প্রবাসী ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবো : মতবিনিময়কালে নবাগত পুলিশ সুপার
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২:০০:২৯ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : প্রবাসী ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেবার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন সিলেটের নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী আখতার উল আলম। পাশাপাশি সাইবার অপরাধ ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম বন্ধ, সড়ক দুর্ঘটনার ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শীত মৌসুমে ডাকাতি বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণেরও অঙ্গীকার তার।
গতকাল সোমবার সিলেটের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও প্রতিনিধিত্বশীল সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সিলেটে প্রবাসীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, ‘সিলেট প্রবাসীবহুল এলাকা। আমার প্রথম প্রায়োরিটিতেই থাকবে প্রবাসী যারা আছেন, তারা একটা নির্দিষ্ট সময় দেশে আসেন পরিবারের সাথে সময় ব্যয় করতে, তারা যাতে এই সময়টা নিরাপদে থাকতে পারেন এই বিষয়টা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখবো।’
তিনি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। তাই, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা প্রদানে তিনি সব সময় সচেষ্ট থাকবেন। সাংবাদিক হয়রানির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোন সাংবাদিক যদি হয়রানি মামলার শিকার হন, তদন্তে তার অপরাধ প্রমাণ না পেলে তার নাম বাদ দেওয়া হবে।’
পুলিশ সুপার বলেন, ‘সাইবার অপরাধ বা সাইবার প্রতারণা, অনলাইনে এখন অনেক অপরাধ ও প্রতারণা হচ্ছে, বিকাশ বা নগদে আর্থিক লেনদেনেও প্রতারণা হচ্ছে। এছাড়া অনলাইন জুয়া পুরো দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। কিশোর গ্যাং-ও সারাদেশে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম বন্ধ করতে চাই।
সিলেটের সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন অপরাধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সিলেট সীমান্তবর্তী এলাকা। এখানে ভারতের সাথে ১৮০ থেকে ১৯০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তে মাদক বা চোরাচালান হয় না এটা বললে ভুল বলা হবে। অবশ্যই এসব হয়। এ ব্যাপারে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে। চোরাচালান ও মাদক দমাতে হবে। এ ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন আছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবার বেটার নির্বাচন করার কথা প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন। নির্বাচন যাতে অবাধ হতে পারে, জনগণ যাতে আস্থাশীল থাকে, নির্বাচনের পরিবেশ ভালো থাকে, এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতায় আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’
সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গ তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় অকালেই অনেক প্রাণ ঝরে যায়। এ ব্যাপারে আমরা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাবো। চালকের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। সচেতন হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমে যাবে।’
বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন-সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবির, সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি খালেদ আহমদ, সাবেক সহ-সভাপতি এম এ হান্নান, সাবেক কোষাধ্যক্ষ কবির আহমদ সোহেল, বাংলা নিউজের সিলেট ব্যুরো প্রধান নাসির উদ্দিন, শুভ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক ফয়ছল আলম, দৈনিক জালালাবাদের প্রধান প্রতিবেদক আহবাব মোস্তফা খান, ডেইলি স্টারের দোহা চৌধুরী, এখন টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান গোলজার আহমদ, ইমজার সাধারণ সম্পাদক সাকিব আহমদ মিঠু, একাত্তর টেলিভিশনের হোসাইন আহমদ সুজাদ প্রমুখ।
শীতকালে সিলেটে অপরাধ প্রবণতার বিষয়ে উল্লেখ করে আখতার উল আলম বলেন, ‘শীতকালে অপরাধ প্রবণতা বাড়ে। ডাকাতি বেড়ে যায়। এ ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট আছি। জেলায় চেকপোস্টের পরিমাণ বাড়ানো হয়ে। ৩০টি চেকপোস্ট রয়েছে। এছাড়া ৪৬টি মোবাইল টিম মহাসড়কের লিংক রোডে টহলে আছে।’
এসময় সীমান্ত হত্যা, সাংবাদিকদের নামে হয়রানিমূলক মামলা, নিরপরাধ ব্যক্তিদের পুলিশের হয়রানি, গত বছরের ৫ আগস্টের পর অনেকক্ষেত্রে পুলিশের ঘুষ বাণিজ্য বেড়ে যাওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকরা মতামত দেন।
সিলেটে যোগ দেওয়ার পর গতকাল সোমবার প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের সাাথে মতবিনিময় করেন নতুন এই পুলিশ সুপার। এসময় সাংবাদিকরাও সিলেটের বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের মতামত দেন ও পুলিশ সুপারকে প্রশ্ন করেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে পুলিশ সুপার বলেন, ‘আপনারা গঠনমূলক সমালোচনা করেন। গুজব পরিহার করুন। যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।’
এর আগে গত ২৯ নভেম্বর সিলেট জেলার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন কাজী আখতার উল আলম। গত ২৬ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (পুলিশ-১ শাখা) জারি করা প্রজ্ঞাপনে আখতার উল আলমকে সিলেটের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। নির্বাচনের আগে এই বদলিকে অনেকে নির্বাচনকালীন পদায়ন বলছেন।




