সুনামগঞ্জে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে ধীরগতি, ৩০০ প্রকল্পে এখনো শুরু হয়নি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৩:৪৬ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : নির্ধারিত সময়সীমার তিন সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও এখনো শুরু হয়নি সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরের বেশির ভাগ ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ। যেসব হাওরে কাজ শুরু হয়েছে তার গতি নিয়েও হতাশ হাওর পাড়ের কৃষকরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, হাওরের পানি অপসারণে বিলম্ব ও পিআইসি গঠন প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়ায় এবার জেলার তাহিরপুর, দিরাই, শাল্লাসহ বিভিন্ন উপজেলার কিছু হাওরে সময় মতো কাজ শুরু করা যায়নি। তবে হাওর থেকে পানি সরে যাওয়ার সাথে সাথে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনের দাপ্তরিক কারণে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকায় প্রথম দিকে বাঁধের কাজের গতিতে কিছুটা প্রভাব পড়লেও কয়েক দিনের মধ্যে পুরোদস্তুর কাজ শুরু হয়ে নির্ধারিত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন পাউবো কর্তৃপক্ষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য ৭০৫টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
প্রায় সাড়ে ৫০০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ১৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ ১২ উপজেলায় উদ্বোধন করা হলেও হাওরে পানি নিষ্কাশনে বিলম্ব ও পিআইসি গঠন দেরি হওয়ায় সকল হাওরে বাঁধের কাজ শুরু করা যায়নি।
৬ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৪০০টি প্রকল্পে বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। সপ্তাহ সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা। বাঁধের কাজের সার্বিক অগ্রগতি ১৫ ভাগ বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ অনুমোদিত প্রকল্পের বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। কিছু কিছু প্রকল্পে ওয়ার্ক অডার পাননি সংশ্লিষ্ট পিআইসিরা।
অপরদিকে, বাঁধের কাজ শুরু না হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছে হাওর ও কৃষকের সংগঠন হাওর বাঁচাও আন্দোলন। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনের নেতারা জানান, নীতিমালা অনুযায়ী ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ ১৫ ডিসেম্বর শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখনো বেশির ভাগ উপজেলায় কাজ শুরু হয়নি। যেসকল বাঁধে কাজ শুরু হয়েছে তাতেও রয়েছে ধীর গতি।
তাছাড়া পিআইসি গঠনে অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পসহ রয়েছে অতিরিক্ত বরাদ্দ। নির্বাচনের দোহাই দিয়ে বাঁধের কাজে গাফিলতি করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে নির্ধারতি সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংগঠনের নেতারা।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, এবারের বাঁধের কাজ নিয়ে আমরা খুবই শঙ্কিত।
কাজের অগ্রগতি খুবই হতাশাজনক। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, হাওরের পানির জন্য কাজে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে শতভাগ বাঁধের কাজ শুরু হয়ে যাবে। মনিটরিং জোরদার রয়েছে।



