বিয়ানীবাজারের করতি খালে ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ৪:৪৯:৩১ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক ॥ বিয়ানীবাজার উপজেলার ফুলমলিক -পাতন- চন্দগ্রাম রাস্তার করতি খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবিতে এবার আন্দোলনে নেমেছেন এলাকাবাসী। এই স্থানে সেতু নির্মাণ ও রাস্তাটি পাকাকরণের দাবিতে তাদের উদ্যোগে গতকাল শনিবার মানববন্ধনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের বাঙালি কমিউনিটির অন্যতম নেতা বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল ফাউন্ডেশন -এর সিইও এন্ড এমডি মোহাম্মদ সাব উদ্দিনের নেতৃত্বে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আহবাবুর রহমান শিশু, স্থানীয় ইউপি সদস্য গৌস উদ্দিন, আফতাব আহমেদ, মনিরুজ্জামান মনিরসহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আশরাফ উজ্জামান উপস্থিত থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রসঙ্গত, সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার পাতন-ফুলমলিক করতি খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে উপেক্ষিত হচ্ছে। এ অবস্থায় স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ এলাকার ২০ সহস্রাধিক লোকের দুর্ভোগ-ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ফুলমলিক-ঘাঘুয়া গ্রামে যাওয়ার একমাত্র যোগাযোগ সড়কটি পাতন-ফুলমলিক খালে বিভক্ত রয়েছে। সেতুর অভাবে এলাকাটি সব সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ ওই খালের ওপর গ্রামবাসী একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে কোনোভাবে খাল পারাপারের ব্যবস্থা করেছেন। শুকনো মৌসুমে এই সাঁকো ব্যবহার করা গেলেও ভরা বর্ষায় তীব্র স্রোতের কারণে প্রায়ই ভেঙে পড়ে সাঁকোটি। এলাকায় কেউ অসুস্থ হলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব।
তাছাড়া, এই সাঁকোটি বর্ষার সময় যখন তখন হেলে পড়ে। আকস্মিক পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়তে হয় মানুষকে। এ এলাকার আর্থিকভাবে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সরবরাহ কমে আসায় উদ্বিগ্ন চাষিরা। গ্রামবাসী জানান, কয়েক গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে ২০১৯ সালে চাঁদা তুলে দেড় লাখ টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হয় বাঁশের সাঁকোটি। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে গেলে গ্রামবাসী ছোট আকারে আরেকটি সাঁকো তৈরি করেন। ২০২৪ সালের বন্যায় আবারও সাঁকো ভেঙে গেলে বিপাকে পড়তে হয় স্থানীয়দের। বর্তমানে বাঁশের এই সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন এসব গ্রামের বাসিন্দারা। দুই গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি পাতন ও ফুলমলিক গ্রামকে বিভক্ত করেছে। গ্রামীণ জনপদকে বিভক্ত করা পাতন-ফুলমলিক খালের ওপর সেতু নির্মাণ করে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নিতে দায়িত্বশীলদের আহ্বান জানিয়েছেন গ্রামবাসী।
সূত্রমতে, তিন বছর আগে ভুক্তভোগী এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলের দুর্ভোগ দূর করতে দেশব্যাপী চলমান অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল উপজেলা প্রকৌশল অফিসের পক্ষ থেকে। ওই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চললেও প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মাণের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকৌশল অফিস জানান, ২০২২ সালে বন্যাপরবর্তী সময়ে উপজেলার আলীনগরের পাতন-ফুলমলিক খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছিল। অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার ব্রিজ প্রকল্পের আওতায় এ প্রস্তাব পাঠানো হয়।
এদিকে, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও যুক্তরাজ্যের বাঙালি কমিউনিটির বিশিষ্ট নেতা, বিয়ানীবাজার ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতাল ফাউন্ডেশনের সিইও এন্ড এমডি মোহাম্মদ সাব উদ্দিন সম্প্রতি সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে দ্রুত ওই স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। এদিকে, এলাকাবাসী এই স্থানে সড়ক নির্মাণে মোহাম্মদ সাব উদ্দিনকে আহবায়ক করে ১৮ (আঠারো) সদস্যের একটি সেতু নির্মাণ বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করেছেন।



