যৌন নিপীড়নের ভিডিও ভাইরাল : অবশেষে বালাগঞ্জে আটক কানাইঘাটের শরিফ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৯:২০:৩৬ অপরাহ্ন
কানাইঘাট (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : সিলেটের কানাইঘাটে যৌন নিপীড়নের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে পলাতক ছিলেন অভিযুক্ত মাওলানা শরিফ উদ্দিন শরিফ। অবশেষে তাকে বালাগঞ্জ উপজেলার পৈলনপুর এলাকা থেকে আটক করেছে পুলিশ। তার মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
জানা যায়, ২০২২ সালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের একটি গ্রামের মসজিদে মক্তব পড়াতেন মাওলানা শরিফ উদ্দিন শরিফ। পরে একদিন তিনি ওই মসজিদের ১০ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে তার রুমে ঝাড়ু দেওয়া জন্য ডাক দেন। পরে সে সেখানে গেলে তাকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন। এই ভিডিও বুধবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শরিফ উদ্দিন শরিফ পলাতক ছিলেন। পরে পুলিশ তাকে আটকে অভিযান চালায়। পরে বৃহস্পতিবার শরিফ উদ্দিনকে বালাগঞ্জ উপজেলার পৈলনপুর থেকে আটক করে বালাগঞ্জ থানা পুলিশ।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল জানান, ভিডিওতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের দৃশ্য ধরা পড়েছে। সেটি ২০২২ সালে গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দিরগাও ইউনিয়নের মানাউরা গ্রামের একটি মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মৌলভী শরিফ উদ্দিন মানাউরা জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন। ভিডিওর শিশুটি ওই গ্রামের বাসিন্দা। শরিফ উদ্দিনের ব্যবহৃত মোবাইল জব্দ করা হয়েছে।
এর আগে এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে শরিফ উদ্দিনের সিঙ্গারীপাড়ের বাড়িতে অভিযান চালায় কানাইঘাট থানা পুলিশ। পরে হরিপুর ও বালাগঞ্জে তার অবস্থান পাওয়া গেলেও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বালাগাঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় শরিফ উদ্দিনকে বালাগঞ্জ উপজেলার পৈলনপুর থেকে আটক করা হয়। বর্তমানে সে বালাগঞ্জ থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, তাকে আটকের পরে গোয়াইনঘাট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। ওই ভিকটিমের মাবাবা থানায় আসছেন অভিযোগ করার জন্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শরিফ উদ্দিনের বাড়ি কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সিঙ্গাড়ীপাড় গ্রামে। এলাকার লোকজন জানান, ২ বছর থেকে সে বাড়িতে আসে না এবং বাড়িতে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের কোন ধরনের খোঁজ-খবর রাখেনি।




