সিলেটের মাটিতে প্রথম হ্যাটট্রিক মেহেদী হাসান রানার
শেষ বলের অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় জিতলো সিলেট
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১:০৪:৫৫ অপরাহ্ন
লবীব আহমদ :
যেখানে শেষ ২৪ বলে দরকার ২৬ রান আর হাতে ছিল ৬ উইকেট, সেখানে সিলেট টাইটান্সের জয় অনেকটা নিশ্চিত ছিল। সেখান থেকে ১৮ বলে ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩ রান তুলে সিলেট। আর শেষ ওভারে দরকার পড়ে ১৩ রানের। বোলিংয়ে আসেন নোয়াখালীর সাব্বির হোসাইন আর ক্রিজে ছিলেন সিলেটের বিদেশি ক্রিকেটার ইথান ব্রুকস। প্রথম ২ বলে আসে শূন্য রান। পরের বল নো-বল দেন সাব্বির। আর তখনই পরে বলটি উড়িয়ে সীমানার বাইরে পাঠান ইথান ব্রুকস। পরের বলে নেন ৪ রান। আর এতেই ‘সিলেট সিলেট’ বলে উল্লাসে ফেটে পড়েন সিলেটের দর্শকরা। এরপর যখন শেষ দুই বলে লাগে ২ রান, তখনই রান আউট হয়ে ফিরেন ব্রুকস। পরের বলটি ওয়াইড দেন সাব্বির। আর শেষ বল থেকে লেগ বাইয়ের এক রানে টুর্নামেন্টের প্রথম জয়ের দেখা পায় সিলেট টাইটান্স।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চতুর্থ ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় সিলেট টাইটান্স। সেই অনুযায়ী শুরুটাও ভালো করে সিলেট। ১৪৩ রানে ৭ উইকেটে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে বেঁধে রাখে সিলেট টাইটান্স। পরে ০ রানে বিদেশি ওপেনার সাইম আইয়ুবকে হারিয়ে বিপাকে পড়ে সিলেট।
দলীয় ৩৪ রানে সিলেট হারিয়ে ফেলে তিন ব্যাটারকে। এরপরই অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে পারভেজ হোসেন ইমনের প্রতিরোধ। চতুর্থ উইকেটে ৬৬ বলে ৮৩ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের সহজ স্বপ্ন দেখান তাঁরা। যখন তাঁরা উইকেটে ব্যাট করছিলেন, তখন মনে হয়েছিল সহজ জয়ই পেতে যাচ্ছেন তাঁরা। কিন্তু, এরপরই ঘটে বিপত্তি। ৬টি চার ও ২টি ছয়ে ৪১ বলে ৬০ রান করে ইমন আউট হয়ে যান। এরপর মিরাজ, নাসুম (০) ও খালেদ আহমেদকে (০) ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক করেন মেহেদী হাসান রানা। বিপিএলের ইতিহাসে নবম হ্যাটট্রিক, সিলেটের মাটিতে প্রথম।
রানার হ্যাটট্রিকের পর জয়ের পাল্লা হেলে পড়ে নোয়াখালীর দিকে। কিন্তু শেষ দিকে ১৩ বলে ইথান ব্রুকস ১৬ রান করে দলকে জয়ের দুয়ারে ঠেলে দেন। লেগবাই থেকে আসে সিলেটের জয়সূচক রান। এর আগে নোয়াখালী ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৩ রানের বেশি তুলতে পারেনি। দলীয় ৯ রানে মাজ শাদাকাত, হাবিবুর রহমান সোহান ও হায়দার আলীকে হারিয়ে দুঃস্বপ্নের শুরু হয়েছিল নোয়াখালীর। তিনজনের কেউই ব্যক্তিগত রানের খাতা খুলতে পারেননি।
এরপর বিরুদ্ধ স্রোতে দাঁড়িয়ে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের প্রতিরোধ। চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে সৈকত আলী (২৪), সাব্বির হোসেন (১৫) ও জাকের আলী অনিককে (২৯) নিয়ে ৩২, ২৯ ও ৬৬ রানের জুটি গড়েন।
এক প্রান্ত আগলে রেখে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৫১ বলে ৬৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১টি চার ও ৩টি ছয়ে সাজানো তাঁর ইনিংস। নোয়াখালীর হয়ে বেশি স্ট্রাইকরেটের ইনিংসটি খেলেছেন জাকের; ৪টি চারে ১৭ বলে করেছেন ২৯ রান।
বল হাতে সবচেয়ে সফল পেসার খালেদ আহমেদ ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ২০ ওভারে ১৪৩/৭ (মাহিদুল ৬১*, জাকের ২৯, সৈকত ২৪; খালেদ ৪/২৩, সাইম ২/২৫)।
সিলেট টাইটান্স: ২০ ওভারে ১৪৪/৯ (পারভেজ ৬০, মিরাজ ৩৩, ব্রুকস ১৬; মেহেদী ৪/৩৪, হাসান ২/১৯)।
ফল: সিলেট টাইটান্স ১ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: খালেদ আহমেদ।




