১০ তারিখে শাকসু নির্বাচন ও শীতকালীন ছুটি বহালের দাবিতে শাবিতে বিক্ষোভ মিছিল
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ৪:১৫:৩৫ অপরাহ্ন
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন ১০ ডিসেম্বর এবং শীতকালীন ছুটি পূর্ব নির্ধারিত তারিখ থেকেই বহাল রাখার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ১টায় মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী মত দিয়েছে যে ১০ তারিখের মধ্যেই শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শীতকালীন ছুটি পিছিয়ে ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। যা নির্বাচনের জন্য অনুকূল নয়। কারণ ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক ছুটি , ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের ছুটি। এই পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাবে। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত শাকসু নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তারা আরও বলেন, শীতকালীন ছুটি নিয়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর আলাদা পরিকল্পনা থাকে। সারা বছর অন্যান্য ছুটিতে অনেকেই টিউশনির কারণে বাড়ি যেতে পারেন না। তাই এই ছুটি পেছানো শিক্ষার্থীদের প্রতি অন্যায় আচরণ ছাড়া কিছু নয়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শাকসু সংবিধানে ১৩ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠনের কথা থাকলেও একটি পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে সংবিধান সংশোধন করে কমিশনকে ১৫ সদস্যে উন্নীত করা হয়েছে। এটি নির্বাচন বানচালের প্রথম ষড়যন্ত্র। পরে দেখা গেল চারজন কমিশনার পদত্যাগ করেছেন, আবার তাদের অন্তর্ভুক্তও করা হয়েছে। তারা বলেন, “নির্বাচনের আগে আবারও তারা পদত্যাগ করবে না এ বিশ্বাসের ভিত্তি কোথায়?”
তাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন একটি নকশা একেছে। সেই নকশায় তারা ১৭ তারিখ নির্বাচনের দিন ঠিক করেছে। যেদিন কোন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে থাকবে না সেদিন তারা জীবজন্তু দিয়ে ভূতুরে নির্বাচন দিবে। এই ভূতুড়ে নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থী ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন কে বলে দিতে চাই আপনারা শাকসু দিতে দায়িত্বে আসেন নাই। আপনারা এসেছেন আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে তাদের চাটুকারিতা করে কিভাবে বড় বড় পদ নেওয়া যায় তার জন্য। যদি শিক্ষার্থীদের শাকসু দিতে দায়িত্বে আসতেন তাহলে একবার চার জন পদত্যাগের নাটক করতেন না আরেকবার ১৭ তারিখ ক্যাম্পাসে নির্বাচনের তারিখ ঠিক করতেন না।
তারা আরো বলেন, “কমিশন বলছে ভোটার তালিকা প্রস্তুত; অথচ তফসিলে ভোটার তালিকা প্রকাশের জন্য ৪ দিন সময় রাখা হয়েছে এবং নির্বাচনের আগে ১৫ দিন ফাঁকা রাখা হয়েছে। এসব নাটক কি শিক্ষার্থী বুঝে না? নাটকের পর নাটক করে বলছে ১০ তারিখে নির্বাচন নিতে প্রস্তুত নয়। একেক নাটক করে শাকসুকে বানচাল করে একটা দলকে খুশি করতে আপনারা যে নিল নকশা করেছেন এই জন্য শুধু শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা না এই জাতি আপনাদের ঘৃনার সাথে মনে রাখবে। ”
প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, “আপনারা যদি রাজনীতি করতে চান, নির্বাচন করতে চান, তবে শিক্ষকতা ছেড়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলে যোগ দিন। শিক্ষকতার কোনো নৈতিক অধিকার আপনাদের নেই।”
তারা আরও জানান, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। “১০ তারিখের মধ্যেই শাকসু নির্বাচন দিতে হবে”।




