জনসমুদ্রের তারেক রহমানের রাজসিক প্রত্যাবর্তন
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:৩৬:১৪ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়ক যেন জনসমুদ্র। চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। তিল ধারণের ঠাঁই নেই কোথাও। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে এ বিশাল জমায়েত। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার প্রিয় মাতৃভূমিতে পা রাখেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৩ মিনিটের দিকে তাকে বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এর আগে, সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইটটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে সোয়া ঘণ্টার যাত্রাবিরতি শেষে বেলা ১১টা ১১ মিনিটে বিমানটি ঢাকার পথে রওনা হয়। যাত্রাবিরতির সময় তারেক রহমান বিমানেই অবস্থান করেন। সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে ফেইসবুকে সস্ত্রীক হাস্যোজ্জ্বল ছবি পোস্ট করে বিএনপি নেতা লেখেন, “অবশেষে সিলেটে, বাংলাদেশের মাটিতে” এর আগে সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটে আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, “দীর্ঘ ৬ হাজার ৩শ’ ১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে” এদিকে, শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে এবং আলিঙ্গনে-করমর্দনে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। প্রথমে তিনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জড়িয়ে ধরেন। পরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ভিআইপি লাউঞ্জে তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান দলের শীর্ষ নেতারা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।
বিমানবন্দরে তাঁর শাশুড়ি ফুলের মালা পরিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন এবং নাতনি জাইমাকে আদর করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনও উপস্থিত ছিলেন বিমানবন্দরে। বিমানবন্দর থেকে ফোনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। নিরাপত্তা ও বিভিন্ন ধরনের সহায়তার জন্য এসময় তিনি সরকারপ্রধানের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় লাগোয়া বাগানে জুতা খুলে খালি পায়ে ঘাসের উপরে দাঁড়িয়ে দেশের মাটির স্পর্শ নেন তারেক রহমান। এসময় এক টুকরো মাটি হাতে নিয়ে স্পর্শ নেন মাতৃভূমির।
বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনার পর দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে বিএনপির পতাকা রঙে সাজানো বাসে চড়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ৩০০ ফিট সড়কের পথে রওনা হন তিনি। সেখানে তাকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। বিএনপি নেতা বাসের সামনের অংশ থেকে হাত নেড়ে কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান।
প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভোর থেকেই লাখ লাখ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জমায়েত হতে শুরু করেন। বিমানবন্দর থেকে তিনি যখন একটি বিশেষ লাল-সবুজ বাসে চড়ে গণসংবর্ধনার মঞ্চ ৩০০ ফিটের উদ্দেশে রওনা হন তখন রাস্তার দুই পাশে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। নেতাকর্মীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা এবং দলীয় ব্যানার। নারী, শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত সব বয়সী মানুষ হাত নেড়ে ও স্লোগানে স্লোগানে তাকে অভিবাদন জানান। মানুষের এই বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের কারণে তারেক রহমানের গাড়ি বহর অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোতে থাকে। পথে পথে সাধারণ মানুষের এই ভালোবাসার জবাবে তারেক রহমানও হাত নেড়ে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে তিনি যখন সমাবেশস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন তখন পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সংর্বধনাস্থলের পথে তারেকের গাড়ি বহর ধীর গতিতে চলতে শুরু করে। বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিটের সংবর্ধনা মঞ্চ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সারি বেঁধে দাঁড়িয়েছেন। কোথাও কোথাও ভিড় উপচে পড়ে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা চারপাশে নজর রাখার পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে থাকা কর্মী সমর্থকদের গাড়ি বহর থেকে দূরে রাখেন।
রাস্তার দুই ধারে অবস্থান করা নেতাকর্মীরা একের পর এক স্লোগান দেন। তাদের স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কুড়িল থেকে ৩০০ ফিটের পুরো সড়ক মুখরিত নানান স্লোগানে। অন্যদিকে বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান সরাসরি যান গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসায়।
এদিকে, সংবর্ধনা সমাবেশে প্রায় ১৬ মিনিট বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশ্যেু রওনা হন। বিমানবন্দর থেকে জাতীয় পতাকার রঙে সাজানো যে বাসে করে তিনি পূর্বাচলের সংবর্ধনা মঞ্চে এসেছিলেন, সেই বাসেই হাসপাতালের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে বাসটি এভারকেয়ার হাসপাতালের দিকে রওনা দেয়। তবে মঞ্চ থেকে বাসে উঠতে তাঁকে বেশ বেগ পেতে হয়। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর ভিড়ের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে তাঁকে নিরাপদে বাসে তুলে দেন। এর আগে বাসায় অবস্থান শেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জায়মা রহমান।
হাসপাতালে তারেক রহমান খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার মায়ের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ খোঁজখবর নেন এবং প্রায় দেড় ঘন্টা হাসপাতালে অবস্থান করেন। সন্ধ্যা ৭ টা ৩০ মিনিটে হাসপাতাল থেকে বের হন তারেক রহমান। রাত ৮টা ২০ মিনিটে গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে সপরিবারে এসে পৌঁছান তিনি। তারেক রহমানের নিজের বাসভবনে আগমনকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকেই গুলশানের এভিনিউ রোডে ভিড় জমান বিএনপি নেতা-কর্মীরা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পৌঁছালে তাঁরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান তাঁকে। এ সময় ‘তারেক রহমান এসেছে, বাংলাদেশ হেসেছে’, ‘তারেক রহমান ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন নেতা-কর্মীরা।
এদিকে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়ির সামনের সড়ক বন্ধ করে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ছাড়া আশপাশের এলাকায়ও নিরাপত্তা টহল চালিয়ে যাচ্ছেন সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা।



