বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:১৯:৫৪ অপরাহ্ন
নূর আহমদ :
বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ বৃহস্পতিবার । জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে এই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ফ্যাসিস্ট আমলের ১৬ বছর বিতর্কিত একতরফা নির্বাচনের কারণে ভোট দিতে না পারা প্রজন্ম আজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ফলে অন্যরকম উৎসাহ বিরাজ করছে ভোটারদের মধ্যে। অন্যদিকে, সারাদেশের মতো সিলেট বিভাগের ১৯ আসনের নির্বাচনি সরঞ্জাম ভোটকেন্দ্রে গতকাল বুুধবার পৌঁছে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশের মতো সকাল সাড়ে ৭ টায় একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হবে, চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। বিভাগের ১৯ আসনের ৮৬ লাখ ৪২ হাজার ২শ ৫৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের ১৯ আসনে ১০৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২ হাজার ৮৮১টি কেন্দ্রে এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, আমরা চাই একটা নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ, ক্রেডিবল এবং ফেস্টিভ মুডের একটি নির্বাচন। সিলেটে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে, সুন্দর এবং সম্প্রীতি বজায় রেখে ভোট উৎসব সম্পন্ন হবে-এটাই প্রত্যাশা করি। অন্যদিকে, নির্বাচনে ভোটগ্রহণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমুহ। সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে নির্বাচনী এলাকার কেন্দ্রগুলোতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শরীরে সংযুক্ত বডি-ওর্ন ক্যামেরায় ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের সংসদীয় ১৯টি আসনে ২ হাজার ৮৮১টি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের ৬টি আসনে রয়েছে ১ হাজার ১৬, সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে ৬৬৪, হবিগঞ্জের ৪টি আসনে ৬৪৭ ও মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে ৫৫৪টি কেন্দ্র। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১ হাজার ১২৬টি কেন্দ্রের মধ্যে সিলেটের ৬টি আসনে ২১৭, সুনামগঞ্জের ৫টি আসনে ৪৫১, হবিগঞ্জের ৪টি আসনে ২৩৫ ও মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে ২২৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। সিলেট জেলায় মোট ভোটার ৩১ লাখ ১৩ হাজার ৩৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৯৭০ জন, মহিলা ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪০৮ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১৮ জন।
সিলেট: মর্যাদাপূর্ণ সিলেট -১ (নগর-সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রণব জ্যোতি পাল, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো: শামীম মিয়া, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের মাহমুদুল হাসান ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী হিসেবে সঞ্জয় কান্তি দাস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩শ ৩০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৪২ হাজার ৬শ ৩৭ জন, মহিলা ভোটার ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬শ ৮০ জন ও হিজড়া ভোটার ১৩ জন। কেন্দ্র রয়েছে মোট ২১৫ টি।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে গুম হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা নির্বাচনে লড়ছেন। এই আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলীকে (দেওয়াল ঘড়ি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমির উদ্দিন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (লাঙ্গল) এবং গণফোরামের মো. মুজিবুল হক (উদীয়মান সূর্য) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৮৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫শ ৮১জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫শ ২ জন । কেন্দ্র রয়েছে মোট ১শ ২৮ টি।
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৯ হাজার ৮শ ৯০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬ হাজার ৬শ ৮৪জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৩ হাজার ২শ ৪ জন। হিজড়া রয়েছেন ২ জন। কেন্দ্র রয়েছে মোট ১শ ৫১ টি। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন মোহাম্মদ আব্দুল মালিক এবং জামায়াত জোটের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু রয়েছেন। এই আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আতিকুর রহমান (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী (ফুটবল) ও মইনুল বকর (কম্পিউটার) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট) আসনে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী (ধানের শীষ), অন্যজন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন (দাঁড়িপাল্লা) নিয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা জাহিদ আহমেদ (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম (ট্রাক) ও জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (লাঙ্গল) প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। এই আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ৮ হাজার ১শ ১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬২ হাজার ৭শ ৪৫ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩শ ৭২ জন। হিজড়া রয়েছেন ১ জন। কেন্দ্র রয়েছে মোট ১শ ৭২ টি।
সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট) আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ২০ হাজার ৮শ ৪৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৩শ ২৬ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৬ হাজার ৫শ ১৯ জন। কেন্দ্র রয়েছে মোট ১শ ৫৮ টি। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াত কেউই নিজেদের প্রার্থী দেয়নি। দুটি দলই জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে (খেজুর গাছ) সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে খেলাফত মজলিসের মুফতি মোহাম্মদ আব্দুল হাসানকে (দেওয়াল ঘড়ি) সমর্থন দিয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এছাড়া সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি (বহিষ্কৃত) মামুনুর রশীদ স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল) হয়েছেন। এছাড়া, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাওলানা মো. বিল্লাল উদ্দিন (হারিকেন) প্রতীক লড়ছেন।
সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনে এবার লড়ছেন পাঁচ প্রার্থী। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলাম (হেলিকপ্টার), গণঅধিকার পরিষদের জহিদুর রহমান (ট্রাক) ও জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আবদুন নূর (লাঙ্গল) প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।
সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আলাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, সিলেট বিভাগের মোট ২ হাজার ৯৩৭টি কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছেছে। আলাউদ্দিন আরও বলেন, “নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার লক্ষে প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে তিনজন পুলিশ এবং ১৩ জন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রিজাইডিং কর্মকর্তার নিরাপত্তার জন্য একজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবেন।
“এছাড়া মাঠে সেনাবাহিনী, বিজিবি, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স সক্রিয় থাকার পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’
সুনামগঞ্জ: আমাদের প্রতিনিধি শহীদনূর আহমেদ জানান, জেলার ৫টি সংসদীয় আসনে লড়ছেন ২৩ জন প্রার্থী। জেলার ৭২০টি ভোটকেন্দ্রের ভোট প্রদান করেবন ২০ লাখ ৮০ হাজার ২শ ৩৫ জন। এর মধ্যে ১০ লাখ ২০ হাজার ১শ ৪৯ জন নারী এবং ১০ লাখ ৬০ হাজার ৫৪ জন পুরুষ আর ৩২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আগের দিন কেন্দ্রগুলো কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। রাত থেকে কেন্দ্র অবস্থান করছেন প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং পোলিং,পুলিশ,আনচারসহ সংশ্লিষ্ট সকল। জেলার দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ ৪৭০টি কেন্দ্র বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে শতভাগ কেন্দ্র সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি, স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাবসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বিশেষ টিম। এছাড়াও যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদারের পাশাপাশি নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, এবার নির্বাচন হবে ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এই লক্ষ্যে আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর রয়েছেন বলে জানান তিনি।
জেলার সর্ববৃহৎ নির্বাচনী আসন সুনামগঞ্জ -১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর) মোট ভোটার- ৫ লাখ ১ হাজার ৫৩০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার- ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪১ জন এবং পুরুষ ভোটার- ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৭৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ রয়েছেন জন। এই আসনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৭৭টি। ২৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ জন প্রার্থী। তারা হচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে কামরুজ্জামান কামরুল (ধানের শীষ),বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে তোফায়েল আহমদ (দাঁড়িপাল্লা),বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির থেকে মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার (বই)।
দিরাই শাল্লা উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ -২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬ হাজার ৪৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার- ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৯২ জন এবং পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৫৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের-১ জন। ১৩টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা মিলে ভোট কেন্দ্র সংখ্যা ১১১টি। এই আসনে লড়ছে ৩জন প্রার্থী। তারা হচ্ছেন-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) থেকে মো. নাছির উদ্দিন চৌধুরী (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মোহাম্মদ শিশির মনির (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি থেকে নিরঞ্জন দাস।
এদিকে, শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জ -৩ নির্বাচনী আসন গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৩ হাজার ১৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার- ১ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬৭ জন ও পুরুষ ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৩ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৬ জন।
