প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন শতশত পর্যটক
যাদুকাটার তীরে ফাগুনের আগেই লেগেছে ফুলপল্লবে আগুন
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:১৬:২৫ অপরাহ্ন
বাবরুল হাসান বাবলু (তাহিরপুর) সুনামগঞ্জ থেকে ॥ আর ক’দিন বাদেই শুরু হবে ফাগুন মাস। বইতে শুরু করবে বসন্তের হাওয়া। আসবে বসন্ত ঋতু। গাছে গাছে জাগবে নতুন কুঁড়ি। ডালে ডালে ফুটবে ফুল। ফুটবে পলাশ-শিমূল। তবে বসন্তের আগে শীতেই ফাগুন লেগেছে তাহিরপুরে। হাজারো ডালে ফুটে থাকা ফুল মনকে রাঙ্গিয়ে দিচ্ছে শীতেই। এমনটাই দেখা গেলো তাহিরপুরের যাদুকাটা নদীর তীরে শিমূল বাগানে।
ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ঋতুর বৈচিত্র্যে এখন শীতকাল। বসন্তকালের এখনো বেশ কয়েক দিন বাকি। কিন্তু যাদুকাটা তীরে সারিবদ্ধভাবে লাগানো শিমূল গাছগুলোয় ফুটে থাকা শিমূলের লাল পাঁপড়ি দেখে এই শীতেও বাগান ঘুরে দেখতে দেখতে অনেকেরই মনে পড়বে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সেই চিরচেনা কবিতা ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত’। কিংবা আনমনে অনেকেই গেয়ে উঠবেন রবী ঠাকুরের গান ‘আহা আজি এ বসন্তে, এত ফুল ফোটে’ সত্যি অবাক করার মত। নয়ন জুড়ানো অপরূপ সৌন্দর্য ফেরানো দায়।
পাতা ঝড়ার দিন শুরুর আগেই ডালে ডালে ফুটে থাকা লাল ফুল যেমন রাঙ্গিয়ে দেয় দর্শনার্থীদের মন তেমনি বর্ষায় সারিবদ্ধ শিমুল বাগানের সবুজ পাতার সুনিবিড় ছায়া পর্যটকদের দিনের ক্লান্তি প্রশমিত দেয়। তাইতো এ বাগান দেখতে বর্ষায় যেমন লোকজন ভিড় করেন, তেমনি ফুল ফোটে থাকার দিনগুলোতেও ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন যাদুকাটার তীরে ছুটে আসেন শত শত পর্যটক। সেই সাথে আশপাশের গ্রামের দর্শনার্থীরাও ভিড় জমান প্রতিদিন বিকেল বেলা সেখানে।
প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই গাছে গাছে ফুল ফুটতে শুরু করলেও এবার ফুল ফুটতে শুরু করেছে মধ্য জানুয়ারী থেকেই। এমনটাই জানা গেল বাগান ঘুরে। বাগানের আশপাশের লোকজন ও বাগানের মালিক প্রয়াত চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের বড় ছেলে বাদাঘাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রাখাব উদ্দিন জানান, এবারই শীতের শেষ দিক থেকেই ফুলের মেলা বসেছে বাগানে। শিমূল বাগান তার প্রয়াত বাবা আল্বহাজ্ব জয়নাল আবেদীনকে সারা দেশের মানুষের সাথে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে বলেও তিনি জানান।
যাদুকাটা নদীর তীরে মানিগাঁওয়ে দেশের সবচেয়ে বড় শিমুল বাগান। দেশে এত বড় পরিসরে আর কোনো শিমূল বাগান আছে কি-না জানা নেই। তাইতো হাজারো ফুলের মেলা দেখতে বাগানে ছুটে আসেন দূর দূরান্ত থেকে সাধারণ দর্শনার্থী ও পর্যটক। তাদের মতে এক সাথে এত গাছ, এত ফুলের দেখা কোথাও মেলেনি। তাই শুধু মাত্র একসাথে এত ফুল দেখতেই পর্যটকরা ভিড় করেন বাগানে।
ট্রাভেল গ্রুপ কান্টি ট্যুরিজম বাংলাদেশ এর স্বত্বাধিকারী রাসেল ভুইয়া জানান, গত বছর মধ্য ফেব্রুয়ারিতে তিনি বাগান দেখতে আসেন। এবার ফুল আগে ফোটায় ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাতেই আসছেন তারা। তার মতে বাগানে ফুল ফোটার মুহূর্তটা অন্য রকম।
জানা যায়, ২০০২ সালে শুধু মাত্র বাণিজ্যিক ভাবনা থেকেই তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের প্রয়াত চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন তার ইউনিয়নের পাশে উত্তর বড়দল ইউনিয়নে মানিগাঁওয়ে যাদুকাটা নদীর পশ্চিম পারে ৯৭ বিঘা অনাবাদি ধু ধু বালিয়াড়িতে শিমূল বাগান তৈরী করেন। বাগানটিতে সারিবদ্ধভাবে ৩ হাজার শিমূলের চারা রোপণ করা হয়। ২৪ বছরের ব্যবধানে বাগানের শিমূল গাছগুলো আজ অনেক বড় হয়েছে। পত্র পল্লবে পেখম মেলছে। গাছে গাছে প্রস্ফুটিত ফুলে লালে লাল হয়ে যায় যাদুকাটা নদীর তীর। আর এ নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন যাদুকাটার নদীর তীরে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়।



