ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট সাময়িক স্থগিতের ব্যাখ্যা দিলো বিমান
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৬:১৭ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট সাময়িক স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, বহরের সীমাবদ্ধতা এবং কার্যক্রমগত বাস্তবতার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একইসাথে যাত্রীদের সম্ভাব্য ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আগামী ১ মার্চ থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ও বাস্তবতা তুলে ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে একটি ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি পাঠিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা বোসরা ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট স্থগিত নিয়ে নানা আলোচনা ও মন্তব্য পরিলক্ষিত হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে সম্মানিত যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রকৃত অবস্থা জানাতেই এ ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটি বিমানের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। একইসাথে বিমানের ইউরোপ, হজ ও মধ্যপ্রাচ্য রুটে সীমিতসংখ্যক ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজবোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও বোয়িং ৭৭৭ ব্যবহƒত হচ্ছে। ম্যানচেস্টারের মতো দীর্ঘপথের রুটে একটি উড়োজাহাজ একাধিক দিন ব্যস্ত থাকায় বহর ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।
হজ মৌসুমে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহনের জন্য অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করতে হয় বলেও জানানো হয়। এ কারণে অপারেশনাল বাস্তবতায় অন্যান্য রুটের ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি সমন্বয় করা জরুরি হয়ে পড়ে।
এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে প্রবাসী শ্রমিক ও ওমরাহ যাত্রীদের চাহিদা অত্যন্ত বেশি। ফলে সীমিত বহরকে তুলনামূলকভাবে বেশি চাহিদাসম্পন্ন ও কার্যকর রুটে ব্যবহার করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এর পাশাপাশি নিয়মিত সি-চেক, ইঞ্জিন ওভারহল এবং কাঠামোগত পরিদর্শনের সময় এক বা একাধিক উড়োজাহাজ সপ্তাহ কিংবা মাসের জন্য পরিসেবার বাইরে চলে যাওয়ায় উড়োজাহাজ সঙ্কট আরো প্রকট হয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বৈশ্বিকভাবে ক্রু সঙ্কট বিদ্যমান, যা বিমানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এ অবস্থায় দীর্ঘপথের ফ্লাইটের পরিবর্তে স্বল্প পথের ফ্লাইট পরিচালনা করলে ক্রু ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যাত্রীসেবার ধারাবাহিকতা, অপারেশনাল স্থিতিশীলতা এবং সীমিত বহরের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ঢাকা-সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
যাত্রীদের সম্ভাব্য ভোগান্তি কমাতে ইতোমধ্যে লন্ডন রুটে ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি করে সপ্তাহে মোট পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে চারটি ফ্লাইট সিলেট হয়ে লন্ডন এবং একটি ফ্লাইট সরাসরি ঢাকা-লন্ডন রুটে পরিচালিত হচ্ছে।
এছাড়া, ম্যানচেস্টার রুট স্থগিতের পূর্বঘোষিত সময় ১ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিবর্তন করে ১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই টিকিট রিফান্ড, ফ্লাইট পরিবর্তন কিংবা লন্ডন হয়ে যাত্রার সুযোগ রাখা হয়েছে। একইসাথে সুবিধাজনক অন্য তারিখে ফ্লাইট পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হবে না।
ম্যানচেস্টার রুট সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় যেসব যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষ অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন, তাদের কাছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলান্স আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সহযোগিতা কামনা করেছে।
বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, উড়োজাহাজ ক্রয় ও নতুন ক্রু নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব কার্যক্রম সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে ম্যানচেস্টার রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে এবং যথাসময়ে তা জানানো হবে।



