে নানা জটিলতা থাকায় চলতি মাস থেকেই তা পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে মিটার পরিবর্তনকারী দল গ্রাহকদের বাড়িতে গিয়ে মিটার পরিবর্তনের কাজ সম্পাদন করবেন। মিটার পরিবর্তনের জন্য উপশহরস্থ দপ্তরে আবেদনের কোন প্রয়োজন হবে না। নতুন স্থাপিত মিটারে বিধি মোতাবেক প্রতিমাসে পূর্বের ন্যায় মিটার ভাড়া প্রযোজ্য হবে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে, বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং এর শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করা। এই ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সাল থেকে সিলেট নগরীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর গ্রাহকদের প্রি-পেমেন্ট মিটারের আওতায় আনা হয়। তবে, বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১, ৩, ৪ ও ৫ এর বাইরে ছিল। এ বিষয়টিকে মাথায় রেখে বিদ্যুতের ওই চারটি বিতরণ বিভাগকে সামনে আনা হয়। স্মার্ট প্রিপেইড মিটারিং প্রজেক্ট ইন ডিস্ট্রিবিউশন অব বিপিডিবি প্রজেক্টের আওতায় গত বছর থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার ২৪৯ জন বিদ্যুৎ গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে।
বিপিডিবি প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাহারুল ইসলাম জানান, এ প্রকল্পের আওতায় সিলেটে ইতোমধ্যে ৫৯ হাজার ৫শ’ গ্রাহকের মিটার পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী বছর জুন মাসের মধ্যেই বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সিলেটে বিদ্যুতের সামগ্রিক চাহিদা পাল্টে যাবে। এতে অতিরিক্ত বিল আসার সম্ভাবনা থেকেও গ্রাহক রেহাই পাবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিউবো সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮ সালে সিলেট অঞ্চলের আরো কয়েকটি ইলেকট্রিক সাপ্লাই (বিদ্যুৎ সঞ্চালন) লাইন প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিলেটের জৈন্তাপুর, সুনামগঞ্জ, দিরাই, জগন্নাথপুর, ছাতক, হবিগঞ্জ, কুলাউড়া এবং মৌলভীবাজার। এর মধ্যে কয়েকটিতে প্রি-পেইড মিটার সংযোজন হয়েছে।




