সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ইফতার মাহফিল
আধুনিক ব্রিটেন গঠনে সিলেটিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৩১:৪৯ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সিলেটি প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করে বলেছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম সিলেটি কমিউনিটি আধুনিক ব্রিটেন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। ব্যবসা, সংস্কৃতি, জনসেবা ও সামাজিক জীবনের নানা ক্ষেত্রে তাদের অবদান যুক্তরাজ্য গভীরভাবে মূল্যায়ন করে।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সিলেটের বিমানবন্দর এলাকার পাঁচতারকা গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে যুক্তরাজ্য হাইকমিশন আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
সারাহ কুক বলেন, যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সম্পর্কের সবচেয়ে দৃশ্যমান ও ব্যক্তিগত রূপ দেখা যায় সিলেটে। সিলেটি বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ নাগরিকরা দুই দেশের মধ্যে এক শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করেছেন, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, এই পবিত্র মাস আমাদের সহমর্মিতা, সংহতি ও অভিন্ন মানবতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ভবিষ্যতেও আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‘নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশকে যুক্তরাজ্যের স্বাগত’
অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার সারাহ কুক আরো বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকারের যাত্রা বাংলাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। যুক্তরাজ্য এই নতুন অধ্যায়কে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায় এবং বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
হাইকমিশনার আরো বলেন, একটি স্থিতিশীল, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ শুধু এ দেশের জনগণের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত এবং দুই দেশের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ। এখানে ইউনিলিভার, এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মতো বড় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করছে। পাশাপাশি ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’-এর আওতায় বাংলাদেশ বর্তমানে ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও এই সুবিধা আরও তিন বছর অব্যাহত থাকবে এবং পরবর্তীতেও অধিকাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বজায় থাকবে বলে জানান তিনি।

রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, এই পবিত্র মাস আত্মসমালোচনা, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি উপস্থিত সবাইকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ এম সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো: মুশফেকুর রহমান, এসএমপি কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলম, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূর, সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. জহিরুল হক শাকিল, সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সেক্রেটারি ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম, নায়েবে আমীর ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, জেলা বারের সভাপতি গোলাম ইয়াহইয়া চৌধুরী সুহেল, সাবেক সভাপতি এমাদ উল্যাহ শহিদুল ইসলাম, সিলেট জেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ দিলওয়ার হোসাইন, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সনাক-এর এডভোকেট শিরিন আখতার, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী, আধুনিক কাগজের সম্পাদক মঈন উদ্দিন ও বাংলা নিউজের সিলেট ব্যুরো প্রধান মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, হেক্সাসের এমডি আব্দুল কাদির সুমন, হেক্সাস জিন্দাবাজারের এমডি সুলতান আহমদ, ইউ-এস বাংলার সৈয়দ বেলায়েত লিমন, নভো এয়ারের শোলক চৌধুরীসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।



