‘একটি দল নির্বাচনের আগেই আপনাদের ঠকাচ্ছে, শিরক করাচ্ছে’
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:১০:২৪ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগেই একটি দল মানুষ ঠকাচ্ছে। তিনি বলেন, তারা নির্বাচনের পরে কেমন ঠকাবে এবার বোঝেন। শুধু ঠকাচ্ছে না, যারা মুসলমান তাদের শিরক করাচ্ছে তারা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে নিজের প্রথম নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, এখন আমি আপনাদের সামনে একটি প্রশ্ন করতে চাই, এখানে কারা (মাঠে উপস্থিত) ওমরা বা হজ করে এসেছেন, হাত তোলেন।
এ সময় মাঠে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি হাত তোলেন। তাদের মধ্যে একজনকে মঞ্চে ডেকে আনেন তারেক রহমান। তাকে জিজ্ঞেস করেন- আপনি কাবা শরীফে গেছেন? কাবা শরীফের মালিক কে? তখন ওই ব্যক্তি বলেন, আল্লাহ। তারেক রহমান বলেন, আমরা সবাই মুসলমান। এই দিন-দুনিয়ায় যা দেখি, এই পৃথিবীর মালিক কে? হজকারী ব্যক্তি বলেন আল্লাহ।
তারেক রহমান প্রশ্ন রাখেন এই সূর্য, নক্ষত্র যা দেখি তার মালিক কে? বেহেশতের মালিক কে? আপনারা সবাই সাক্ষী দিলেন- দোজখ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ। এই পৃথিবী, কাবার মালিক আল্লাহ। আরে ভাই যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কি অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না। তাহলে কী দাঁড়াল? নির্বাচনের আগেই একটি দল এই দেবো, ওই দেবো বলছে, টিকেট দেবো, বলছে না? যেটার মালিক মানুষ না, সেটার কথা যদি সে বলে, তাহলে কি শিরক করা হচ্ছে না? যার মালিক আল্লাহ, যার অধিকার শুধু মাত্র আল্লাহর। কাজেই আগেই তো আপনাদের ঠকাচ্ছে। নির্বাচনের পরে কেমন ঠকাবে এবার বোঝেন। শুধু ঠকাচ্ছে না, যারা মুসলমান তাদের শিরক করাচ্ছে, নাউজুবিল্লাহ।
তিনি বলেন, এই হঠকারিতার বিরুদ্ধে, এই মিথ্যার বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছি। এখন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
‘সিলেট থেকে ঢাকায় যেতে যত সময় লাগে, লন্ডন যেতেও এত সময় লাগে না’
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, সিলেট থেকে ঢাকায় যেতে যত সময় লাগে, লন্ডন যেতেও এত সময় লাগে না। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনী বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি বিগত ১৫-১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে কীভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। আজকে এই যে ঢাকা থেকে সিলেট বা সিলেট থেকে ঢাকার যে মহাসড়ক; ২০০৫ সালে আমি এসেছিলাম সুনামগঞ্জে, বন্যা হয়েছিল। আমার আসতে লেগেছিল সাড়ে ৪ ঘণ্টার মতন। কিন্তু আজ আজ আমরা দেখি ১০ ঘণ্টার মতন লাগে। সিলেটের এই পূণ্যভূমির মানুষ বহু মানুষ আছেন, যারা লন্ডনে যাতায়াত করেন; লন্ডন যেতেও এত সময় লাগে না- এই হচ্ছে উন্নয়নের ফিরিস্তি।
তিনি বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে আমরা দেখেছি, কীভাবে একের পর এক নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে; কীভাবে আমি-ডামির নির্বাচন হয়েছে; কীভাবে নিশি রাতের নির্বাচন হয়েছে। এবং এই নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার তথা রাজনৈতিক অধিকারকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আজ আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি সেই মানুষগুলোর জীবনের বিনিময়ে, যারা আমাদের সকলের জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল।
তিনি বলেন, আজ আমরা একত্রিত হয়েছি সেই মানুষগুলোর জীবনের বিনিময়ে- যারা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছে, অত্যাচারিত হয়েছে। বাংলাদেশের সেই মানুষগুলোর জীবনের বিনিময়ে আজ আমরা আবার এই রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাওয়ার অধিকার আদায়ের পথে নেমেছি।
দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে তিনি সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভা মঞ্চে পৌঁছান। এ সময় নেতাকর্মীরা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম, সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে, লাল গোলাপ শুভেচ্ছা, ভোট দিব কিসে, ধানের শীষে, লাগারে লাগা, ধান লাগা’ স্লোগান দিতে থাকেন। ১২টা ৫৮ মিনিটে তারেক রহমান বক্তব্য শুরু করেন। ১টা ২৫ মিনিটে তাঁর বক্তব্য শেষ হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় জনসভা শুরু হয়। প্রথমে স্থানীয় নেতারা মঞ্চে বক্তব্য দেন। সিলেট জেলা ও মহানগর এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ সভার আয়োজনে সভাপতিত্ব করছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি বক্তব্য দেবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জনসভা সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। বক্তব্য দেন সিলেট-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-২ আসনের প্রার্থী ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদী লুনা, সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী এম এ মালেক, সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনে বিএনপি-জমিয়ত জোটের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী কলিম উদ্দিন মিলন, নেজামে ইসলাম পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আব্দুর রকিব, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রহমান, ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, আবুল কাহের শামীম, সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি এহসান প্রমুখ।
আজ সাত স্থানে জনসভা
সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে বক্তৃতা শেষ করে বেলা দেড়টায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি আজ সিলেট ছাড়াও আজ আরও ছয়টি জেলার ছয়টি স্থানে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে পথিমধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসংলগ্ন ছয় জেলায় আয়োজিত সভায় ভাষণ দেবেন। এর মধ্যে প্রথমে মৌলভীবাজারের সদর উপজেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে এবং পরে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত নতুন উপজেলা পরিষদের মাঠে আয়োজিত সভায় যোগ দেবেন। পরে তারেক রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া ফুটবল খেলার মাঠে, কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেডিয়ামে, নরসিংদীর পৌর পার্কে এবং নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার অথবা রূপগঞ্জ গাউসিয়া এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেবেন। এসব জনসভায় তিনি সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর বিএনপি-মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেবেন।




