একুশের প্রথম প্রহরে
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৪৬:০৩ অপরাহ্ন
রোমেনা রোজী :
কৃষ্ণচুড়ার লাল আমাদের কতটা বিমোহিত করে? কতটা আনমনা হই পলাশের রূপ দেখে! পিচঢালা কালো পথ যখন রক্ত লাল কৃষ্ণচুড়ায় ঢেকে যায়, পথ চলতে কি একবারও মনে হয়, এই পথেই মিশে আছে সালাম, বরকতের রক্ত?
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’র প্রথম প্রহর বছর ঘুরে প্রতিবার আমাদের কাছে আসে লক্ষ ফুলের ভালবাসা আর শ্রদ্ধা নিবেদনে একাকার অমলিন ভাবগাম্ভীর্যে, একুশের প্রথম প্রহরকে বর্ণাঢ্য বরণের পূর্ব প্রস্তুতি হয় চূড়ান্ত।
‘ওরা আমার মুখের ভাষা/ কাইড়া নিতে চায়।/ ওরা, কথায় কথায় শিকল পরায়/ আমার হাতে পায়।’
ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি, ভাষার আন্দোলনে গণমানুষকে উজ্জীবিত ও সাহসী করার এমন শুদ্ধ উচ্চারণের মধ্য দিয়েই আসে ফেব্রুয়ারি। মহান সেইসব শহীদদেও প্রতি শ্রদ্ধা, সালাম। যেকোন মিছিল মানেই স্লোগানে স্লোগানে প্রতিবাদে-প্রতিরোধে ফেটে পড়া এক শব্দবাজ সক্রিয়তা। কিন্তু একুশমুখী শহীদ মিনারগামী মিছিলটি একেবারেই নীরব- এটির নামই মৌন মিছিল। মৌনতার শক্তি কেমন? উত্তর- ‘অনেক কথা যায় যে বলা, আবার কোন কথা না বলি।’ তাই বুঝি একুশে মৌন মিছিলের সারথীদের মুখে কোন কথা ফোটে না। হাতে হাতে ফোটে শুধু ফুল আর বর্ণপ্রেমী নানা বরণ ব্যানার-ফেস্টুন-প্ল্যাকার্ড। নানারকম নামের ফুল গোলাপ, গাঁদা, কৃষ্ণচূড়া, রজনীগন্ধা- আরও কত কি! এই মিছিলে জড়ো হয় শিশু-কিশোর-যুবা প্রৌঢ়-বৃদ্ধ সবাই। অগ্রজের কাছ থেকে নতুনেরা শিখে নেয় বাঙালির ভাষা আন্দোলনের রক্তলাল ইতিহাস- শহীদ মিনারের অশ্রুসজল জন্মগাঁথা।
১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দীন ঢাকার পল্টন ময়দানে এক জনসভায় ঘোষণা দিলেন, ‘একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ এই অন্যায় ও অযৌক্তিক দাবির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ল। কারণ তখন সারা পাকিস্তানে উর্দুভাষীদের সংখ্যা ছিল মাত্র ৭ শতাংশের কিছু বেশি। পক্ষান্তরে বাংলাভাষী ছিল ৫৬ শতাংশ। বাকিরা ছিল সিন্ধি, পস্তু ও অন্যান্য ভাষাভাষী। ফলে ছাত্রদের সাথে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী ও অন্যান্য ব্যক্তিত্বের সমন্বয়ে গঠিত ও সংগঠিত হয় ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ।’
সংগঠনের পক্ষ থেকে একুশে ফেব্রুয়ারিকে ‘ভাষা দিবস’ ঘোষণা করে সমগ্র পূর্ববাংলায় সর্বাত্মক ধর্মঘট, শোভাযাত্রা ও জনসভার আহ্বান জানানো হয়। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ আন্দোলনের আগুন দাবানল হয়ে ছড়িয়ে গেলো সবখানে। শাসক দল ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকেই ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু কালাকানুন ভঙ্গ করে পরদিন সকালেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সভাস্থলে জড়ো হলো ২০-২৫ হাজার ছাত্র। যোগ দিল সাধারণ জনতা। স্লোগানে স্লোগানে কেঁপে উঠল চারদিক। টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ শেষে বিকেল তিনটার পর বেপরোয়া গুলি ছুড়ল পুলিশ। লুটিয়ে পড়ল রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারের মতো আরও বহু দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতা। তাঁদের সম্মানে ও স্মরণে পরদিনই ঘটনাস্থলে নির্মিত হলো শহীদ মিনার। নিজের ভাষার জন্য এতগুলো তাজা প্রাণ এভাবে আত্মাহুতি দিয়েছে, পৃথিবীতে আর কোন দেশে এরকম ঘটে নি।
১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের পর বাঙালির প্রতি যে অন্যায় ও বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করেছিল পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠি, ’৫২-র ভাষা আন্দোলন ছিল তারই একটি প্রবল প্রতিবাদ। শাসকের বুলেটও তা থামাতে পারেনি। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, পরবর্তীতে সামরিক স্বৈরাচার এবং শোষণ বঞ্চনা বিরোধী আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে বাঙালিকে শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে একুশের চেতনা। বাঙালি জাতীয়তাবোধের চেতনা থেকে উৎসারিত সে আন্দোলন ক্রমে রূপ নেয় স্বাধীনতার আন্দোলনে। আর নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য ছিনিয়ে আনে। তাই একুশে ফেব্রুয়ারির যে চেতনা আমাদের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে সাহায্য করেছে, সেই দিনটিকে কেবল আনুষ্ঠানিক নয়, প্রজন্মান্তরে বুকে ধারণ করতে হবে।