হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সুনামগঞ্জে তিন শহীদ পরিবারের সন্তোষ প্রকাশ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ২:৫৯:৫১ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে সুনামগঞ্জের তিন শহীদ পরিবারের স্বজন। রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ গোলামীপুরের সোহাগের ভাই বিল্লা হোসেন।
তিনি বলেন, আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আমরা আমাদের এক ভাইকে হারিয়েছি। আরেক ভাই এখনো আহত রয়েছে। আমি নিজেও ভাই হত্যার বিচার চেয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। আন্তর্জাতিক ট্র্রাইব্যুনালে যে রায় হয়েছে আমি এবং আমার পরিবার সন্তুষ্ট। আমরা এই রায়ের কার্যকর দেখতে চাই। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে বিজয় মিছিল বের হয়। রাজধানী ঢাকার বাড্ডা এলাকায় সেই মিছিলে যোগ দেন গোলামীপুর গ্রামের মো. সোহাগ মিয়া (২৩) ও তার ছোট ভাই শুভ মিয়া (২১)। পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান সোহাগ। একই দিন বড় ভাইয়ের সাথে মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন জেলার মধ্যনগর উপজেলার জলুষা গ্রামের মাদ্রাসা ছাত্র আয়াতুল্লাহ। গাজীপুরের শফিপুরে অবস্থিত আনসার ভিডিপি একাডেমির সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মো. আয়াতুল্লাহ। রায়ের সন্তুষ্টি প্রকাশ করে শহীদ আয়াত্ল্লুা’র বাবা সিরাজুল ইসলাম মুঠোফোনে স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, আমি জানি সন্তান হারানোর ব্যথা কাকে বলে। হাসিনার কারণে আমার মতো হাজারো বাবা সন্তান হারা হয়েছেন। এই রায়ে আমি অনেক খুশি। আমি জীবদ্দশায় এই রায়ের বাস্তবায়ন দেখে যেতে চাই। আয়াত্ল্লুা’র বড় ভাই সোহাগ মিয়া বলেন, আমার সামনে গুলি করে আমার ছোট ভাইকে হত্যা করা হয়েছিল। হত্যা করে তার লাশ গুম করা হয়েছিলো। শেখ হাসিনা পলায়নের ১১ দিন পর আমার ভাইকে গ্রামে এনে দাফন করি। আন্দোলনে যোগ দেয়ার কারণে আমি আমার ভাইকে হারিয়েছি। এই রায়ে আমি অনেক খুশি। রায়ের দ্রুত কার্যকর চাই। হাসিনার ফাঁসির রায়ের সন্তোষ প্রকাশ করে সুনামগঞ্জের প্রথম জুলাই শহীদ হৃদয়ের স্ত্রী শিরিনা আক্তার বলেন, আমার দুইটি শিশু সন্তান এখনো তাদের বাবার জন্য অপেক্ষা করে। বাবা বলে কান্না করে। আমি তাদের শান্ত্বনা দিতে পারি না। তবে এই রায় মনে শান্তি পাচ্ছি। যার কারণে স্বামী হারিয়েছি তার বিচার দেখতে চাই। ২০ জুলাই সন্ধ্যা ৬ টায় সিদ্ধিরগঞ্জে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে নিহত হন মোহাম্মদ হৃদয় মিয়া (২৭) হৃদয় সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের মো. ছফেদ আলি ও মনোয়ারা খাতুন দম্পতির প্রথম সন্তান।




