নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না হলে আমরণ অনশনের হুশিয়ারি সিলেট-১ আসনের প্রার্থী সুমনের
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:১৮:১১ অপরাহ্ন
সিলেট-১ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় সমান সুযোগ না পাওয়া ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে প্রেস ব্রিফিং করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না।
এসময় তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে নির্বাচনে প্রচারণার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ সুবিধা ও সুষ্ঠু পরিবেশ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকায় আপনাদের সামনে সার্বিক পরিস্থিতি উপস্থাপন করছি।জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী বিলবোর্ডের কোন সংজ্ঞা দেয়া হয়নি এবং উক্ত আইনের ১৪ নং দফায় বলা হয়েছে “বিলবোর্ড ব্যবহার নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে (ক) যেকোন ধরণের বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাইবে, তবে বিলবোর্ডে প্রচারণার অংশের আয়তন অনধিক ১৬ ফুট ও ৯ ফুট হইতে হইবে।”-এক্ষেত্রে বিলবোর্ডের স্ট্রাকচার, পচনশীল দ্রব্য ব্যবহার ও কালার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়নি।এছাড়া উক্ত বিধিমালার ৭ (খ) উপদফায় বলা হয়েছে “অপচনশীল দ্রব্য (যেমন- রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিক তথা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এরূপ কোন উপাদানে তৈরী কোনো প্রচারপত্র, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও ব্যানার) ব্যবহার করা যাইবে না।”-এক্ষেত্রেও বিলবোর্ডের জন্য অপচনশীল দ্রব্য ব্যবহারের কোন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, উক্ত বিধিমালার ৭(ঙ) দফায় বলা হয়েছে “ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যতিত নির্বাচনি প্রচারনায় ব্যবহৃতব্য ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন সাদা-কালো রঙের হইবে এবং ব্যানার আয়তনে অনধিক ১০ ফুট ও ৪ ফুট”।-এক্ষেত্রেও বিলবোর্ড ব্যবহারে কালার ব্যবহার বিষয়ে কোন নিষেধাজ্ঞা উল্লেখিত হয়নি।এমতাবস্থায় গত ২২ জানুয়ারি উপরোক্ত বিষয়টি রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে যোগাযোগক্রমে কালার ব্যবহারের বিষয়ে কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকা বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে সিলেট-১ নির্বাচনী এলাকায় ২০ টি রঙিন কালারের বিলবোর্ড লাগানো হয়। কিন্তু সিলেটের রিটার্নিং অফিসার এবং আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাকে কোনরূপ অবগত বা নোটিশ প্রদান না করেই বিধি সম্মত ভাবে লাগানো ২০টি রঙিন বিলবোর্ড গতকাল বিকেলে খুলে নেন এবং তৎক্ষনাত টিলাগড় পয়েন্টে আমার বিলবোর্ডের স্ট্রাকচারে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী প্রার্থীর একটি বিলবোর্ড লাগানো হয়। উপরোক্ত বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসারের সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য আজ জেলা প্রশাসকের দপ্তরে গেলে তিনি প্রায় এক ঘন্টা আমাকে অপেক্ষায় রেখে আমার সাথে সাক্ষাত করবেন বলেও সাক্ষাত না করেই বাহিরে চলে যান।
তিনি আরও বলেন, আইন ও বিধিমত লাগানো আমার বিলবোর্ডগুলো খুলে নেয়ায় নির্বাচনে প্রচারনা চালানোর ক্ষেত্রে সমান সুযোগ সুবিধা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিঘ্নিত হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারনার ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে- (ক) সিলেট মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ ১টি করে বিলবোর্ড লাগানোর বিধান থাকলেও অন্তত দুইজন প্রার্থী প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে ২০/২৫ টি করে বাঁশের স্ট্রাকচারে তৈরী প্রায় তিন শতাধিক বিলবোর্ড লাগিয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। (খ) সিলেট-১ আসনে চলমান প্রায় ১৯ হাজার সিএনজি এর মধ্যে অধিকাংশ সিএনজি অটোরিক্সার পেছনে ২ জন প্রার্থীর রঙিন পোস্টার লাগানো রয়েছে যা আচরণ বিধির চরম লঙ্ঘন। (গ) সিলেট শহরের বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ও গাছে প্রায় ৪/৫ হাজার ফেস্টুন লাগানো রয়েছে যা আচরণ বিধির লঙ্ঘন। (ঘ) একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী জনসভা শেষ হওয়ার পরও প্রার্থীর নাম ও ছবি এবং দলের নাম সংযুক্ত প্রায় ২/৩ হাজার অপচনশীল দ্রব্যের তৈরী রঙিন ব্যানার ও বিলবোর্ড লাগানো রয়েছে যার ফলে ঐ প্রার্থী ও দল প্রচারণায় সুবিধা পাচ্ছেন এবং অন্য আরেকটি দলের প্রার্থী একই তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন। (ঙ) উপরোল্লিখিত বিষয় সমূহ ছাড়াও আরও বহু প্রক্রিয়ায় দুইজন প্রার্থী বিভিন্ন বাসায় বাসায় রঙিন লিফলেট বিলি করে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলেও সিলেটের রিটার্নিং অফিসার ও অন্যান্যদের কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় নি।
সুমন বলেন, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমনের প্রতি বিরাগভাজন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনার উদ্দেশ্যমূলক ভাবে আমার নির্বাচনী প্রচারনাকে বাধাগ্রস্থ করার পক্ষপাতিত্বমূলক উদ্দেশ্যে বিধি সম্মতভাবে লাগানো আমার বিলবোর্ড খুলে নেয়া হয়েছে কিন্তু যে সব প্রার্থী উপরোল্লিখিত মতে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, যা ন্যায়সঙ্গত নয়। এমতাবস্থায় আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সিলেট লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না করলে বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র অভিমুখী অভিযাত্রা হুমকীর মুখোমুখি হওয়ায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবীতে এবং নির্বাচনকে পক্ষপাত দুষ্ট করার প্রতিবাদে আমরন অনশনে যেতে বাধ্য হব। উল্লেখ্য যে, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও প্রশাসনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণ নির্বাচনে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করে ইতোমধ্যে নিজেদের নিরপেক্ষতা ক্ষুন্ন করেছেন। বিজ্ঞপ্তি




