১১ দলের আসন সমঝোতা, ১৭৯ আসনে জামায়াত, এনসিপি ৩০, দুই খেলাফত ৩০
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৩:২১ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের আসন ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত মীমাংসা হয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জোটে অংশগ্রহণ।
গতকাল বৃহস্পতিবার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলভিত্তিক আসনসংখ্যা ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট। তবে এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হননি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি।
সংবাদ সম্মেলন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আসন্ন নির্বাচন হবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এর আগে এতগুলো দল মিলে এতবড় জোট গঠন হয়নি। আজকের এই ঐক্য একটি মডেল হিসেবে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে।
‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ জোটের হয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৭৯টি আসনে প্রার্থী দেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি আসনে প্রার্থী দেবে। এছাড়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি আসনে প্রার্থী দেবে।
জোটের অন্যান্য সঙ্গীদের মধ্যে, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩টি, বিডিপি ২টি, নেজামে ইসলাম ২টি আসনে প্রার্থী দেবে। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) জোটে থাকলেও তাদের আসন কতটি সে বিষয়টি জানাননি ড. তাহের।
এছাড়া, এই জোটের বহুল আলোচিত দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আসন সংখ্যা ঘোষণা করা হয়নি। তবে, ৪৭ টি আসন রেখে দিয়েছে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’। এই আসনগুলোর ব্যাপারে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ঐক্যের মূল বক্তব্য তুলে ধরেন জামায়াতের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, জোট ভাঙেনি, জোট আছে। কোনো একটা দল যে কারণেই হোক একমত হলো না। এর মানে তো জোট ভাঙা নয়। এটি আসলে জোটও নয়, নির্বাচনী ঐক্য।
ইসলামী আন্দোলনের নাম উল্লেখ না করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটি দল সূচনায় আমাদের সঙ্গে ছিল, কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে না। এটা ভাঙনের কোনো ব্যাপার নয়। তাঁরা নিজেদের নিয়ে আরও বোঝাপড়া করছেন । তাঁদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তাঁরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। আমরা আশা করছি, তাঁরা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’
এদিকে, আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় ‘নির্বাচনী সমঝোতা বিষয়ে’ সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলে জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।




