পাথারিয়া চা বাগানে অপার সৌন্দর্যের বেকি লেক
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ৯:৩৬:৩০ অপরাহ্ন
আফজাল হোসেন রুমেল :
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের পাথারিয়া চা বাগান বেকি লেক দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে এখনো অজানা। পাথারিয়া চা বাগান বড়লেখা উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী চা বাগান। এই বাগানের বুকে বেকি লেকটি যেন প্রকৃতির এক রত্ন। চারদিকে বিস্তীর্ণ চা গাছের সারি, পাখির কুজন, বানরের খেলা, আর লেকের উপর ভেসে থাকা শাপলা ফুলে সজ্জিত এক অপার্থিব দৃশ্যপট, প্রতি মুহূর্তে থাকে পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে। প্রায় ২৭ একর জমিতে বিস্তৃত এই লেকের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এটিকে বিশেষ করে তুলেছে। পানিতে ফুটে থাকা সাদা ও লাল শাপলা ফুল এই লেকের প্রধান আকর্ষণ।
শীত মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের অতিথি পাখির আগমন দেখা যায়। পাশাপাশি বক, হাসপাখি, সারসসহ কিছু বিরল প্রজাতির পাখির আনাগোনা থাকে বছরজুড়ে, যা পাখিপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আনন্দের বিষয়। এছাড়াও আশপাশে রয়েছে চা শ্রমিকদের জীবনধারার চিত্র, যা পর্যটকদের কাছে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেবে। কিন্তু এমন অপার সৌন্দর্যের এই লীলাভূমিতে পর্যটক না আসার কারণ জানতে চাইলে পাথারিয়া চা বাগানের বাসিন্দা ও চা শ্রমিকরা বলেন, ‘এই লেকটা অনেক পুরনো। আগে শুধু আমরাই যেতাম, এখন বাইরে থেকে টুকটাক লোকজনও আসেন। আমরা চাই সরকার বা স্থানীয় প্রশাসন একটু উদ্যোগ নিক। তাহলে এখানে অনেক পর্যটক আসবে।’
স্থানীয় যুবক এমরান আহমদ বলেন, ‘এই এলাকায় অনেক সুন্দর জায়গা আছে, কিন্তু প্রচারের অভাবে কেউ জানে না। যদি এই বেকি লেককে ঘিরে কিছু উন্নয়ন হয়, তাহলে বড়লেখার নাম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।’
নিউ সমনবাগ চা বাগানের ব্যবস্থাপক শাহিদ নেওয়াজ বলেন, বেকি লেককে যদি একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে তা আমাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন চাঙ্গা হবে, তেমনি কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
বেকি লেক কেন্দ্রিক পর্যটনের সম্ভাবনা অনেক। এখান থেকে গড়ে তোলা যেতে পারে একটি সংরক্ষিত পর্যটন এলাকা, যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করে পর্যটন পরিচালনা করা যাবে। এখানে নির্মাণ করা যেতে পারে একটি ছোট দর্শন টাওয়ার, যাতে পর্যটকরা লেক ও চা বাগান একসাথে উপভোগ করতে পারেন। তৈরি হতে পারে নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা, যাতে পর্যটকরা শাপলা ফুলের মাঝে ঘুরে দেখতে পারেন লেকের সৌন্দর্য। এছাড়া আশপাশের এলাকায় গড়ে তোলা যেতে পারে স্থানীয় হস্তশিল্পের দোকান, খাদ্যকেন্দ্র এবং পর্যটকদের জন্য বিশ্রামাগার। এতে স্থানীয় জনগণের আয়ের পথ সৃষ্টি হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে। স্থানীয় তরুণরা গাইড হিসেবে কাজ করতে পারবে, গড়ে উঠতে পারে ছোট ছোট উদ্যোগ, যা বৃহৎ অর্থনৈতিক গতিশীলতা সৃষ্টি করবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সরাসরি বাসযোগে বড়লেখায় যাওয়া যায়। ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর অথবা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে কুলাউড়া স্টেশনে নেমে যেতে হবে। সিলেট থেকে যাত্রা করলে, সকালে কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনে কুলাউড়া স্টেশনে পৌঁছানো যায়। কুলাউড়া থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা ভাড়াকৃত গাড়িতে করে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ বাজারে যেতে হবে। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৬০ টাকা। সেখান থেকে অটোরিকশায় সমনবাগ চা বাগান পেরিয়ে পৌঁছাতে হবে পাথারিয়া চা বাগানের লেকে। তাছাড়াও লেকটিতে পৌঁছাতে আরো কিছু রাস্তা অনুসরণ করতে পারেন। তা হলো দক্ষিণভাগ থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রশিদাবাদ চা বাগানে যেতে হবে তারপর স্থানীয়দের সহযোগিতায়া কিছু পথ এগিয়ে গেলে পৌঁছে যাবেন আপনার গন্তব্য।
লেখক : স্থানীয় সাংবাদিক।



