যানজটে অবরুদ্ধ শ্রীমঙ্গল- ভোগান্তিতে জনজীবন, ক্ষতিগ্রস্ত পর্যটন নগরীর ভাবমূর্তি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল আজ নিত্যদিনের দীর্ঘ যানজটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে রাত- দিনের প্রায় প্রতিটি সময়েই শহরের প্রধান সড়কগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। যে পথ পাড়ি দিতে স্বাভাবিক সময়ে কয়েক মিনিট লাগার কথা, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে মানুষকে। এতে করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
এই যানজটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসমুখী কর্মজীবী মানুষ, অসুস্থ রোগী ও সাধারণ পথচারীরা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, ব্যস্ত বাজার এলাকা এবং প্রবেশপথগুলোতে যানজট যেন নিয়মিত দৃশ্য। অপরিকল্পিত পার্কিং, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা, রাস্তার ওপর অস্থায়ী দোকান বসানো, অবৈধ অটোরিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা-এসব কারণ মিলেই পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। যানজট শুধু সময় নষ্টই করছে না, বাড়িয়ে দিচ্ছে মানসিক চাপ এবং ব্যাহত করছে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জরুরি সেবা কার্যক্রম। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও যানজটে আটকে পড়ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শ্রীমঙ্গল ট্রাফিক সার্জেন্ট (টিআই) হাসান আল মামুন বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক যান এখানে চলে এসেছে। পর্যটকেরা রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে কেনাকাটা করায় যানজট বাড়ছে। এছাড়া মালবাহী ট্রাক ও পিকআপ সেন্ট্রাল রোডে ঢোকার সময়ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজার জেলার প্রবেশ ও প্রস্থানের গেটওয়ে। মূল সড়কগুলো সরু হওয়ায় এবং পর্যটকের চাপ বাড়ায় যানজট লেগেই থাকে। যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে শহরের যানজট অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে শ্রীমঙ্গলের যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে, তাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই বিশৃঙ্খল যানব্যবস্থার কারণে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা যানজটে পড়ে বিরক্তি প্রকাশ করছেন, যা পর্যটন খাতের জন্যও নেতিবাচক বার্তা বহন করছে বলে মন্তব্য করেছেন।




