সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় তারেক রহমান
বিএনপি সরকার গঠন করলে নবী করিম (স.)-এর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করবে
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৬:৫৫ অপরাহ্ন
কাউসার চৌধুরী/ নূর আহমদ :
আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠন করলে নবী করিম (স.)-এর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভার মঞ্চে এই ঘোষণা দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বেহেশত ও দোজখের মালিক আল্লাহ। কিন্তু যেটার মালিক আল্লাহ সেটা অন্য কেউ দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। যারা বিভিন্ন টিকিট দিচ্ছে, যেটার মালিক মানুষ না ;তারা সেটার কথা বলে শিরকি করে নির্বাচনের আগেই মানুষকে ঠকাচ্ছে।
তারেক রহমান আরো বলেন, যারা বলে অমুক-তমুককে দেখেছি, এবার আমাদের দেখেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা দেখা হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের মানুষ তাদের দেখে নিয়েছে। এই কুফরি, হঠকারিতা ও মিথ্যাবাদীদের বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়াম মাদ্রাসা মাঠের এই সমাবেশে বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান অনেকটা সিলেটি উচ্চারণে স্থানীদের কাছে সালাম দিয়ে জানতে চান, ‘আপনারা ভালা আছইন নি..?’ এরপরই বক্তব্য শুরু করেন। জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকে এখানে যে লক্ষ লক্ষ মানুষ আপনারা উপস্থিত হয়েছেন- আপনাদের এই উপস্থিতির জন্য হাজারো মানুষ তাদের প্রাণ দিয়েছেন। আজকে আপনাদের এই রাজনৈতিক অধিকার আপনাদের বাক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে আমরা আমাদের ইলিয়াস আলীকে হারিয়েছি। আমরা জুনায়েদকে হারিয়েছি, দিনারকে হারিয়েছি। তারেক রহমান এসময় ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতাকে মানুষ ২০২৪-এ রক্ষা করেছে বলেও মন্তব্য করেন।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টাদের মধ্যে সিলেট-১ আসনের দলের সংসদ সদস্য প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-৪ আসনের দলের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের দলের প্রার্থী এম এ মালিক, সিলেট-২ আসনের দলের প্রার্থী তাহসিনা রুশদির লুনা, ড. এনামুল হক চৌধুরী ও যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির ।
বিএনপির চেয়ারম্যান বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের কঠোর সমালোচনা করে আরো বলেন, একের পর এক ডামি ও নিশিরাতের নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে দেশকে নতুন করে স্বাধীন করেছে, তা ৭১-এর স্বাধীনতার মতোই তাৎপর্যপূর্ণ।
তারেক রহমান বলেন, ২০০৫ সালে বন্যার সময় ঢাকা থেকে সিলেট এসেছিলাম ৫ ঘণ্টায়। এখন ঢাকা থেকে সিলেট আসতে ১০ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। এটাই বিগত সরকারের উন্নয়নের নমুনা।
তারেক রহমান আরো বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনও সক্রিয়। দেশে-বিদেশে বসে যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের থেকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের মানুষ আগেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছে। আগামীতেও জনগণ সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।
বক্তব্যে তারেক রহমান আরো বলেন, উন্নয়নের নাম করে আমরা দেখেছি কিভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে পাচার করেছে। আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই। এ জন্য ধানের শীষের পাশে থাকবেন। আমরা কৃষকের পাশে থাকতে চাই। এ কারণে আপনাদের ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখেছি গত ১৫/১৬ বছর অন্য দেশের কাছে কিভাবে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিয়েছিল। এজন্য আমি আগে বলেছি দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়; সবার আগে বাংলাদেশ। আমি আরেকটি কথা বলেছিলাম, স্বৈরাচার সরকার যখন মানুষের ঘাড়ে চড়ে বসেছিল, সেটা হচ্ছে ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’। আমরা ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশের’ অর্ধেক পথে এসেছি। আমরা স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ করেছি। গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছি। ১২ তারিখে (ফেব্রুয়ারি) ধানের শীষকে নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ১২ তারিখের (ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের পর আমরা বিজয়ী হয়ে জিয়াউর রহমানের মতো খাল খনন করতে চাই। এ সময় উপস্থিত সবাইকে নিয়ে স্লোগান দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। বলেন, ‘করবো কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
বক্তব্যের শেষে সবার কাছে আগামী ১২ তারিখে (ফেব্রুয়ারি) ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনে বিএনপি সরকার গঠন করলে আমরা নবী করিম (স.)-এর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে ইনশাআল্লাহ দেশ পরিচালনা করব।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মঞ্চে উঠেন তারেক রহমান। ১২টা ৫৮ মিনিটে তিনি বক্তব্য শুরু করেন। এসময় স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ। এর আগে সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সংলগ্ন গ্রান্ড সিলেট হোটেলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান। সেখান থেকে আলিয়া মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনাকালে পথে পথে বিশেষ করে প্রবেশপথে চৌহাট্টা মোড় এলাকায় অপেক্ষমাণ হাজার হাজার নেতাকর্মী তাকে অভ্যর্থনা জানান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল ১১টার আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ। মাঠের ভেতর ছাড়াও পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশের সড়ক ও ফুটপাতে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। ১০টা ৫০ মিনিটে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়। তেলাওয়াত করেন আম্বরখানা মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতী মাওলানা ছালেহ আহমদ।
সভার শুরুতে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। ১১টার দিকে সভাস্থলে পৌঁছান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুপর ১২টার দিকে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তৃতা শুরু করেন। সভায় সকালেই উপস্থিত হন সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১১টি আসনের প্রার্থীরা। জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যরাও সমাবেশের মঞ্চের পাশে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
