দিনে দেবরের বিয়ে আর আগের রাতেই ভাবির মৃত্যু ; হৃদয়বিধারক দৃশ্যের অবতারণা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ আগস্ট ২০২৫, ৭:৪১:৫৮ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : রাত পোহালেই বর সবাইকে নিয়ে কনেকে আনতে যাবেন। বরের হাতে মেহেদিও পরানো হয়ে গেছে। রাত তখন ৩টা বাজে। হঠাৎ পুরো পরিবেশ বদলে যায়। বরের ভাবি আয়েশা বেগম (৪০) হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। আয়েশা বেগম ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। আজ বুধবার (৬ আগস্ট) সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা ছিল। মায়ের সঙ্গে গর্ভে থাকা সেই সন্তানও মারা গেছে। মুহূর্তেই বিয়েবাড়িতে বিষাদ নেমে আসে। কান্না আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
গতকাল মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পতনঊষার ইউনিয়নের ধুপাটিলা গ্রামে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে।
মৃত আয়েশা বেগম উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের আরব-আমিরাত প্রবাসী লাল মিয়ার স্ত্রী। আয়েশা বেগম তিন সন্তানের মা। আজ তাঁর চতুর্থ সন্তান পৃথিবীতে আসার কথা ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের ধুপাটিলা গ্রামের প্রবাসী যুবক আনসার মিয়ার বিয়ের দিন ছিল আজ। বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে গতকাল রাতে সবাই আনন্দ উৎসবে মেতে ছিলেন। এর মধ্যে রাতে বড় ভাই লাল মিয়ার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আয়েশা বেগমের শরীরে অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক শর্ট লাগে। এর কিছুক্ষণ পর তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়। পরিবারের সদস্যরা মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক আয়েশা বেগম ও তাঁর গর্ভের সন্তানকে মৃত ঘোষণা করেন। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার পর বিয়ের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিয়েবাড়িতে চারদিকে সাজসজ্জা। কিন্তু সেখানে শোকের পরিবেশ। বর-কনেকে আনার প্রস্তুতি বাদ দিয়ে লাশ দাফন কাফনের ব্যবস্থা চলছে। পরিবার ও আত্মীয়স্বজন বিলাপ করেছেন।
এদিকে স্ত্রী ও গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রবাস থেকে স্বামী লাল মিয়া দেশে আসছেন। দেশে আসার পর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফটিকুল ইসলাম রাজু বলেন, ঘটনার পর বিয়ের সব কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। দাফনকাজ সম্পন্ন শেষে হয়তো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হবে।
আয়েশা বেগমের চাচা শ্বশুর ইসমাইল মিয়া বলেন, আমরা কী বলব কোনো ভাষা নেই। আয়েশা বেগমের স্বামী দেশে আসার পর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।




