তারেক রহমান সরকারের যাত্রা শুরু আজ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩২:১৯ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজ মঙ্গলবার শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন ও কণ্টকাকীর্ণ রাজনৈতিক পথ পাড়ি দিয়ে এবং জুলাই অভ্যুত্থানের পর ভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি এক ব্যতিক্রমী ঘটনা। অন্যদিকে, দেশ স্বাধীনের পর, বিশেষত সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে শেষ হতে যাচ্ছে দীর্ঘ এক অধ্যায়ের। রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার নেতৃত্বে ঘটছে প্রজন্মের পরিবর্তন। যাত্রা শুরু হচ্ছে নতুন প্রজন্মের তারেক রহমান সরকারের। আর এর মধ্য দিয়ে কার্যত বাংলাদেশ প্রবেশ করছে নতুন এক অধ্যায়ে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আজ সকাল ১০টায় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ পাঠ করানো হবে। এরপর আজই বিকাল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে।
নির্বাচিতদের সকালে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আর বিকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন।
সংবিধান অনুসারে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়।
শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির গেজেট প্রকাশ করেছে। এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম মন্ত্রী ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বেশ কয়েক জন বিদেশি অতিথি। ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও
হাইকমিশনারও যোগ দেবেন এতে। সব মিলিয়ে দেশি-বিদেশি প্রায় ১ হাজার ২০০ অতিথি যোগ দিচ্ছেন আজকের শপথ অনুষ্ঠানে। নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ ঘিরে ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার নির্দেশ দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে ইসি সূত্র জানায়।
অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
ইসি সচিব জানান, ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দু’টি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ২৯৭টি আসনের প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর শনিবার থেকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়।



