জকিগঞ্জে নোমান হত্যাকাণ্ডে পুলিশের চোখ ঘনিষ্ঠজনদের দিকে: শ্যালক সুমন কারাগারে
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ অক্টোবর ২০২৫, ৪:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন
জকিগঞ্জ (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : সিলেটের জকিগঞ্জে আলোচিত ব্যবসায়ী নোমান উদ্দিন হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড় এসেছে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে নিহতের শ্যালক হানিফ আহমদ সুমনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে নিহতের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মুন্নি (২৫) অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দাখিল করলে রাতেই দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে পুলিশ। শনিবার সকালে ওই মামলায় নিহতের শ্যালক সুলতানপুর ইউনিয়নের ঘেছুয়া গ্রামের তাহির আলী তেরাই মিয়ার ছেলে হানিফ আহমদ সুমন (৩২)-কে গ্রেফতার দেখিয়ে জকিগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে মানিকপুর ইউনিয়নের পূর্ব মানিকপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে ব্যবসায়ী নোমান উদ্দিন (৫০) নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে কালিগঞ্জ বাজারের মুদি দোকানে যান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি।
দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর ১ অক্টোবর (বুধবার) বিকেলে নোমান উদ্দিনের বাড়ির অদূরে শায়লা স্মৃতি হাসপাতালের পেছনের ধানক্ষেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
লাশ উদ্ধারের ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত নিহতের পরিবার থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল করেনি, যা এলাকায় নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের জন্ম দেয়। পুলিশের ধারাবাহিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের পর অবশেষে শুক্রবার গভীর রাতে নিহতের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মুন্নি বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যবসায়ী নোমান উদ্দিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, মুক্তিপণ দাবি এবং পরিবারের সদস্যদের সন্দেহজনক আচরণ সবকিছুই ইঙ্গিত দিচ্ছে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের দিকে। নিহতের শ্যালক হানিফ আহমদ সুমন ছাড়াও পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিশেষ করে নিহতের আরেক শ্যালক বাবুর বাজারের এতিছামনগর গ্রামের মামই মিয়ার ছেলে মাজেদ আহমদকে নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা। এতে মাজেদের ভূমিকা তুলে ধরে তাকেও সন্দেহের তালিকায় রেখেছেন অনেকে।
স্থানীয়দের দাবি, নোমান উদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার পর হানিফ সুমনের সঙ্গে মাজেদ আহমদও থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। এমনকি তারা দুজন তখন পুলিশকে তথ্য দিয়ে কোন ধরনের সহযোগিতা করেননি। ফলে তাদের উভয়ের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জকিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মোমেন জানান, নোমান উদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার পর সুমন ও মাজেদ আহমদ নামের দু’জন থানায় আসেন সাধারণ ডায়েরি করতে। তখন তারা পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেনি। পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে তাদেরকে কল করা হলেও রিসিভ করেনি।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, নোমান উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার শ্যালক হানিফ আহমদ সুমনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনের নামও পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে সবকিছু। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, প্রথমদিকে কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় তদন্ত কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছিল। তবে এখন মামলা হওয়ায় তদন্ত আরও জোরদার হয়েছে। ঘটনার মূল উদ্দেশ্য (মোটিভ) উদঘাটনের জন্য হানিফ আহমদ সুমনকে রিমান্ডে পেতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আদালতে আবেদন করা হবে।




