সংস্কারের অভাবে দক্ষিণ সুরমার সড়কগুলোর বেহাল দশা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ জুলাই ২০২৫, ৪:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন
জাহাঙ্গীর আলম মুসিক, দক্ষিণ সুরমা থেকে : দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন সড়কগুলোর মধ্যে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী চত্বর থেকে চন্ডিপুল বাইপাস সড়ক, মোগলাবাজার-ঢাকাদক্ষিণ সড়ক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন মোগলাবাজার-জালালপুর সড়ক, খালোরমুখ-কলাবাগান-লালাবাজার সড়ক, মোগলাবাজার রেঙ্গা মাদরাসা থেকে শায়খে রেঙ্গা (রহ:)- আনিলগঞ্জ জালালপুর সড়কসহ অসংখ্য গ্রামীণ সড়ক খানাখন্দকে ভরে গেছে।
সংস্কার এর অভাবে সড়কগুলো বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এমন কোনদিন নেই যে, এই সড়কগুলোর কোন না কোন স্থানে যানবাহন দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে না। এজন্য জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সাধন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ের পর্যায়ে চলে গেছে। সড়ক দুর্ঘটনার কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সড়কে গর্তের কারণে দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। সড়কগুলোতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং বৃষ্টির পানি আটকে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় প্রতিদিন অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কগুলো খানাখন্দের ‘ভাগাড়ে’ পরিণত হয়েছে। সড়কগুলো দিয়ে চলাচলকারী সবার মুখে একটি কথা, সড়ক বিভাগ যখন অন্ধ হয়ে যায়, তখন রাস্তার এ অবস্থা হয়।
এছাড়াও ব্যক্তি উদ্যোগে জায়গায় জায়গায় দেয়া হয়েছে স্পিডব্রেকার (গতিরোধক) যেগুলো আবার মার্কিং করা নেই, সে কারণেও দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বেহাল অবস্থায় রয়েছে সড়কগুলোর বিভিন্ন বাজারের অংশগুলো।
সড়কের এমন বেহালদশার কারণে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে পরিবহন ভাড়া। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রসূতিসহ সাধারণ রোগীরা। সড়কগুলোর অবস্থা দেখে মনে হয়- এগুলো দেখার কেউ নেই। প্রতিদিন এ সড়কগুলো দিয়ে আপামর জনসাধারণসহ লাখো মানুষ বিভাগীয়, জেলা, উপজেলার শহরগুলোতে এ সড়কগুলো দিয়ে যাতায়াত করেন।
বর্ষা মৌসুমে সড়কের কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে মেরামত না করলে রাস্তাটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত হবে বলে জানান যানবাহনের ড্রাইভার ও ভুক্তভোগীগণ। সড়কগুলো দিয়ে চলাচলকারী অনেকে আক্ষেপ করে বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। অনেক প্রবাসী বলেন, আমরা দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনি আর আমাদের চলাচলের রাস্তাটি মেরামত করা হয় না। বিগত বর্ষা মৌসুমে সড়কের সিলকোট কার্পেটিং উঠে বড়ো বড়ো গর্ত তৈরি হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছিল। সামান্য বৃষ্টি হলে এসব গর্তে হাঁটুপানি জমে যায়। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষ নীরব, বিধায় রাস্তাগুলো সংস্কার হচ্ছে না।
সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত সেইসঙ্গে ধুলার অত্যাচার। ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে গন্তব্যে যেতে শিক্ষার্থী, পথচারী, রোগীসহ ভ্রমণ পিপাসুদের চোখের পানি, নাকের পানি একাকার হতে দেখা যায়।
অবিলম্বে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো মেরামতে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রী সাধারণসহ সড়কগুলো দিয়ে চলাচলকারী সুবিধাভোগী জনসাধারণ।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রকৌশলী শেখ আজিম উর রশীদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এলজিইডি’র আওতাধীন সড়কগুলো সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্প প্রেরণ করা হয়েছে। প্রকল্পে বরাদ্দ পেলে সংস্কার কাজ শুরু হবে।