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়ে ছেষট্টির ছয় দফা। তারপর ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের হাত ধরে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশ। এ জন্যই বাঙালীর লড়াইয়ের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন এক অনিবার্য মাইল ফলক। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনে এত গুরুত্বপূর্ণ দিন। একুশের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের সব শহরের সমস্ত সড়ক মৌন মিছিলের স্রোতস্বিনী নদী। শহীদ বেদীতে গা জড়াজড়ি করে ফুলেরাও একে একে ঘুমিয়ে যায়। শুধু একা জেগে থাকে শহীদ মিনার- আমাদের জনমদুখিনী মা। কেননা মা জানে, আগামী ভোরের আগেই শেষরাতের যে কোন সময়ে তার সূর্য সন্তানদের অমর আত্মারা আসবে নীরবে।
পৃথিবীর সব দেশে সবার কাছেই প্রিয় তাদের মাতৃভাষা। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। এই ভাষাকে নিয়ে আমরা গর্ব করি। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় চরম মূল্য দিতে হয়েছে আমাদের। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতি মাতৃভাষার মর্যাদা ও অধিকার আদায়ে প্রাণ দিয়েছে। রচিত হয়েছে অভূতপূর্ব ইতিহাস। বুকের রক্ত দিয়ে সালাম, সফিক, বরকত, জব্বার, রফিক যে ইতিহাস রচনা করেছেন, সেটিই হয়ে উঠেছে বাঙালির অধিকার আদায়ের, মাথা নত না করার চির প্রেরণা। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু একটি দিন নয়, বাঙালির আবেগ, ভালোবাসা, আত্মপরিচয়ের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়া এক প্রেরণার উৎস।
ভাষা আন্দোলন আমাদের চেতনার ইতিহাস। ভাষার অধিকার আদায়ের সেই রাজপথ রঞ্জিত করা ইতিহাস এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আমাদের একুশ এখন বিশ্বের। কিন্তু কেমন ছিল একুশের প্রথম প্রহর। কিংবা একুশের সেই অগ্নিস্ফুলিঙ্গে প্রথম যে বারুদের সংযোজন কেমন ছিল সেই বিদ্রোহের অনুষঙ্গ। ভাষা আন্দোলনের প্রথম লিফলেট প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি গুলি বর্ষণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে। লিফলেটটির আকার ছিল প্লেট অনুযায়ী ১/১৬। গুলি বর্ষণের অল্প কিছুক্ষণ পরই হাসান হাফিজুর রহমান, আমীর আলীসহ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের উল্টোদিকে ক্যাপিটাল প্রেসে চলে যান। সেখানে গিয়ে হাসান হাফিজুর রহমান লিফলেটের খসড়া তৈরি করেন। দুই তিন ঘণ্টার মধ্যেই ‘মন্ত্রী মফিজউদ্দীনের আদেশে গুলি’ শীর্ষক লিফলেটটি ছাপার কাজ সম্পন্ন হয়। হাসান হাফিজুর রহমান লিফলেটটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আসেন। প্রায় দুই/তিন হাজার লিফলেট ছাপানো হয়েছিল। উৎসাহী ছাত্ররাই এ লিফলেটগুলো চারদিকে ছড়িয়ে দেয়। চকবাজার, নাজিরা বাজার এবং ঢাকার অন্য সব এলাকাতেও লিফলেটগুলো কর্মীদের মাধ্যমে ঐদিনই ছড়িয়ে দেয়া হয়।
একুশের প্রথম কবিতার জনক মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকার গুলি বর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনিই প্রথম কবিতা লেখেন। তিনি সে সময় চট্টগ্রামে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন। একুশে ফেব্রুয়ারির ঠিক দুদিন আগে হঠাৎ তিনি জলবসন্তে আক্রান্ত হন। ফলে একুশ এবং তৎপরবর্তী সময়ের উত্তাল আন্দোলনে তিনি অংশ নিতে পারেননি। সেই বিঃক্ষুব্ধ মনের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন কবিতার মাধ্যমে। মাহবুব-উল-আলম রচিত ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ শীর্ষক কবিতাটি ভাষা-আন্দোলন তথা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি (মতান্তরে ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে বিশাল জনসভায় ৫০ হাজার লোকের উপস্থিতিতে কবিতাটি পাঠ করেন চৌধুরী হারুনুর রশীদ। কবিতাটি প্রকাশের সাথে সাথে সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়। কবিতাটি মুদ্রণের দায়ে প্রকাশক কামাল উদ্দিন আহমদ, লেখক মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী ও জনসভায় এর প্রথম পাঠক চৌধুরী হারুনুর রশীদ এবং মুদ্রক দবির আহমেদ চৌধুরীর নামে হুলিয়া জারি হয় এবং পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’- আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত একুশের এই গানটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে রচিত ও সুরারোপিত একটি কালজয়ী দেশাত্মবোধক গান।
