ছাতকে ৮০ শতাংশ টিউবওয়েলে পানি উঠছে না, জনজীবন বিপর্যস্ত
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০২ মার্চ ২০২৬, ৫:৫৩:১৯ অপরাহ্ন
ছাতক (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : দীর্ঘ অনাবৃষ্টি ও তাপদাহে ছাতক উপজেলার অধিকাংশ গ্রামের টিউবওয়েলে পানি নেই। দীর্ঘ তাপদাহে মাটির নিচে পানির স্তর ২০০ থেকে ৩০০ ফুট নিচে নেমে গেছে। ফলে উপজেলার ১৮ হাজার নলকূপের মধ্যে প্রায় ১২ হাজার নলকূপে পানি ওঠে না। এছাড়া গ্রামে কিছু-কিছু গভীর নলকুপ (যাতাকল) গুলোও পানি শুন্যতায় পড়েছে।
স্থানীয় গ্রাম গুলেতে দেখা যায়, নারীরা কাঁধে কলস, বৃদ্ধরা লাঠি ঠেকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে পানি আনছেন। বালতি-কলস হাতে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। খাবার পানির জন্য এবাড়ি-সেবাড়ি ঘুরতে হচ্ছে মানুষকে। মৃতপ্রায় নদী, মরাখাল, পুকুর ভরাট জলাশয় ভরাট হওয়ায় ভূমির উপরিস্থরেও পানির কোন ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ গ্রামের খোলা প্রান্তরে বসানোর বদলে সরকারি গভীর নলকূপগুলোও ব্যক্তি মালিকানাধীন আঙিনায় বসানো হয়। যা একটি পরিবারের কাজে আসছে। অভাবী পরিবারগুলো সরকারি গভীর নলকুপ থেকে পানি সংগ্রহ করতে পারছেনা।
একাধিক গ্রামবাসীদের ভাষ্যমতে, জনস্বাস্থ্য বিভাগ নলকূপ দিয়েছে সাবেক সরকার দলীয় নেতাকমীদের নামে। দোলারবাজার ইউনিয়নের কুর্শী গ্রামের ব্যবসায়ি সেবুল রেজা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর গ্রামের মানুষ তীব্র পানি সংকটে ভুগছেন।
জাউয়াবাজার এলাকার মুলতানপুর গ্রামের ক্বারী মাওলানা জুনায়েদ আহমদ বলেন, ১৫ বছর আগে যা ৫০০ ফুটে পানি দিত, এখন ৭০০ ফুটেও পানি আসে না। দিনে ১০১২ বার চাপ দিলেও পানি ওঠে না।
ব্যবসায়ী সামছুল ইসলাম জানান, এ বছর পরিস্থিতি চরম। গ্রামের প্রায় সব টিউবওয়েল মরা। হাতে ব্যথা হয়ে গেলে ও পানি উঠে না।”
উত্তর খুরমা ইউনিয়নের গিলাছড়া গ্রামের গাড়ি চালক আরজদ আলীর কণ্ঠে অসহায়ত্ব ফুটে উঠে ‘অবস্থা এমন যে পুকুরের নোংরা পানি গরম করে খেয়ে বাঁচতে হচ্ছে। গদার মহল গ্রামের চমক আলী বলেন,গ্রামের মধ্যে কোন পুকুর ও নেই। যার বাড়িতে গভীর নলকূপ আছে তারা বাড়ি থেকে পানি আনতে দেয়না।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইছহাক আলী এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সরকারি গভীর নলকূপ স্থাপন কাজ চলমান রয়েছে। হাতে চাপা নলকূপে বছরে শীতের তিনমাস পানি উঠছে না কারণ ভূগর্ভস্থ পানির স্থর “স্বাভাবিক মাত্রার নিচে” নেমে গেছে। তার ভাষায় যেখানে আগে ৪০০ ফুটে পানি পাওয়া যেত, সেখানে এখন ৭০০ ফুটেও নিশ্চিত নয়।




