গণশুনানি
দুদকে শুধু দীর্ঘসূত্রতা নয়, দুর্নীতিও আছে, সিলেটে দুদক চেয়ারম্যান
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ২:২১:৫১ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘দুদকে শুধু দীর্ঘসূত্রতা নয়, দুর্নীতিও আছে। যারা সেবাদাতা তারা মূলত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। সরকারি যত প্রতিষ্ঠান আছে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের কিছু অভিযোগ আছে। অভিযোগ দেওয়া অব্যাহত থাকবে, আমরা চেষ্টা করে যাবো ক্রমাগতভাবে সে বিষয়গুলো সমাধান করার। আমরা নিয়মিত ভাবে ‘‘রেইড’’ করে যাচ্ছি। আমাদের এই হস্তক্ষেপে কিছুটা তো উপকার হচ্ছে।’
গতকাল রোববার দুপুরে নগরীর রিকাবীবাজারস্থ জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে সিলেটে দুদকের গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের একতা, গড়বে আগামীর শুদ্ধতা’ শীর্ষক এ গণশুনানির আয়োজন করে দুদকের সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সঞ্চালনায় গণশুনানিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। সিলেটের সাদা পাথর লুটের ঘটনায় দুদকের প্রাথমিক প্রতিবেদনে অনেক রাজনীতিবিদের নাম আসা ও তাদের অনেকেই নির্বাচনে প্রার্থিতার জন্য কাজ করছেন। এই প্রেক্ষাপটে দুদকের চূড়ান্ত প্রতিবেদন কবে নাগাদ প্রকাশিত হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক প্রতিবেদনের পরে অনুসন্ধান শুরু করি। এটাতো সত্য যে সাদাপাথর সেখানে ছিল না। পরবর্তীতে সময় ফিরে এসেছে। এটা সত্য। কাজেই এখানে যারা জড়িত তাদের নাম আপনারা আমাদের চেয়ে আরও বেশী করে জানেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে-আপনারা কি তাদের পার্লামেন্টে চান, নাকি চান না?’
এর আগে গতকাল রোববার সকালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আলমপুরে দুদকের বিভাগীয় কার্যালয়ের ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন দুদকের চেয়ারম্যান। ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থীদের দেশের সম্পদের পাশাপাশি বিদেশের সম্পদের হিসাব বিবরণী দিতে হবে। আমরা সম্পদের বিবরণী চাচ্ছি, সেখানে বিদেশি সম্পদের হিসাব না দিলে তা অন্যায় হবে। পাশাপাশি অনুপার্জিত সম্পদ যাদের থাকবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুদকের নানা সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দুদকে আমাদের সহকর্মীরা অনেক দুর্নীতির তথ্য চাপা দেয়, গণমাধ্যম তা করে না। দুদক বিচারকারী না। দুদকের দায়িত্ব মামলার তথ্য-উপাত্ত আদালতে উপস্থাপন করা। এর বিচার করবেন আদালত। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার কৃষি সম্পত্তি ছিলো ৫ দশমিক ২ একর, তবে আমরা অনুসন্ধান করে পাই ২৯ একর। শুরুতে সেই নমিনেশন বাতিল হওয়ার কথা কিন্তু তা বাতিল হয়নি। দুদক সেটি তদন্ত করে বের করলেও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
গণশুনানিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী এবং দুদকের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম। গণশুনানিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মু. মাসুদ রানা, সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।
বিশেষ অতিথি দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, ‘আমরা মনে করি দুর্নীতির যে প্রকোপ ঘটে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই তার অনেকাংশেই নিমূর্ল করা সম্ভব। তবে এটাই বাস্তবতা দুর্নীতি সম্পূর্ণভাবে নিমূর্ল করা সময়সাপেক্ষ বা আদৌ নিমূর্ল করা সম্ভব কিনা বলা মুশকিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘কোন কতৃর্পক্ষের অপরাধ তদেন্তর মাধ্যমে প্রমাণিত হলে আমরা আদালতের মাধ্যমে এর শাস্তি বিধানের চেষ্টা করি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে আমরা যখন জানতে পারি কোথাও দুর্নীতিমূলক কাজ হচ্ছে তখন আমরা এর প্রতিরোধে কাজ করি। আমরা প্রায় প্রতিটি জেলায় যাই, সেখানে সরাসরি নাগরিকবৃন্দের কাছ থেকে অভিযোগ শুনি এবং তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করি। আমরা নাগরিকবৃন্দের কাছ থেকে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেবার মান ও আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতি হচ্ছে কি-না সরাসরি জেনে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন পরামর্শ দিই যাতে নাগরিকের যে সমস্যাটি হচ্ছে তার যেন সমাধান করা হয়।
মোহাম্মদ খালেদ রহীম আরও বলেন, ‘প্রত্যেক মাসেই কোন না কোন জেলায় আমরা এরকম আয়োজন করে থাকি। এই বছর আমরা অন্ততপক্ষে আমরা ১ হাজারটি অভিযোগ পেয়েছি ; এর অনেকগুলোই নিষ্পত্তি হয়েছে বাকিগুলো চলমান রয়েছে।’



