লিডিং ইউনিভার্সিটিতে মহান বিজয় দিবস উদযাপন
বিজয়কে অর্থবহ করতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে- দানবীর ড. রাগীব আলী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৮:২২:৪৮ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : রক্তস্নাত মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপন করেছে সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটি। এ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিজয় র্যালি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. রাগীব আলী, উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যালারি-১ এ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সকলকে বিজয়ের শুভেচ্ছা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দানবীর ড. রাগীব আলী বলেন, আজ আমরা স্বাধীন, তাই সবাই মিলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। দায়িত্ববোধ ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। শিল্প কারখানা গড়ে তুলার পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করার লক্ষ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন করে গবেষণামুখী করতে হবে, তাহলেই সমাজ ও দেশের সঠিক উন্নয়ন হবে।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন বলেন, বিজয়ের স্বপ্ন সার্থক করতে হলে সঠিক নেতৃত্বের প্রেরণা দিতে হবে।
বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এদেশে রয়েছে অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ, তাই এদেশের উন্নয়নে আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। দেশের উন্নয়নে লিডিং ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মেডিকেল কলেজ, স্কুল, মাদরাসা এবং অসংখ্য জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সমাজসেবী, চা উদ্যোক্তা উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর ড. রাগীব আলীর ভূমিকা তুলে ধরে মানবিক, শোষণমুক্ত এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে একসাথে কাজ করার আহবান জানান। তিনি বিজয় অর্জনে শহীদ বীরদের স্মরণ করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। পরে অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটি ও উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফজলে এলাহী মামুন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা এবং বিজয় অর্জন তুলে ধরে বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দৈনিক সিলেটের ডাক এর অতিথি সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বাসন বলেন, আমরা সত্যিই ভাগ্যবান আজ আমরা স্বাধীন। কষ্টে অর্জিত এ স্বাধীনতার চেতনা ও মর্যাদাকে রক্ষা করার দায়িত্বও আমাদের। সেইসাথে স্বাধীনতার ভিত্তিকে মজবুত রাখতে হবে এবং অর্জনকে ধরে রাখতে হবে। তিনি বিজয় অর্জনে দানবীর ড. রাগীব আলীর ঐতিহাসিক টাইপ রাইটার প্রদানসহ আর্থিক ও জনসংযোগের অবদানের কথা তুলে ধরেন।
মুক্তবুদ্ধির চর্চা, সবার অধিকার রক্ষা এবং সর্বক্ষেত্রে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে শোষণমুক্ত ও বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে পারলে আমাদের বিজয় উদযাপন স্বার্থক হবে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভূঁইয়া, আধুনিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুজ জামান ভূঁইয়া, কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. মো. আব্দুল মজিদ মিয়া, ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, পরিচালক অর্থ ও হিসাব মোহাম্মদ কবির আহমেদ, প্রক্টর মো. মাহবুবুর রহমান, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহানশাহ মোল্লা। এতে বিজয়ের কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট কবি ফজলুর রহমান।
ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক উম্মে কুলসুম মিলির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. কবির আহমেদ, লাইব্রেরিয়ান মো. আব্দুল হাই ছামেনী, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিজয় অনুষ্ঠানের আলোচনা সভা পরবর্তী বিজয়ের লক্ষ্যে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফজলে এলাহী মামুন।




