দিনভর ব্যাটারি চালিত রিকশা মালিক-শ্রমিকদের তান্ডব
নগর ভবনে হামলার চেষ্টা, গাড়ি ভাঙচুর-ইটপাটকেল নিক্ষেপ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৫০:০৬ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট নগরীতে অবৈধ যানবাহন ব্যাটারি চালিত রিকশা চলাচলের পক্ষে আন্দোলনে নেমেছে অবৈধ ব্যাটারি চালিত রিকশার মালিক-শ্রমিকরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর রীতিমত নগরীতে তান্ডব চালিয়েছে তারা।
সিলেট ব্যাটারি চালিত রিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে গাড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগ রয়েছে। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিও দেয় আন্দোলনকারীরা। অন্যদিকে, অবৈধ ব্যাটারি চালিত রিকশা মালিক শ্রমিকদের ব্যানারে এই আন্দোলন নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ জনসাধারণ। আগামী দিনে এরকম কর্মসূচি নিয়ে নামলে বড় ধরণের বিশৃংখলার আশংকা করা হচ্ছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ(এসএমপি) গত তিন দিন ধরে অবৈধ ব্যাটারি চালিত রিকশার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। একই সঙ্গে এসব ব্যাটারি চালিত রিকশার চার্জ পয়েন্টের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বুধবার সর্বশেষ অভিযানের তৃতীয় দিনে ৬৯টি যানবাহন আটক করা হয়। এর মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা ছিল ৪৪টি। কাগজপত্র না থাকায় ৩১টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়। আটক যানবাহনের মধ্যে ছিল-সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, পিকআপ, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি।
চলমান অভিযান ঠেকাতে গত কয়েকদিন ধরেই ব্যাটারি চালিত রিকশার মালিক-শ্রমিক একজোট হয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এরই অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে জড়ো হতে থাকে অবৈধ এই যানবাহনের মালিক ও শ্রমিকরা। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মালিক ও শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে নগরীর চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থান নেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা সড়কে বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে আটক রিকশা ফেরত ও সকল সড়কে অবাধে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালানোর অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে স্লোগান দেয়। এসময় নয়াসড়কগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করে এবং যাত্রীর গায়েও হাত তুলে মারধর করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনকারীরা দুপুর ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে জিন্দাবাজার হয়ে কোর্ট পয়েন্ট গিয়ে অবস্থান নেয়। এসময় রিকশা শ্রমিকরা নগর ভবন লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়ে। তখন পুরো নগর জুড়ে থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রিকশাচালকদের একাংশ মিছিল সহকারে কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করেন। একই সময় সিটি করপোরেশনের গেইটে ভাঙচুর করেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিক ও মালিকরা ফের মিছিল নিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। সেখানে আন্দোলনকারীরা আটক রিকশা ফেরত, নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান ও সকল সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের দাবি জানান। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক সুবর্ণা সরকারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের শান্ত করার চেষ্টা চালান। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। এসময় রিকশা শ্রমিক-মালিকদের উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক অফিসে নেই। একটি জরুরি কাজে তিনি বাইরে আছেন। ইতোমধ্যে আপনাদের দাবির বিষয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে আরও আলোচনা হবে। আশা করি, বিষয়টির সন্তোষজনক সমাধান হবে।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) পদ্মাসন সিংহ স্মারকলিপি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাটারি চালিত রিকশার শ্রমিক-মালিকদের একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, গতকাল অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। রিকশাচালক ও বিভিন্ন সংগঠনের দাবিগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে অভিযান স্থগিত করা হয়নি। অভিযান চলমান থাকবে। তিনি বলেন, রিকশাচালকরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তবে বিশৃংখলা ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে ছিলো পুলিশ।
এদিকে, যানবাহন ভাংচুরের প্রতিবাদে সিলেট জেলা পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাটারিচালিক রিক্সা মালিক ও চালকদের তান্ডবের নিন্দা জানানো হয়েছে।




