ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০, আহত সাড়ে চারশো
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২১ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১৫:০০ অপরাহ্ন
বিবিসি বাংলা : বাংলাদেশে শুক্রবারের ভূমিকম্পে মৃত্যের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। ঢাকায় চারজন, ভূমিকম্পে কেন্দ্রস্থল নরসিংদীতে পাঁচ জন এবং নারায়ণগঞ্জে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ পর্যন্ত সাড়ে চারশোর বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর পেয়েছেন বলে সন্ধ্যায় বিবিসি বাংলাকে জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের পরিচালক নিতাই চন্দ্র দে সরকার।
ঢাকায় চারজনের মৃত্যু :
শুক্রবার সকালের ভূমিকম্পে ঢাকায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে চার জন হয়েছে। ঢাকার জেলা প্রাশসক মো. রেজাউল করিমের বরাত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এই তথ্য জানায়।
মুগদা মদিনাবাগে নির্মাণাধীন ভবনের রেলিং ধসে পড়ে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী মাকসুদ (৫০) নিহত হয়েছেন এবং নিহতের বাড়ি লক্ষীপুর জেলার রামগতি উপজেলায়।
এর আগে পুলিশ জানায়, ভূমিকম্পের সময় পুরান ঢাকার আরমানিটোলার কসাইটুলি এলাকার একটি আটতলা ভবনের পাশের দেয়াল এবং কার্নিশ থেকে ইট ও পলেস্তরা নিচে খসে পড়ে।
এসময় ভবনের নিচে থাকা একটি গরুর মাংসের দোকানে থাকা ক্রেতা ও পথচারীরা আহত হন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন তাদের মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত সাড়ে চারশোর বেশি :
ভূমিকম্পে তিন জেলায় সাড়ে চারশোর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলেও জানা গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় অধিদপ্তরের পরিবীক্ষণ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের পরিচালক নিতাই চন্দ্র দে সরকার বিবিসি বাংলাকে বলেন, ভূমিকম্পের ঘটনায় নরসিংদীতে চার জন, ঢাকায় তিনজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ৪৬১ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
এর মধ্যে গাজীপুর জেলায় ২৫২ জন আহত হয়েছেন এবং একক জেলা বিবেচনায় এই সংখ্যা সব থেকে বেশি বলেও তিনি জানান।
মি. সরকার বলেন, “এই মুহূর্তে হতাহত এবং ক্ষতিক্ষতি নিরূপন করাই আমাদের প্রধান কাজ। ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার বা ডেবরিস ম্যানেজমেন্টের চ্যালেঞ্জটা আমরা এখনো ওই মাত্রায় দেখছি না”।
উৎপত্তিস্থল নরসিংদী জেলায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে :
এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদী জেলায় ৫ জনের মৃত্যু এবং শতাধিক ব্যক্তির আহত হওয়ার খবর জানা গেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নরসিংদী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তার বরাত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
ওই বার্তায় বলা হয়েছে, সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলি এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল নিচে পড়ে চারজন জন আহত হন।
গুরুতর অবস্থায় দুই জনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাফেজ ওমর নামে আট বছরের এক শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাবা দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামে কাজেম আলী ভূইয়া নামে এক বৃদ্ধ মাটির ঘরের নিচে চাপা পড়ে আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। মারা গেছেন নাসিরউদ্দিন নামে একই উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামের আরো এক বাসিন্দা।
এছাড়া ভূমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় ফোরকান নামে এক ব্যক্তিরও মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসন বলছে, ভূ-কম্পনের সময় ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনে আগুন লাগলেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় ফায়ার সার্ভিস।
এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও সার্কিট হাউসহ শতাধিক ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে বলেও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
‘বড় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা’ :
“বড় ভূমিকম্প আসার আগে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয় এটি তার আগাম বার্তা,” এমনটা মনে করছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প গবেষক মেহেদি আহমেদ আনসারী।
মি. আনসারী বিবিসি বাংলাকে বলছেন, সাধারণত একশ থেকে দেড়শ বছর পরপর একটি অঞ্চলে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার শঙ্কা থাকে। বাংলাদেশ ও এর আশপাশের কাছাকাছি এলাকায় গত দেড়শ বছরে একটি বড় ও প্রায় পাঁচটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।
বাংলাদেশের আশপাশে সবশেষ বড় ভূমিকম্প সংগঠিত হয়েছিল প্রায় একশ বছর আগে। তাই আরেকটি বড় ভূমিকম্প কাছাকাছি সময়ে হতে পারে এমন শঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মি. আনসারী বলছেন, “বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন তৈরি করলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হবে এটিই স্বাভাবিক। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় শহরগুলোতে অপরিকল্পিতভাবে যে ভবনগুলো গড়ে তোলা হচ্ছে তাতে ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা বেড়েই চলেছে, বলেন তিনি।
আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে প্রথমে ভূকম্পন অনুভূত হয়। এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নরসিংদীর মাধবদী। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের মাত্রা ৫ দশমিক ৭। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বলছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৫ দশমিক ৫।




