এবার জৈন্তাপুরের রাংপানিতে পাথর লুট
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ আগস্ট ২০২৫, ৭:০৫:২১ অপরাহ্ন
লবীব আহমদ :
সাদাপাথর, জাফলং, বিছনাকান্দির পর এবার লুটপাটে অস্তিত্ব হারানোর পথে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার রাংপানি। যেটা ৮০-৯০ দশকে শ্রীপুর নামে পরিচিত ছিল। সেখানে হয়েছিল সালমান শাহসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় নায়কের সিনেমার শুটিং। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত আকর্ষণীয় এই পর্যটন স্পট বিরাণভূমিতে পরিণত হতে চলেছে অবাধে পাথর লুটপাটের কারণে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেটের বেশিরভাগ পর্যটন কেন্দ্রই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। সেখানের প্রধান সৌন্দর্যই সীমান্তবর্তী এলাকায় পাথরের মধ্যে ছড়ার পানির মিতালী। সাদাপাথর, জাফলং ও বিছনাকান্দির মতোই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রাংপানিতে। যার কারণে এটার প্রতিও পর্যটকদের আকর্ষণ বেশি। এই রাংপানি নামকরণটা হয়েছে রাংপানি নদীর নামে। ৮০-৯০ এর দশকে এই রাংপানিতে গিয়ে বাংলা সিনেমার শুটিং হতো। ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় সেই সৌন্দর্য। এই রাংপানিতে সহজে যাওয়া যায় না। যেতে হলে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে যেতে হয়। না হলে পড়তে হয় জবাবদিহিতে। অথচ বিজিবির সামনেই রাংপানিতে চলে পাথর লুট। রাংপানিতে শেখ হাসিনার পতনের কয়েক বছর আগে থেকেই চলছে পাথর লুট। প্রতিদিনই অবাধে প্রকাশ্য লুট চলে এই পাথর। দেখার যেন কেউ নেই। লুণ্ঠনকারীরা বেপরোয়া হওয়ায় মানুষজন বাধা দিতে যায় না। কোনো সাংবাদিক সেখানে গিয়ে ছবি বা ভিডিও করতে চাইলে তাদের দিকে দা নিয়ে তেড়ে আসা হয়।
গতকাল রোববারও সিলেটের সাংবাদিকরা সেখানে নিউজ ও ভিডিও করতে গেলে দা নিয়ে তাদের দিকে তেড়ে আসে পাথর লুণ্ঠনকারীরা। তবে স্থানীয়দের বাধার কারণে আক্রমণ করার সাহস পায়নি। রাংপানিতে অবাধে পাথর লুটের কারণে সেখানে হয়েছে বেশ বড় বড় গর্ত। দীর্ঘদিন ধরে অবাধে লুটপাট হলেও প্রশাসন যেন দেখেও না দেখার ভান করছে। মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বন্ধ হচ্ছে না এই লুট।
স্থানীয়রা জানান, রাংপানিতে শুরু থেকেই লুটপাট হচ্ছে। জিরো পয়েন্ট হওয়ায় সেখানে বিজিবি পর্যটকদের যেতে দেয় না। আর এই সুযোগেই বিজিবির সামনেই লুট হয় পাথর। রাংপানির পাথর আগে আওয়ামীলীগের নেতাদের সমন্বয়ে লুট হতো। আর এখন ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের ২ নেতার নেতৃত্বে চলে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। যারা কিনা পুলিশ-বিজিবির নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা তুলেন। এই পাথর লুট করে নিয়ে রাখা হয় রাংপানি ক্যাপটেন রশিদ স্কুল এন্ড কলেজের পেছনে। সেখান থেকে ট্রাকে করে শহর সহ সারাদেশে পাথর নিয়ে যাওয়া হয় নির্বিঘ্নে।
এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা আক্তার লাবনী গণমাধ্যমকে জানান, অতীতে আমরা এখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। এখন প্রতিদিনই বিভিন্ন স্পটে স্পটে আমরা অভিযান পরিচালনা করতেছি। ওই স্পটটাতে খুব শীঘ্রই অভিযানে যাবো ইনশাআল্লাহ।