একুশের গানের প্রথম কয়েক ছত্র প্রকাশিত হয়েছিল একুশের প্রথম লিফলেটে। লিফলেটের শিরোনাম ছিল ‘বিপ্লবের কোদাল দিয়ে আমরা অত্যাচারী, শাসকগোষ্ঠীর কবর রচনা করব’। প্রায় ২-৩ হাজার লিফলেট ছাপানো হয়েছিল। উৎসাহী ছাত্ররাই এ লিফলেটগুলো চারদিকে ছড়িয়ে দেন। চকবাজার, নাজিরা বাজার এবং ঢাকার অন্য সব এলাকাতেও লিফলেটগুলো কর্মীদের মাধ্যমে ওইদিনই ছড়িয়ে দেওয়া হয়। লিফলেটে এই কবিতাটির কয়েক ছত্র প্রকাশিত হলেও তখন লেখকের নাম প্রকাশিত হয়নি। অবশ্য ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারী’ সংকলনে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর নাম ও একুশের গান শিরোনামে কবিতাটি প্রকাশিত হয়। একুশের গানে প্রথম সুর দিয়েছিলেন আব্দুল লতিফ।
গানটি প্রথম গাওয়া হয় ১৯৫৩ সালের ঢাকা কলেজের ছাত্র সংসদের অভিষেক অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানটি হয়েছিল গুলিস্তানের ব্রিটেনিকা হলে। যেখানে গানটি গেয়েছিলেন আব্দুল লতিফ এবং আতিকুল ইসলাম। পরে আব্দুল লতিফ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এটি গেয়েছিলেন।
ওই বছর ঢাকা কলেজের ছাত্ররা কলেজে শহীদ মিনার স্থাপনের সময় গানটি গেয়েছিলেন। এই গান গাওয়ার অভিযোগে কলেজ থেকে ১১ ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়। পুলিশ গ্রেপ্তার করে সুরকার আব্দুল লতিফকে। পরে মওলানা ভাসানীর অনুরোধে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রতিবাদ জানালে ছাত্রদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় প্রশাসন।
১৯৫৪ সালে প্রখ্যাত সুরকার আলতাফ মাহমুদ গানটিতে সুরারোপ করেন। ১৯৫৪ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রভাতফেরিতে আলতাফ মাহমুদের সুরে গাওয়া হয় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’। ধীরে ধীরে এই সুরটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। এটি বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ ও সাহসের প্রতীক। গানটি প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসে প্রভাতফেরির অপরিহার্য অংশ, যা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গাওয়া হয়। এই গানটি বাঙালির জাতিসত্তা, ভাষা আন্দোলন এবং পরবর্তী স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
বাঙালির ত্যাগের মহিমা স্বীকার করে, সেই ত্যাগের স্মৃতিকে অক্ষয় করে রাখার জন্য ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। তাই একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাঙালির কাছেই স্মরণীয় নয়, সমস্ত বিশ্বে এদিনটি পালিত হয় যথাযথ মর্যাদাসহকারে। সারা বিশ্বই আজ এই দিবসটি পালন করে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মাতৃভাষার চর্চা ও বিকাশের ক্ষেত্রে আমরা এখনো অনেক পিছিয়ে আছি, যা ভাষা আন্দোলনের চেতনার বিপরীত। তবে আদেশ-নির্দেশ দিয়ে সেটি করা সম্ভব বলে বিজ্ঞজনেরা মনে করেন না। এ জন্য ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেককে উপলব্ধি করতে হবে। পরিভাষা, অভিধানসহ সম্ভাব্য সব উপকরণ সহজলভ্য করার মাধ্যমে ভাষাচর্চার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অকারণে বিদেশি ভাষা ব্যবহারের অপচেষ্টাকে নিরুৎসাহিত করতে হবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, মানুষ মাতৃভাষা ছাড়া অন্যকোনো ভাষা শিখবে না বা চর্চা করবে না। বিশ্বায়নের এই যুগে এমনটি চিন্তা করা যায় না। প্রয়োজন অনুযায়ী, অন্যান্য ভাষাও শিখতে হবে। তবে মাতৃভাষার সুরক্ষা, বিকাশ এবং এর অবাধ অনুশীলনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তা না হলে জাতি হিসেবে ক্রমে আমরা পিছিয়ে পড়ব।
লেখক : কলামিস্ট।



