২৯৭ আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ
বিএনপি জোট ২১২ ও জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭ আসন, স্থগিত ২
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:০৯:০১ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : চট্টগ্রামের দুই আসনের ফলাফল আদালতের নির্দেশে স্থগিত থাকলেও বাকি ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফলে ভূমিধস বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনে দলটি দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিশ্চিত করে এককভাবে সরকার গঠনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, তীব্র প্রতিদ্বন্দি¦তাপূর্ণ এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইতিহাসের সবচেয়ে ভালো ফলাফল করে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের সচিব জানিয়েছেন, এই ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি জোট পেয়েছে ২১২ আসন। জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭ আসন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ৭টি আসনে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিজয়ী হয়েছে ১টি আসনে। এককভাবে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন, আর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি।
গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান।
ইসি সচিব বলেন, আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের সংসদীয় ফল প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে ওই আসনগুলোতে গণভোটের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় গণভোটের ফল শতকরা হিসাবে যুক্ত হয়েছে। এ কারণেই সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ হলেও গণভোটে তা ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়েছে।
ইসি সচিব জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি। বিপরীতে ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।
তিনি বলেন, সংশোধন ও পরিবর্তনের পক্ষে জনগণ স্পষ্ট মত দিয়েছে।
দলভিত্তিক আসন চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, খেলাফত মজলিস ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছেন।
ইসি সচিব বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে হার্ডকপি চূড়ান্ত ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে না। বার্তাশিটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা শেষে একসঙ্গে ডিজিটাল আদেশে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, তড়িঘড়ি করে কিছু বলা আমাদের দায়িত্বশীলতার মধ্যে পড়ে না। চূড়ান্ত শিট হাতে পেলেই গেজেট জারি হবে। এক ঘণ্টায় এলে এক ঘণ্টায়, দুই ঘণ্টায় এলে দুই ঘণ্টায়।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, দুই আসনের বিষয়ে কোনো ‘চিঠি’ নয়, বরং আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতেই ফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সকল কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আখতার আহমেদ বলেন, সবার সহযোগিতা ও ধৈর্যের মধ্য দিয়ে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই ধৈর্যের পরীক্ষায় সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে আদালতে মামলা চলমান থাকার কারণে শেরপুর-২ সহ চট্টগ্রামের ওই দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত রাখার বিষয়ে তিনটি পৃথক নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। বর্তমানে শেরপুর-২ আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হলেও ওই আসনের গেজেট আপাতত প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাকি দুই আসনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম ও পর্যালোচনা শেষে দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।



