সিলেটের নতুন দুই মন্ত্রী প্রত্যাশা পূরণে কতটা প্রস্তুত?
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:০২:১৩ অপরাহ্ন
আহমাদ সেলিম :
“দ্বিতীয় লণ্ডন” বলা হয় সিলেটকে। বলার পেছনে যুক্তিও রয়েছে। কিন্তু, বাতির নিচে কেবল কৃত্রিম অন্ধকার ভিড় করেছে যুগের পর যুগ। দূরের মানুষের চোখে সেই অন্ধকার ভাসে না। বাস্তবতা, সিলেট তার ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে সবসময়। বর্তমানে সেই অন্ধকার পেরিয়ে আলো ঝলমল সিলেট দেখতে চায় মানুষ। সেটি সিলেটের বাসিন্দা, নতুন দুই মন্ত্রী আবার জাগিয়ে তুলেছেন জনমনে।
প্রবাসী অধ্যুষিত প্রাচীন শহর সিলেট। দেশের জন্মের পর ছোট ছিমছাম এই শহর দিন দিন ‘ঘিঞ্জি’ হয়ে যাচ্ছে। অথচ ইচ্ছে করলে সিলেটকে দেশের সুন্দরতম শহরে পরিণত করা সম্ভব। শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণে সেটি আলোর মুখ দেখেনি।
ধ্বংসের পর সৃষ্টি হয়। সিলেটও নতুন করে সৃষ্টি হবে। সেই আশার প্রদীপ জে¦লে দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং শ্রম-কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
দুজনই সিলেটি। দুজনই প্রথম মন্ত্রী। নিজেদের যোগ্যতায় দুজনই সিলেটবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছেন। ইচ্ছে করলে এই দুজনের হাত ধরে নতুন ইতিহাসের জন্ম হবে সিলেটে। সেই সন্ধিক্ষণও সিলেটবাসীর সামনে।
অপার সম্ভাবনার মাটি সিলেট। এখানে পানিতে ফুল ফুটে। সেই ফুলের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে বিদেশ থেকেও মানুষ আসে। সবুজ চা বাগানের ভেতর সমুদ্রের মতো উচু-নিচু টিলা। কয়েকশ’ বছর ধরে দেখেও পর্যটকদের আকর্ষণ ফুরায় না। সেই শহরের প্রতি অযত্ন অবহেলা, সিলেটবাসীর সহ্য হয় না।
অথচ সেটিই হয়েছে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে কয়েক ডজন এমপি, মন্ত্রী পেলেও সিলেট নগরীর মৌলিক কোনো পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়নি। যা হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় সিকিভাগ।
দুই মন্ত্রী-ই দক্ষতায় পরিপক্ব। দুজনই কাজপাগল। দুজনই সলভেন্ট(সচ্ছল) পরিবারের সন্তান। সিলেটকে ঢেলে সাজানোর সক্ষমতা তাদের আছে। সেই চ্যালেঞ্জ এখন তাদের সামনে। কেবল সময়ের অপেক্ষামাত্র।
স্বপ্ন দেখা অপরাধ নয়। এর জন্য ভ্যাটও দিতে হয় না। সিলেটের কোটি মানুষ স্বপ্নবাজ দুই মন্ত্রীকে নিয়ে নতুন করে আবার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন। তিনবেলা ভাত নয়, তারা চান সিলেটের প্রকৃত উন্নয়ন। সবার আশা, এই দুই কৃতিসন্তানের হাত ধরে সিলেট একটি আদর্শ শহর হবে। সিলেট স্বমহিমায় আবার জেগে উঠবে। সবার আশা সিলেটের পরিবেশ, প্রতিবেশের রূপান্তর হবে। ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সিলেটের বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে।
অবশ্য এর জন্য নতুন একটা নকশা হবে। সেই নকশার ভেতর দিয়ে নতুন করে প্রবহমান হবে পূণ্যভূমি। নদী, খাল, পুকুর, জলাশয়, পাড়া-মহল্লা, অলিগলিতে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগবে। কয়েকশ’ বছরের পুরনো ছড়াগুলো আবার গতি পাবে, ফুটপাত দখলমুক্ত হবে, ফিরে আসবে পুরনো ঐতিহ্য।
সিলেটের সাথে প্রাচীনকাল থেকে সম্প্রীতি শব্দটি যুক্ত রয়েছে। উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এই সম্প্রীতি বজায় থাকবে-এমন প্রত্যাশা সবার।
ই ইউ শহীদুল ইসলাম শাহীন, একজন আইনজীবী এবং সমাজসচেতন মানুষ। তার ভাষ্য, ‘দুজনই সিলেটের জন্য আন্তরিক। আরিফুল হক চৌধুরী দুইবার মেয়র ছিলেন। অন্যজন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এর বাবা খন্দকার আব্দুল মালিক এই আসন থেকে বার বার এমপি হয়েছেন। সেই জায়গা থেকে প্রত্যাশাটা বেশী।’
তিনি বলেন, ‘পানি এবং বর্জ্য সমস্যা’র জাতীয় মানের কোনো পরিবর্তন হয়নি সিলেটে। নতুন দুই মন্ত্রীর বদৌলতে হয়তো সেই ঘাটতিগুলো পূরণ হবে।’ বিষয়টি নিয়ে কথা হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম এর সাথে। তিনিও বেশ আশাবাদী সিলেট নগরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে।
বলেছেন, ‘দুইজনই ফুল মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সাথেও দুজনের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। ঐক্যবদ্ধ হলে সেটি সম্ভব।’ সাধারণ মানুষ দুই মন্ত্রীকে নিয়ে কি ভাবছেন? জানতে চাইলে কথা হয় হারিছ মিয়ার সাথে। তিনি চল্লিশ বছর ধরে এই শহরে রিকসা চালাচ্ছেন। বলেন, ‘আমার বাড়ি রাজশাহীতে। সেখানে সিলেটের মতো প্রবাসী মানুষ নাই। কিন্তু সিলেটে থেকেও ওইরকম উন্নয়ন নাই।
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির অত্যন্ত আন্তরিক উন্নয়নের প্রশ্নে। তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিটি কদম হবে সিলেটের কল্যাণে। সিলেটের প্রতি বাবার মতো আমারও দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমি নির্বাচনের আগে যেখাবে সিলেট চষে বেড়িয়েছি, একইভাবে এই অঞ্চলের উন্নয়নে মানুষের কাছাকাছি থাকবো।’
শ্রম-কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী অত্যন্ত আগ্রহ প্রকাশ করেন সিলেটের উন্নয়নে। তিনি বলেন, ‘আমি মেয়র থাকাকালেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। মন্ত্রী হবারও একদিনও বসে থাকিনি। জনগণের প্রতি আমার ওয়াদা রয়েছে। সেই জায়গা থেকে দূরে থাকতে পারবো না। আজও (শনিবার) ওসমানী বিমানবন্দরে সিলেট-ম্যানচেষ্টার ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে কথা হয়েছে। সপ্তাহে অন্তত একদিন চালুর ব্যাপারে আমি আশাবাদী। সিলেটের সব ব্যাপারে আমার একইভাবে আন্তরিকতা থাকবে।’




