আওয়ামীলীগ নেতা আলতাফের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ স্থগিত, দায়িত্বে প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৮:৩৭:২১ অপরাহ্ন
বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি : সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ৭নং মাথিউরা ইউনিয়নে রিট করে চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসা মেম্বার আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ হোসেনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। একইসাথে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বাংলাদেশ সচিবালয়ের আপীলের প্রেক্ষিতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এই আদেশ দেন। সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল নং ৩১৪৫ অব ২০২৫ এর আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে সেই আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ হোসেন মেম্বারকে।
এর আগে গত ৮ জুলাই আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ হোসেন হাইকোর্টে রিট করেন। এর প্রেক্ষিতে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে আদেশ ছাড়া দায়িত্ব পালন শুরু করেন। এর জের ধরে রাষ্ট্র পক্ষ স্থগিতাদেশ চেয়ে চেম্বার জজে আবেদন করলেও চেম্বার জজ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ২৫ সেপ্টেম্বর শুনানী শেষে আদালত বলেছে: হাইকোর্ট ডিভিশন কর্তৃক গত ৮ জুলাই রিট পিটিশন নং ৯৮৯৯ অব ২০২৫ এ প্রদত্ত অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশের কার্যকারিতা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। রুলটি যেন হাইকোর্ট ডিভিশনের যথাযথ বেঞ্চ কর্তৃক যত দ্রুত সম্ভব শুনানি শেষে নিষ্পত্তি করা হয়। অবিলম্বে এই আদেশ কাযকারি করার জন্য চেম্বার জজ নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, গত ১৯ মে ২০২৫ সালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমান উদ্দিনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। পরদিন ২১ মে সকালে আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ হোসেন জোর করে চেয়ারম্যানের বন্ধ কার্যালয়ের তালা ভেঙ্গে চেয়ারে বসে কার্যক্রম শুরু করেন এবং নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে ঘোষণা করেন। এরই জেরে মাথিউরা ইউনিয়নের জনগন পরদিন ২৩ মে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ।
মেম্বারদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি নষ্ট ও জোরপূবক চেয়ারম্যানের চেয়ার বসার বিষয়টি সত্যতা পেলে তার ভাই বিএনপি নেতা ছরওয়ার হোসেন প্রভাবে প্রশাসন শাস্তি দেয়নি আলতাফকে।
তবে আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ হোসেন পাঁচবারের মেম্বার জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মিছিলে নেতৃত্বে দিয়েছেন এবং আওয়ামী লীগের আমলে তিনি নিরীহ মানুষদের হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। শুধু আলতাফ মেম্বার নয়, তার ছেলে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সহ সভাপতি তৌহিদ হোসেন শাওনের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে বিয়ানীবাজার উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুল করিম তাজুল বাদী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ হোসেন ও তার পুত্র ছাত্রলীগ নেতা তৌহিদ হোসেন শাওনের বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। জুলাই বিপ্লবের পরে মাথিউরার সুহাদা বেগম নামে এক নারী বাদী হয়ে আরও একটি মামলা দায়ের করলেও উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি ছরওয়ার হোসেনের প্রভাবে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেনি।
আপিল বিভাগের আদেশের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ হোসেন জানান, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। আমি মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি।’
এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম মুস্তফা মুন্না জানান, আপিল বিভাগের আদেশের বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। তবে অফিসিয়াল ডকুমেন্টস এখনো আমাদের কাছে আসেনি।




