সিলেটে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ দিবস পালিত
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:১৬:৫৯ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : সিলেটে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার সকাল ১১টায় সিলেট শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিলেট জেলা প্রশাসন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বাংলা ভাষার স্রষ্টা ও সাহিত্য সাধকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বাংলা ভাষা আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। ভাষার সক্রিয়তা ও বিশুদ্ধতা রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারে নানা সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি হলেও ভাষার শুদ্ধতা ও স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখতে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। একসময় সংস্কৃত ও সাধু ভাষার প্রচলন থাকলেও ভাষাকে সহজ ও প্রাঞ্জল করতে চলিত রূপের ব্যবহার শুরু হয়; বর্তমানে অফিস-আদালতসহ সর্বত্র প্রমিত চলিত ভাষার ব্যবহার বাড়ছে, যা বাংলা ভাষার বিকাশে সহায়ক।
তিনি আরও বলেন, বাংলা ভাষার প্রধান দূত হচ্ছি আমরা বাঙালিরা। পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাই না কেন, বাংলা ভাষার ব্যবহার অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আন্তর্জাতিক মিশনে কর্মরত সদস্যরা বাংলা ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে আসছেন। বিদেশির মুখে অস্পষ্টভাবে হলেও বাংলা ভাষা শুনতে পাওয়া আমাদের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়। ভাষার প্রতি আমাদের আবেগ, আত্মত্যাগ ও সৃজনশীল ঐতিহ্যই এ ভাষাকে চিরস্থায়ী করে রাখবে উল্লেখ করে ভাষার জন্য রাজপথে জীবনদানকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি জীবনের সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি মো. আনোয়ারুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস শহিদ খান এবং আবৃত্তি শিল্পী সালেহ আহমদ খসরু।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, মায়ের ভাষায় মনের ভাব প্রকাশের যে আবেগ, তা অন্য কোনো ভাষায় পাওয়া যায় না। মাতৃভাষা টিকিয়ে রাখতে সর্বক্ষেত্রে ভাষার প্রয়োগ বাড়াতে হবে এবং প্রমিত উচ্চারণ চর্চা জোরদার করতে হবে। তিনি বলেন, কেবল ভিনদেশি ভাষা সুন্দরভাবে বলা স্মার্টনেস নয়; মাতৃভাষা সঠিকভাবে বলতে পারাও স্মার্টনেসের পরিচায়ক। শিশুদের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই সঠিক বাংলা উচ্চারণ শেখাতে হবে।
অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এর আগে শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই শহিদ মিনারে জড়ো হতে থাকেন নানা শেণিপেশার মানুষ। ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২ টা ১ মিনিট থেকে শুরু হয় পুষ্পস্তবক অর্পণ। এতে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধাগণ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে সকাল আটটায় প্রভাতফেরি আয়োজন করে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ। রিকাবীবাজার কবি নজরুল অডিটোরিয়াম থেকে প্রভাতফেরি এসে মিলিত হয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে।



