ভূমিকম্প ঝুঁকিতে সুনামগঞ্জ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ৮:৫৯:৪৬ অপরাহ্ন
শহীদনূর আহমেদ, সুনামগঞ্জ থেকে ॥ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গতকাল শুক্রবার পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার কাছাকাছি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সারা দেশের মতো হাওরের জেলা সুনামগঞ্জেও ভূকম্পন অনূভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা পাঁচ দশমিক দুই।
ভূমিকম্পে কোথাও কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও জেলার তাহিরপুর উপজেলা ১নং উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন বালিয়াঘাট নতুন বাজারে ব্রিজের রাস্তায় ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নতুন বাজার এলাকার মোশাহিদ তালুকদার জানান, ভূমিকম্পে বালিয়াঘাট ব্রিজের রাস্তায় ফাটল দেখা দিয়েছে। তবে, এতে ব্রিজ বা রাস্তায় তেমন প্রভাব পড়েনি। সড়কে চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি। ব্রিজের সংযোগ সড়কের চির ফাটা দেখা দিলেও সেটি ভূমিকম্পের কারণে হয়েছে কিনা তা শতভাগ নিশ্চিত নয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। এ বিষয়ে সরজমিনে খোঁজ নিতে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন।
এদিকে, পর পর ভূমিকম্পে সুনামগঞ্জের জেলা জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ ও সিলেট এলাকায় মৃদু ভূ-কম্পন অনূভুত হয়। যার উৎপত্তিস্থল ছিলো সুনামগঞ্জের ছাতকে।
প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জ ভূমিকম্পের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। এটি ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের কাছে এবং বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত যা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ভূমিকম্প বলয় হিসেবে চিহ্নিত। শহরটির নির্দিষ্ট কিছু ওয়ার্ড, যেমন ২, ৪ এবং ৫নং ওয়ার্ডকে ভূমিকম্পের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ২০১৯ সালে চিহ্নিত করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ন্যাশনাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম। পৌরসভার অনুমোদন ছাড়া বিল্ডিং কোড না মেনে যত্রতত্র ভবন নির্মাণ, নিয়মনীতি না মেনে বহুতল ভবন নির্মাণ ও মাটির ধারণ ক্ষমতা পরীক্ষা না করে সনাতন পদ্ধতিতে বহুতল ভবন নির্মাণসহ একাধিক কারণে এই তিনটি ওয়ার্ডকে ভূমিকম্পে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এছাড়াও সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের নতুন বহুতল ভবন ঝুঁকিমুক্ত নয় বলে জানান বিশেষজ্ঞ।
পরিবেশ বিশ্লেষক সালেহীন চৌধুরী শুভ জানান, বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা হচ্ছে সিলেট সুনামগঞ্জ অঞ্চল। এটি ঝুঁকিপূর্ণ ডাউকী ফল্টের মধ্যে পড়েছে। ১৭৯৭ সালে এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প হয়। সুনামগঞ্জ জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো। এরপর আর বড় কোনো ভূমিকম্প না হওয়ায় আমাদের এই অঞ্চল ঝুঁকিতে রয়েছে। সুনামগঞ্জের মাটির তলদেশ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিল্ডিংকোড না মেনেই পৌরসভার অধিকাংশ বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়েছে। হাওর পুকুর ভরাট করে বহুতল ভবন করা হচ্ছে। শহরের রাস্তাগুলো প্রশস্ত নয়। তাই একটু বড় আকারের ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হবে। এখনো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এ নিয়ে কাজ করবে এটি আমাদের বিশ্বাস।
ভূমিকম্প প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে প্রতি উপজেলায় কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।



