শাবিপ্রবি ছাত্রদলের তোপের মুখে উপাচার্য, জুলাই অভ্যুত্থান দিবস বয়কট
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ আগস্ট ২০২৫, ৮:২১:৫৪ অপরাহ্ন
প্রতিনিধি শাবিপ্রবি : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তোপের মুখে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জুন তলায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, জুলাই গণ অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বেলা সাড়ে ১০টায় মিনি অডিটোরিয়ামে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আলোচনাসভা শেষ করে গাড়িতে উঠেন উপাচার্য। গাড়িটি অর্জুন তলায় আসার সাথে সাথে শাবি ছাত্রদল সভাপতি রাহাত জামান ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকারের নেতৃত্বে ২০,২৫ জন নেতাকর্মী গাড়ির পথরোধ করেন। এসময় নেতাকর্মীরা জিয়ার সৈনিক এক হও লড়াই করো, জুলাইয়ের গাদ্দারেরা হুঁশিয়ার সাবধান, লাখো শহিদের রক্তে কেনা দেশটা কারো বাপের না, ভুয়া ভুয়া প্রশাসন ভুয়া প্রভৃতি স্লোগান দেন।
এসময় সভাপতি রাহাত জামান ও সেক্রেটারী নাঈম সরকার উপাচার্যের কাছে অভিযোগ করেন গত একবছর বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীদেরকে আপনাদের মদদে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এসময় উপাচার্য শান্তভাবে তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে প্রক্টর এসে তাদেরকে বুঝানোর চেষ্টা করলে তিনিও নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন। এক পর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গাড়ি ছেড়ে দিয়ে মিছিল নিয়ে গোলচত্ত্বরের দিকে এগিয়ে যান। এর পূর্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আজকের জুলাই অভ্যুত্থান দিবসের আজকের কর্মসূচি বয়কট করেন।
গোলচত্ত্বরে এসে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখেন।
এসময় সভাপতি রাহাত জামান বলেন, এই জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্রদলের প্রায় ১৫২ জন শহীদ হয়েছেন। কিন্তু আমরা লক্ষ করেছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিচ্ছে। সেটা কোনভাবেই কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিতে আমাদের দাওয়াত দেওয়া হয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজনকে দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি এনগেজমেন্ট বৈছায়া কিভাবে আমাদের দাওয়ায় দেয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন ফান্ড ও বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের টাকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ড খালি করে দেওয়া হচ্ছে। আমরা মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটা গোষ্ঠীকে প্রায়োরিটি দিয়ে বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে বৈষম্য তৈরি করা হচ্ছে।
সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার বলেন, ৫ আগস্টের পর অনেক ধরনের প্রোগ্রাম করেছে প্রশাসন। কিন্তু তারা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু আন্দোলনে তো সবার ভূমিকা ছিল। প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন তাদের জনবল সংকট। জনবল সংকট থাকতেই পারে। কিন্তু ওনারা তো সামাজিক সাংস্কৃতিক দলবল নির্বশেষে সকল কে নিবেন। যারা জুলাই আগস্ট আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। সবাইকে নিয়ে তো আয়োজন সম্পন্ন করা যেতো। আমরা প্রশাসনের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। অতিদ্রুত স্যারের কাছে এর কারণ জানতে চাই। কারণ না বলা পর্যন্ত আমরা গোলচত্ত্বর থেকে নড়ব না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমাদের কে প্রশাসনের পরিবর্তে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজনকে দিয়ে দাওয়ায় দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক ড. মো এছাক মিয়া বলেন, আজকের প্রোগামের আয়োজক ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। সমন্নয়ক পবন শুধুমাত্র শহীদ পরিবারকে স্টেজে কথা বলার আমন্ত্রণ জানাই যেহেতু সে তাদের সাথে যোগাযোগের কাজ করেছিল। আর খাবারের দায়িত্ব ছাত্রদেরকে দেই। আমি যেহতু ছাত্রদের সাথে সম্পর্কিত সেহেতু আমি কিছু ছাত্রদের নিয়ে কাজ করে নিয়েছি। কিন্তু ফান্ডিং সহ সব খরচও আমার অফিস থেকে হচ্ছে এবং আমি তাদেরকে দিয়ে খরচ করিয়ে নিয়েছি।




