সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায় মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের তদন্ত কমিটির গণশুনানি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ৮:০৯:২৩ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র ও রেলওয়ে বাংকার এলাকায় অবৈধভাবে বালু-পাথর লুটপাটের ঘটনায় গণশুনানির আয়োজন করেছে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি। আজ বুধবার সকালে সিলেট সার্কিট হাউসে এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও মন্ত্রীপরিষদ সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) জাহেদা পারভীন। এতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি, ট্রাক পরিবহন মালিক সমিতি, পাথর ব্যবসায়ী সমিতি ও প্রেসক্লাব নেতারাও বক্তব্য প্রদান করেন।
এসময় মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ঘটনায় কোনো কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না সেটি নিরূপণ করা এবং উল্লিখিত ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে সুপারিশপূর্বক আমরা রিপোর্ট দাখিল করবো, এই দায়িত্ব আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে আমাদের কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে, আমি সেই কমিটির আহবায়ক। গতকাল আমরা সেই স্পটে গিয়েছি, অনেক ধরনের জনগণের সাথে কথা বলেছি। আজকে জেলা পর্যায়ে সরকারি, বেসরকারি, বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের সাথে আমরা সেপারেট সেপারেট কথা বলেছি। তদন্ত চলমান রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে, সেটি শেষ হলে আমরা যখন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করবো সেটি কিন্তু ওপেন ফর অল হবে, তখন জানতে পারবেন।
আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আপনি কি আমার কাছ থেকে শিরোনাম শুনতে চাচ্ছেন? আমাদের বাংলা ভাষায় অনেক শব্দ পাওয়া যায়। আপনি লুট এবং হরিলুট বলেছেন, আমি কোনোটারই কথা বলবো না। আমি যখন রিপোর্ট করবো, খুব কেয়ারফুলি শব্দ চয়ন করবো। কারো প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী আমি শব্দ চয়ন করবো না।
এবিষয়ে গণশুনানিতে থাকা এক পরিবেশবিদ জানান, আমাদের সবাইকে প্রথমে জানানো হয় মতবিনিময় হবে। পরে দেখা যায় ভিজ্যুয়ালি একেকজনের সাথে কথা বলেন তদন্ত কমিটি। এটা আগে জানালে তো আরো ভালো হতো। তথ্যপ্রমাণাদি সহ আমরা উপস্থিত থাকতে পারতাম।
এর আগে মঙ্গলবার এই কমিটি সরেজমিনে ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকা পরিদর্শন করে।
শুনানিতে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো একাধিক সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে, অবৈধ পাথর উত্তোলনের পরিবেশগত প্রভাব যাচাই, সব পক্ষকে নিয়ে বিশেষায়িত মনিটরিং কমিটি গঠন এবং প্রভাবশালী যাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা। পাথর লুটপাটে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, দায় এড়াতে বিভিন্ন মহলের একে অপরকে দোষারোপ ও দীর্ঘদিন ধরে চলমান অনিয়মের বিষয়টি গণশুনানিতে বারবার উঠে আসে। তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকল তথ্য ও বক্তব্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া হবে।




