ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৪:১৫ অপরাহ্ন
এনামুল হক রেনু :
আজ পহেলা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। প্রকৃতিতে শীতের কিছুটা আবহ থাকলেও নেই তেমন কোনো দাপট। গাছে গাছে ফুটছে শিমুল, পলাশ আর কৃষ্ণচূড়া। আমের বনে মুকুলের ঘ্রাণ। ঋতুরাজ বসন্ত প্রকৃতিতে তার নিজস্ব উষ্ণতায় যেন প্রাণ সঞ্চার করছে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে আধুনিককালের বাউল-কবির মনকেও বার বার দুলিয়েছে ঋতুরাজ বসন্ত। বাংলা পঞ্জিকা বর্ষের শেষ ঋতু বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালিরা পালন করে ‘পহেলা ফাল্গুন-বসন্ত উৎসব’ হিসেবে।
কবিগুরুর ভাষায় বলা যায়, ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে/তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে/কোরো না বিড়ম্বিত তারে’। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথায়- ‘বসন্ত আজ আসলো ধরায়, ফুল ফুটেছে বনে বনে, শীতের হাওয়া পালিয়ে বেড়ায়, ফাল্গুনী মোর মন বনে’।
কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের বিখ্যাত পংক্তি ‘ফুল ফুটুক অর না-ই ফুটুক, আজ বসন্ত। আর একুশে পদকপ্রাপ্ত সিলেটের বাউল সাধক শাহ আবদুল করিমের গানে উঠে এসেছে ‘বসন্ত বাতাসে সইগো বসন্ত বাতাসে, বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে’।
আসলে বসন্ত মানে নতুন প্রাণের কলরব। মহামারি, নানা জঞ্জালেও আটকে নেই প্রকৃতির সাজগোজ।
কয়েক বছর ধরে বসন্তের মাতাল সমীরণে নতুন মাত্রা দিয়ে যাচ্ছে ‘ভালোবাসা দিবস’। গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলা বর্ষপঞ্জির সংস্কার করার পর থেকে বাংলার বসন্ত আর পাশ্চাত্যেও ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ আসছে একই দিনে। যেন আনন্দ-উপলক্ষ দুটি গলা ছেড়ে গাইছে, ‘আয় তবে সহচরী, হাতে হাতে ধরি ধরি/নাচিবি ঘিরি ঘিরি, গাহিবি গান’
হƒদয়ে বসন্তের উষ্ণতা নিয়ে আজ বাইরে পা দেবেন অনেকে। লাল আর বাসন্তী রঙে প্রকৃৃতির সঙ্গে নিজেদের সাজিয়ে আজ বসন্তের উচ্ছলতা ও উন্মাদনায় ভাসবে তারা। বসন্ত অনেক ফুলের বাহারে সজ্জিত হলেও গাঁদা ফুলের রংকেই এদিনে তাদের পোশাকে ধারণ করে তরুণ-তরুণীরা। খোঁপায় শোভা পায় গাঁদা ফুলের মালা। বসন্তের আনন্দযজ্ঞ থেকে বাদ যাবে না গ্রামীণ জীবনও। বসন্তকে তারা আরও নিবিড়ভাবে বরণ করে। বসন্তের বন্দনা আছে কবিতা, গান, নৃত্য আর চিত্রকলায়। সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শনেও বসন্ত ঠাঁই করে নিয়েছে তার আপন মহিমায়।
বাঙালির নিজস্ব সার্বজনীন প্রাণের এ উৎসব এখন গোটা বাঙালির কাছে ব্যাপক সমাদৃত।



