মন্ত্রিসভায় সিলেট বিভাগের কারা স্থান পাচ্ছেন?
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:৫১:৩৩ অপরাহ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র ভূমিধ্বস বিজয়ের মন্ত্রিপরিষদ গঠন নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। সিলেট বিভাগ থেকে মন্ত্রিসভায় কারা স্থা ন পাচ্ছেন-এ নিয়ে বিএনপি নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও আগ্রহের শেষ নেই। নির্বাচিত সংসদ সদস্যের মধ্যে-সিলেট-১ আসনের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হক চৌধুরী, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের এম নাসের রহমান, হবিগঞ্জ-১ আসনের ড. রেজা কিবরিয়া ও হবিগঞ্জ-৩ আসনের জি কে গৌছের নাম মন্ত্রি-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া, দলের প্রতি ‘সেক্রিফাইস’-এর জন্য টেকনোক্রেট কোটায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব(আন্তর্জাতিক) হুমায়ুন কবির, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী ও সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সিলেট জেলার ছয়টি আসনের সমন্বয়ক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসনে স্বাধীনতার পর থেকেই যে প্রার্থী বিজয়ী হন, তার দল সরকার গঠন করে-এমন একটি মিথ প্রচলিত রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এ আসনে এবার বিজয়ী হয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার পিতা ১৯৯১ সালে সিলেট বিভাগের বিএনপি দলীয় একমাত্র এমপি ছিলেন। প্রতি সংসদ নির্বাচনের পর দেখা গেছে, সিলেট-১ আসনে জয়ী ব্যক্তি মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। এবারও এ আসনের এমপি মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন বলে ধারণা নেতা-কর্মীদের।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দুই দুই বারের মেয়র ছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থীর চেয়ে তিনি প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার সমর্থক-শুভাকাঙ্খীদের ধারণা, তিনিও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
সিলেট-২ (বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ) এবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। এ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন-বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির। প্রার্থিতা নিয়ে দলের নেতা-কর্মীরাও বিভক্ত হয়ে পড়েন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলের হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান হুমায়ুন কবির। এ কারণে টেকনোক্রেট কোটায় তাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া হতে পারে।
বিএনপির মন্ত্রীসভায় ঠাই পেতে যাচ্ছেন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী। তিনি টেকনোক্রেট কোটায় প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী পদ মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা হতে পারেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
ড. মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি। আসনটিতে দলের মনোনয়ন পেয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। সিলেটের বিভিন্ন আসনে বিএনপির প্রার্থীদের জন্য প্রচারণায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন জিয়া পরিবারের বিশ্বস্তজন ড. এনামুল হক চৌধুরী।
সিলেট-৩ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। কিন্তু, এ আসনে দলের পক্ষ থেকে তার পরিবর্তে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ মালিককে মনোনয়ন দেয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে দলের সিলেট জেলার কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব দেয়া হয়। দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে তিনি মাঠে ময়দানে চষে বেড়ান। এর ফলও আসে। সিলেট জেলার ৫টি আসনে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫ প্রার্থীই জয়ী হন। দলের নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা-দলের প্রতি এই সেক্রিফাইসের জন্য দল হয়তো তাকে মূল্যায়ণ করবে। তাদের বক্তব্য হচ্ছে- সাইফুর রহমানের সাথে কাজ করার সুবাদে তাঁর ব্যাপক প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের সাথেও তার সুসম্পর্ক বিদ্যমান। মন্ত্রিসভায় স্থান পেলে তিনি তার লব্ধ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারবেন বলে তার সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীদের ধারণা।
নবীগঞ্জ-বাহুবল উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-১ আসনে এবার বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া। তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন একজন অর্থনীতিবিদ। তাকেও মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া হতে পারে বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে।
এছাড়া, বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জিকে গৌছের নামও এ তালিকায় রয়েছে।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি ও দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন এ নিয়ে চার বার এমপি হয়েছেন। দলের হাইকমান্ডের সাথেও তার ভাল যোগাযোগ রয়েছে। এ কারণে তার নামও আলোচনায় রয়েছে।
যোগাযোগ করা হলে দলের একজন সিনিয়র নেতা প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া না দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ দলের চেয়ারম্যান ও সংসদ নেতার এখতিয়ার। তাঁর ইচ্ছায়ই সবকিছু প্রতিফলিত হবে। এখানে ব্যক্তিগত ইচ্ছার কোন প্রতিফলন ঘটবে না।



