রাতেও দিনে যৌথ বাহিনীর অভিযান ॥ ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার
লুটের পাথরবাহী ৭০ ট্রাক জব্দ, ফেলা হচ্ছে সাদাপাথর এলাকায়
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ আগস্ট ২০২৫, ৩:১৪:১৮ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথরে অবৈধভাবে পাথর লুট ও পাচারের বিরুদ্ধে গত বুধবার রাত থেকে শুরু করে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩০টি গাড়ি তল্লাশি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭০টি ট্রাকে থাকা বিপুল রমান পাথর উদ্ধার করে নদীতে পুনরায় ফেলার প্রক্রিয়া চলছে। সবমিলিয়ে ৫২ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়েছে বলে প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপিপন্থি স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যানকে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এর আগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সদস্যসহ সকল ধরনের পদ পদবী স্থগিত করে কেন্দ্র।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ জানিয়েছেন, যারা এই অবৈধ কাজে জড়িত, তাদের গ্রেফতারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পর্যটন স্পট সাদা পাথর এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত পাথরের বড় অংশ ধলাই নদীতে পুনরায় ফেলে দেওয়ার কাজ চলছে, যাতে নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায়। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই পাথর লুটের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্যও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সাদাপাথর এলাকায় প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পাচার করে আসছে। সম্প্রতি এই লুটপাটের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে ধলাই নদীর তীরবর্তী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে উত্তোলিত সব পাথর উদ্ধার ও জড়িতদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত অভিযান চলবে।
অভিযান প্রসঙ্গে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার মিতা বলেন, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন, মজুত বা পাচারে জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। চেকপোস্টে গতরাত থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১৩০টি গাড়ি তল্লাশি করা হয়। এ সময় প্রায় ৭০টি গাড়িতে সাদাপাথর এলাকার পাথর শনাক্ত হলে সেগুলো পুনরায় প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাকগুলোও জব্দ রয়েছে।
অন্যদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ সাদা পাথর এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বলেন, যারা এই অবৈধ কাজে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা আশা করছি, শিগগিরই যেগুলো চুরি হয়ে গিয়েছিল সেগুলোকে পুনরুদ্ধার করে এখানে আবার প্রতিস্থাপন করতে পারব। এটা একটি সময় সাপেক্ষ বিষয় আমরা সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি।
এছাড়া, এখানকার যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে ; সেই ক্ষতি যেন আর কেউ করতে না পারে এবং যারা এই কাজে জড়িত ছিল তাদের গ্রেপ্তারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেব এবং আইন যেভাবে আমাদের পারমিট করে সেভাবে আমরা তাদেরকে ধ্বংস করাসহ অন্যন্য যে প্রক্রিয়া আছে সেগুলো আমরা করব।
অপরদিকে, সাদাপাথর থেকে পাথর লুটের ঘটনায় পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান।
তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থেকে পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুন্নাহার বলেন, বুধবার রাতে ৬ সদস্যদের একটি দল যৌথবাহিনীর সহায়তায় বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করে ফের পর্যটন কেন্দ্র সাদা পাথরসহ ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার(মিডিয়া) সাইফুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযানে অংশ নিচ্ছে। জব্দ ট্রাকগুলোর পাথর চেক করে-যেগুলোতে সাদা পাথর পাওয়া যাচ্ছে-সেসব ট্রাক জব্দ করা হচ্ছে।