১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মিলে এই আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৪৭টি। এই আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭ জন প্রার্থী। তারা হচ্ছেন-বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) থেকে কয়ছর এম আহমদ( ধানের শীষ),বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন (তালা), বাংলাদশ খেলাফত মজলিস থেকে মোহাম্মদ শাহীনুর পাশা চৌধুরী (রিক্সা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষার( টেবিল ঘড়ি), খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ ( দেয়াল ঘড়ি), আমার বাংলাদেশ পার্টির সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল), স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমদ( ফুটবল)।
সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৪। এই আসনের মোট ভোটার- ৩ লাখ ৭২ হাজার ১৮৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১৩ জন এবং পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের-১৩ জন। ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে এই আসনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৫টি। আসনটিতে প্রার্থী রয়েছে ৫জন। যারমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে নুরুল ইসলাম (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে মো. সামছ উদ্দিন(দাঁড়িপাল্লা) বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন ( মোটরসাইকেল), জাতীয় পার্টির প্রার্থী থেকে মো. নাজমুল হুদা (লাঙ্গল),ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শহীদুল ইসলাম ( হাতপাখা) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এছাড়াও শিল্পনগরী ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলা নিয়ে সুনামগঞ্জ-৫ নির্বাচনী আসন। এই আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৬ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬হাজার ৮৩৬ জন ও পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৭০ হাজার ৬১৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের- হিজড়া-২ জন। ২২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা মিলে এই আসনে কেন্দ্র রয়েছে ১৭০টি। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন প্রার্থী। এর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে কলিম উদ্দিন আহমেদ(ধানের শীষ),বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম (দাঁড়িপাল্লা), খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ আব্দুল কাদির (দেয়াল ঘড়ি), জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম(লাঙ্গল) ও ন্যাশনাল পিপলস পাটির্ (এনপিপি) মো. আজিজুল হক (আম)।
মৌলভীবাজার: মৌলভীবাজার থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজারের ৪টি সংসদীয় আসনে ২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলায় ৫৫৪টি ভোট কেন্দ্র, পুরুষ ভোটার ৮ লক্ষ ২৪ হাজার ৪’শ ৫৪ জন, মহিলা ভোটার ৭ লক্ষ ৯০ হাজার ৪’শ ৭৪জন ভোটার রয়েছে। জেলায় ৭টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা ও ৬৭টি ইউনিয়ন রয়েছে।
নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারীরা হলেন, মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির আহেমদ রিয়াজ উদ্দিন, গণফ্রন্টের প্রার্থী মো: শরিফুল ইসলাম ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো: আব্দুন নুর।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো: শওকতুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী নওয়াব আলী আব্বাস খাঁন, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো: সায়েদ আলী, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মো: আব্দুল কুদ্দুছ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: ফজলুল হক খান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী, স্বতন্ত্র এম জিমিউর রহমান চৌধুরী ও জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো: আব্দুল মালিক।
মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর-রাজনগর) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম নাসের রহমান, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আহমদ বিলাল, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো: আব্দুল মান্নান ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি মনোনীত প্রার্থী জহর লাল দত্ত।
মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়া মধু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা শেখ নুরে আলম হামিদী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রীতম দাশ, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জরিফ হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ মনোনীত প্রার্থী মো: আবুল হাসান।
হবিগঞ্জ: জেলা প্রতিনিধি মনসুর উদ্দিন আহমদ ইকবাল জানান, এবারের নির্বাচনে জেলার ৪টি আসনে মোট ২৫ জন প্রার্থী লড়ছেন। এর মধ্যে হবিগঞ্জ-১ আসনে ৫ জন, হবিগঞ্জ-২ আসনে ৫ জন, হবিগঞ্জ-৩ আসনে ৬ জন ও হবিগঞ্জ-৪ আসনে ৯ জন রয়েছেন। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৬৯২ জন। এর মধ্যে ৯ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৬ জন পুরুষ, ৯ লাখ ৫ হাজার ২৪২ জন নারী ও ২৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। এ আসনে মোট ১৩৭ কেন্দ্র রয়েছে। ইতোমধ্যে হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ৭১টি, লাখাইয়ে ৩৬ ও শায়েস্তাগঞ্জে ৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা কিবরিয়া ও বিএনপির বিদ্রোহী শেখ সুজাত মিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: সাখাওয়াত হাসান জীবন ও ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী, খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জি কে গৌছ ও জামায়াত জোটের অধ্যক্ষ মহসিন আহমদ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির সৈয়দ মো: ফয়ছল, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের ও ইসলামিক ফ্রন্টের গিয়াস উদ্দিন তাহেরীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছেন।



