পুলিশের ওয়াকিটকি ও প্রাইভেট কার সহ আটক ২, এসআই বরখাস্ত
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:০০:৩৫ অপরাহ্ন
কোম্পানীগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা: সিলেটে পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্টে একটি প্রাইভেট কারে পুলিশের ওয়াকিটকি ও চাইনিজ কুড়ালসহ ২ জনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার এডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ডের সামনে থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। পরে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলমকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন- সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গণঅধিকার পরিষদের আহবায়ক ও ওই উপজেলার তৈমুরনগরের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে লিটন মিয়া এবং একই উপজেলার কলাবাড়ী গ্রামের শৈইকুর রহমানের ছেলে জুনায়েদ আহমদ।
পুলিশ জানায়, এসএমপির এয়ারপোর্ট থানার নিয়মিত পুলিশ চেকপোস্টে এডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ডের সামনে একটি সাদা কারকে থামার জন্য সিগন্যাল দেয় পুলিশ। কিন্তু, গাড়িটি সিগন্যাল অতিক্রম করে চলে যাওয়াতে পুলিশ গাড়িটিকে দৌঁড়ে আটক করে। পরে সেখানে তল্লাশী করে একটি চাইনিজ কুড়াল ও পুলিশের ব্যবহৃত একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। সেই গাড়িতে থাকা লিটন ও জুনায়েদকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
আটককৃত দু’জনের সাথে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলমের সখ্যতার কথা জানা গেছে। তারা দুইজন কামরুলের ‘লাইনম্যান’ হিসেবে কাজ করে চাঁদা তুলেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। জব্দ করা গাড়ি ও ওয়াকিটকি কামরুল আলমের।
এ বিষয়ে কামরুল আলমকে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে অন্য একটি গণমাধ্যমকে তিনি ওয়াকিটকি ও তার গাড়ির বিষয়ে নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম খান জানান, ওয়াকিটকি এসআই কামরুলের। তাকে গতকাল মঙ্গলবার বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ তদন্ত করছে-কিভাবে তার গাড়ি ও ওয়াকিটকি তাদের কাছে গেল।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. মোবাশ্বির আলী বলেন, আমাদের চেকপোস্টে তল্লাশিকালে একটি প্রাইভেটকার থেকে চাইনিজ কুড়াল ও একটি ওয়াকিটকি পাওয়া যায়। এ সময় গাড়িতে থাকা দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তাই তাদেরকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে অস্ত্র আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওয়াকিটকি ও গাড়ির ব্যাপারে আমরা কাজ করছি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আটককৃত লিটন মিয়া ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুল আলমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আর জুনায়েদ আহমদ ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির বালু পাথর ও চোরাই মালামালের লাইনম্যান হিসেবে পরিচিত।
কোম্পানীগঞ্জের স্থানীয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আটক লিটন মিয়া ট্রাক চালাতেন। কিন্তু চব্বিশের ৫ আগস্ট পর তিনি সমন্বয়ক হয়ে যান। এরপর ভিপি নুরের গণঅধিকার পরিষদের কোম্পানীগঞ্জের আহবায়ক হন। এছাড়াও অবৈধ বালু পাথর লুটপাট করতে তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে জাহির করেন।
এছাড়াও, কয়েকদিন আগে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তিন গ্রামের সংঘর্ষের মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি লিটন। এই ঘটনায় তিনি সেনাবাহিনীর হতে আটক হয়ে জেলে গিয়েছিলেন। আর জুনায়েদ আহমদ ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির বালু-পাথর ও চোরাই মালামালের লাইনম্যান হিসেবে স্বীকৃত। তার কাজ হচ্ছে কোম্পানীগঞ্জে ধলাই নদীর পূর্ব পাড়ের এলাকায় বালু-পাথর বহনকারী যানবাহন থেকে পুলিশ ফাঁড়ির জন্য টাকা উত্তোলন করা। এর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে আসা চোরাই মালামাল ভর্তি যানবাহন থেকেও পুলিশ ফাঁড়ির জন্য টাকা উত্তোলন করতেন জুনায়েদ আহমদ।




