সিলেট সদরের মাসুকবাজার এলাকার পাকা সড়ক খানাখন্দে ভরা ॥ দুর্ভোগ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১০ নভেম্বর ২০২৫, ৭:১০:৪০ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের মাসুকবাজার এলাকার পাকা সড়কটি খানাখন্দে ভরা। সড়কটি মেরামত না করায় বাসিন্দাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
এদিকে, সড়ক ভোগান্তির সমাধান না হওয়ায় স্থানীয় লোকজন হতাশ ও ক্ষুদ্ধ। কান্দিগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মনাফ জানান, উপজেলার সমন্বয় সভাসহ প্রশাসনের প্রতিটি মিটিংয়ে ওই সড়ক সংস্কারের বিষয়টি উত্তাপন করলেও শুধু আশ্বাস মিলছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরেজমিন দেখা গেছে, মাসুকবাজার সংলগ্ন সেতুর আধা কিলোমিটার আগে তাজপুর থেকেই সড়কের কোথাও পিচ নেই। সড়কে ইটের খোয়া বেরিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। চলাচলের অনুপযোগী কাইমগঞ্জ-বাওনপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা। খানাখন্দ আর ভাঙা রাস্তার কারণে চলাচল করা দায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাকা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করলেও সড়ক সংস্কার না হওয়ায় তাদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ স্কুল ও মাদ্রসাগামী শিক্ষার্থীরা বেশী দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। খানাখন্দের কারণে এ সড়কে চলতে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। রোগী ও শিক্ষার্থীদের বেশি কষ্ট হচ্ছে। গর্ভবতী নারীদের নিয়ে এ সড়কে চলা দায় বলেও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
পশ্চিম দর্শার হাতিম চৌধুরী ইসলামিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার দাতা সদস্য ও বিশিষ্ট সমাজসেবী বেলালুজ্জামান চৌধুরী জানান, কয়েক বছর আগে সড়কটি সংস্কার করা হয়েছিল। ২০২২ সালের বন্যায় এ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হলেও সংস্কার না হওয়ায় এখন চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর স্বার্থে দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানান তিনি।
ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারীরা জানান, কবে যে সড়কটি সংস্কার করা হয়েছিল তা ভুলে গেছি। কেন সড়কটি মেরামত বা সংস্কার করা হয় না, জানি না। আমাদের কষ্ট কেউ বুঝে না।
অটোচালক নান্নু মিয়া বলেন, আমাদের বিকল্প কোনো সড়ক নেই। তাই বাধ্য হয়ে এত খারাপ সড়ক দিয়ে চলতে হয়। যদি পাঁচ কিলোমিটার ঘুরেও যেতে হতো তবু এ সড়ক দিয়ে চলতাম না।
কান্দিগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মনাফ আরো জানান, এই সড়ক সংস্কার করতে মাঝে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলেও কয়েকদিনের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সভায় তিনি তুলে ধরলেও প্রতিকার পাননি। আজ সোমবার এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে সড়ক সংস্কারের বিষয়টি উত্তাপন করবেন বলেও জানান তিনি।
সিলেট সদর উপজেলার প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান জানান, সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদী।