সিলেট থেকে তারেক রহমান বাংলাদেশকে নতুন করে
সাজানোর যাত্রা শুরু করলেন: মির্জা ফখরুল
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান এই অধিকার আদায়ে বিলেত থেকে আমাদেরকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। ডা. জুবাইদা রহমানও আমাদের পথ দেখিয়েছেন। দীর্ঘ ১৫ বছর এদেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছেন, কিন্তু মাথানত করেনি। এই সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর জন্ম হয়েছে। আমাদের নেতা এম সাইফুর রহমানের মতো গুণীজনের জন্ম হয়েছে এখানে। সিলেটের সন্তান এম ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। তিনি এখানে কত এসেছেন। শহীদ জিয়াও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। তার দর্শন ছিল জাতীয়তাবাদ। সিলেট থেকে তারেক রহমান যাত্রা শুরু করলেন। এটি বাংলাদেশকে নতুন করে সাজানোর যাত্রা। এটি হচ্ছে তারেক রহমানের চিন্তার মধ্য দিয়ে – পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে সত্যিকার অর্থে সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার যাত্রা। বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল। একটি রাজনৈতিক দল আজ বিএনপির বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছে, মিথ্যা প্রচারণা করছে। এরা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করেনি। এরা নতুন করে বাংলাদেশ তৈরি করতে চায়। আমাদেরকে সাবধান থাকতে হবে। মুক্ত অবস্থায় জনসভা করতে পেরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আল্লাহর নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করেন।
অন্য বক্তারা যা বললেন
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সিলেট-১ আসনের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, তারেক রহমান তাঁর যোগ্যতায় দল ও দেশকে একত্রিত করতে পেরেছেন।
আগামী দিনের যুদ্ধ হলো দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আসা। সিলেটে পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পাশাপাশি আইটি হাব গড়ে তোলা হবে।
পানির জন্যে সিলেট ৮ লাখ টন খাদ্যশষ্য থেকে বঞ্চিত। আগামী দিনে সকল কৃষি জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা হবে। সেটা শুরু করে দিয়ে গেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। প্রবাসীদের বিনিয়োগের সুবিধা করে দেয়া হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও সিলেট-৪ আসনের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এই পুণ্যভূমি সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে ধানের শীষকে বিজয়ী করে তারেক রহমানকে উপহার দেয়া হবে। আমরা বিএনপির নেতৃত্বে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। তিনি ধানের শীষের শ্লোগান দেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী এম এ মালিক বলেন, আগামী নির্বাচনে সিলেটের প্রতিটি আসনে লোকজন ধানের শীষে ভোট দেবেন। ধানের শীষ উন্নয়নের প্রতীক। তারেক রহমানকে আমরা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাই।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সিলেট-২ আসনের প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্যই ইলিয়াস আলীসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম হয়েছেন। নির্যাতনের পরীক্ষায় আপনারা উত্তীর্ণ হয়েছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে মানুষকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে। ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী বলেন, আগামী দিনের ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তারেক রহমান বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন। তিনি ধানের শীষের শ্লোগান ধরেন।
বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির বলেন, ধানের শীষ প্রতীক উন্নয়নের প্রতীক। সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জের উন্নয়নের জন্যে তারেক রহমানকে – ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। তারেক রহমান মানেই দেশের উন্নয়ন। তাই আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে।
জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গৌছ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন ও মিফতাহ সিদ্দিকী, সহ ক্ষুদ্রঋণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য শাম্মী আক্তার, অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, জিল্লুর রহমান জিলু, আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মিজানুর রহমান চৌধুরী (মিজান), জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সিলেট-৫ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুর রকিব, সুনামগঞ্জ-১ আসনে দলের প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে দলের প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর এম আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে দলের প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, মহিলা দল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
জনসভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা সালেহ আহমদ।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তারেক রহমান সিলেট থেকে প্রচারণা শুরু করলেন এজন্য তাঁকে ধন্যবাদ। আমাদের বোন সিলেটের কৃতিসন্তান ডা. জুবায়দা রহমানও এসেছেন তাঁর প্রতিও কৃতজ্ঞতা।
রাজনীতির নানান স্মৃতি তুলে ধরে কাইয়ূম চৌধুরী বলেন, ৯১ সাল থেকে আজও দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে আছি। আগে থাকতাম ছাত্রদলের নেতা আর এখন বিএনপির নেতা হিসেবে। এই আলিয়া মাদরাসা মাঠ নানা কারণে ঐতিহাসিক। এখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া থেকে তারেক রহমানও নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন। এই আলিয়া মাদরাসা মাঠেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সিলেটকে বিভাগ ঘোষণা করেছিলেন।
ধানের শীষের বিজয় হলে সিলেটের উন্নয়ন হয়, দেশের উন্নয়ন হয়। সিলেটের সকল আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর বিজয়ের লক্ষ্য নিয়ে আমাদেরকে কাজ করতে হবে। সাধারণ মানুষের কাছে যেতে হবে। আমরা সকলে মিলে দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে গড়তে চাই।




