ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ কমাতে পুলিশের ‘ভ্রাম্যমাণ ওয়ার্কশপ’
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : ঈদযাত্রায় অতীতের নানা ভোগান্তির অভিজ্ঞতা থেকে উত্তরণ পেতে ও জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ। ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়কে হঠাৎ বিকল হয়ে পড়া যানবাহন দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করতে চালু করেছে ‘ভ্রাম্যমাণ ওয়ার্কশপ’ সেবা। সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পরিচালিত এই সেবার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি মেরামত করে আবার চলাচলের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাইফুল ইসলাম সানতু গণমাধ্যমকে জানান, উত্তরাঞ্চলে যাতায়াতকারী যানবাহনের চলাচল নিরবচ্ছিন্ন রাখতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে চারটি ভ্রাম্যমাণ ওয়ার্কশপ গঠন করা হয়েছে। ঈদযাত্রার পুরো সময়জুড়ে এই ওয়ার্কশপগুলো ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে। প্রতিটি টিমে একজন দক্ষ মেকানিকসহ মোট ৯জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তারা নিয়মিত টহলে থেকে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে নজরদারি করছেন এবং যেখানেই কোনো গাড়ি বিকল হয়ে পড়ছে, সেখানেই দ্রুত পৌঁছে প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ সম্পন্ন করছেন।
এই ভ্রাম্যমাণ ওয়ার্কশপগুলোতে রাখা হয়েছে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, টায়ারে বাতাস দেওয়ার মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। এমনকি কোনো যানবাহন জ্বালানি তেলের অভাবে বন্ধ হয়ে গেলে সেখানেও তাৎক্ষণিকভাবে তেল সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে চালক ও যাত্রীরা দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে না থেকে দ্রুত তাদের গন্তব্যের উদ্দেশে পুনরায় যাত্রা শুরু করতে পারছেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যমুনা সেতু পশ্চিম থানা এলাকা কেন্দ্র করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে এই সেবা পরিচালিত হচ্ছে। রুটগুলো হলো- যমুনা সেতু পশ্চিম থানা থেকে চান্দাইকোনা, যমুনা সেতু পশ্চিম থানা থেকে নাটোর সীমান্ত এবং যমুনা সেতু পশ্চিম থানা থেকে শাহজাদপুর পর্যন্ত। এসব রুটে ঈদের সময় যানবাহনের চাপ তুলনামূলক বেশি থাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সেখানে এই সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, শুধুমাত্র ভ্রাম্যমাণ ওয়ার্কশপই নয়, জানুয়ারি মাস থেকেই সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ মহাসড়কে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে। বিশেষ করে মূল্যবান পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য স্কর্ট সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যাতে ডাকাতি বা চুরির ঝুঁকি কমানো যায়। পাশাপাশি মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে, যা যাত্রী ও পরিবহন চালকদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়িয়েছে।



