আন্তর্জাতিক রসায়ন সম্মেলনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন
ড. নূর উদ্দিন আহমদ :
গত বছর (২০২৫) আমার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের দুটি উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমটি হচ্ছে আমেরিকান ক্যামিকেল সোসাইটি (ACS) কর্তৃক আয়োজিত ACS Fall Conference 2025 -এ অংশগ্রহণ, যেটি অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে। দ্বিতীয়টি হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্রের চারটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার ও ক্যাম্পাস পরিদর্শন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- Massachusetts Institute of Technology (MIT), Harvard University, Johns Hopkins University Ges The City University of New York (Queens College Campus).
ACS Conference কে ধরা হয় রসায়ন বিজ্ঞানের বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী বৈজ্ঞানিক মিলনমেলা (Scientific Conference)| ACS Conference -এ বিশ্বের বিজ্ঞান ও গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিবর্গ, নীতি নির্ধারকগণ এবং বাজারমুখী উদ্ভাবনের অগ্রদূত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মিলিত হন এবং পারস্পরিক জ্ঞান ও অংশীদারিত্ব বিনিময় করেন। এই কনফারেন্সে আমি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় তথা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে খুবই আনন্দিত। আমার উপস্থাপিত গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল- কার্বন ন্যানো টিউবকে বিশেষ রাসায়নিক রূপান্তরের মাধ্যমে উন্নতমানের অগ্নিসহনীয় বস্ত্র (Fire retardant textiles) উদ্ভাবন করা যা বাংলাদেশে একটি উৎপাদনশীল ও বাজারমুখী গবেষণা। এই কনফারেন্সে বিশ্বের অনেক বৈজ্ঞানিক ও গবেষকদের সাথে আমার পরিচয় হয় যা পরবর্তীতে গবেষণা কাজে সহায়ক হবে। তবে আমার কাছে কনফারেন্সের মূল আকর্ষণ ছিল- MIT এর অধ্যাপক এবং Nobel Laureate মউঞ্জি বাওন্দী (Moungi Bawendi) -এর বক্তব্য শোনা এবং পরবর্তীতে তার ল্যাব পরিদর্শন করা।
বলাবাহুল্য, অধ্যাপক মউঞ্জি ২০২৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন বিশেষ বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত কোয়ান্টাম ডট (Quantum Dots) নামক ন্যানো বস্তু (Nano materials) উদ্ভাবন করার জন্য।
পাঁচদিন ব্যাপী উক্ত কনফারেন্স সম্পন্ন করে আমি আমন্ত্রিত-গবেষক হিসেবে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করি। তবে এই প্রবন্ধে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ে আলোচনা না করে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু কম আলোচ্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাই। তাহলো, কিভাবে একটি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত করতে পারে!
যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের নান্দনিকতা একটি আকষনীয়, অনুপ্রেরণাদায়ক ও মনোরম শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি সুন্দর ক্যাম্পাস সাধারণত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আধুনিক স্থাপত্যের মিশ্রণে গঠিত হয়। মানানসই গাছ, রঙিন ফুলের বাগান, খোলা সবুজ প্রান্তর এবং শান্ত লেক বা ফোয়ারা ক্যাম্পাসের পরিবেশকে করে তোলে স্নিগ্ধ ও সতেজ। ভবনগুলো সাধারণত সুন্দরভাবে নকশা করা হয়, যেখানে শিল্পসম্মত নকশা, পরিচ্ছন্ন পথ, বসার বেঞ্চ ও আলো সজ্জা থাকে। পুরনো ঐতিহাসিক স্থাপনা ও নতুন আধুনিক ভবনের সমন্বয় ক্যাম্পাসে এক বিশেষ আকর্ষণ যোগ করে। দেয়ালচিত্র, ভাস্কর্য ও শিল্পকর্মগুলো শিক্ষার ও সৃজনশীলতার চেতনা প্রকাশ করে। সব মিলিয়ে, ক্যাম্পাসের নান্দনিক পরিবেশ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মনে প্রশান্তি, প্রেরণা এবং পারসপরিক সম্পর্কের একটি অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বার প্রায়ই ক্যাম্পাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও প্রতীকী অংশ হয়ে থাকে। এটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং দর্শনার্থীদের স্বাগত জানানোর মূল প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করে। সাধারণত প্রবেশদ্বারটি সহজে অনুমেয় শৈল্পিক নকশায় নির্মিত হয়, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও প্রতীক গর্বের সঙ্গে প্রদর্শিত থাকে। প্রবেশদ্বারের চারপাশে নিরাপত্তা পোস্ট, বাগান এবং কখনও কখনও পতাকাদণ্ডও থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বার এমন হওয়া উচিত যা তার মর্যাদা, ইতিহাস ও পরিচয়কে প্রতিফলিত করে। প্রায় তিন যুগ বয়সের আমাদের শাহজালাল বিজ্ঞানের ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে একটি সুন্দর ল্যান্ডস্কেপ যা পাহাড়, সমতলভূমি এবং জলাশয় নিয়ে গঠিত। জাতীয় পরিসরে শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সুনাম রয়েছে তবে ক্যাম্পাসের নান্দনিকতা বর্ধিতকরণের অনেক সুযোগ রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়টির।
লেখক : প্রফেসর, রসায়ন বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।


