জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-শিক্ষক পুনর্মিলনী
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর ক্রমবর্ধমান দূরত্বের কারণে শিক্ষা আনন্দদায়ক হচ্ছে না
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৫১:১০ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : বর্ণিল আয়োজনে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই দিনব্যাপী ৭৫ বছর পূর্তি ও প্রাক্তন ছাত্র-শিক্ষক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার স্মৃতি ও প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নর্থ সাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খানসহ অতিথিবৃন্দ।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯ টায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বের করা হয় বর্ণিল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি স্থানীয় জালালপুর বাজার প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে সকাল ১০ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন এবং শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুরু করা হয়। বেলা ১১ টায় বিদ্যালয় মাঠে বিশাল আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৭৫ বছর পূর্তি ও প্রাক্তন ছাত্র-শিক্ষক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক এবং সাবেক শিক্ষার্থী আখলাকুল আম্বিয়া বাতিন। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আখতার হোসেন রুকন, সাংবাদিক খালেদ আহমদ, এস এম ফাহিম ও মাহফুজুল হাসান ইব্রাহিমের যৌথ সঞ্চালনায় শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ধীমান ব্রত পাল। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ফাহাদ বিন আব্দুল আজিজ। পবিত্র গীতা পাঠ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাধুর্য্য সরকার।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নর্থ সাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, বর্তমান ‘মুনাফাভিত্তিক কুশিক্ষা’ ব্যবস্থা পরিবর্তন করে একটি বৈষম্যহীন ও যুগোপযোগী ব্যবস্থা চালু করতে হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো দেশকে উজ্জীবিত করা, সাহিত্যকে উজ্জীবিত করা। কিন্তু আমরা সেটা না করে শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছি। তিনি বলেন, দেশের সর্বত্র নৈরাজ্য চলছে। এটাকে ঠিক করার জন্য সঠিক মানুষের দরকার। আমরা যদি দেশকে ভালোবাসি তাহলে অতীতের কথা মনে রাখলে হবেনা। ভবিষ্যতের কথাও ভাবতে হবে। এখনো দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ সাধারণ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেনা। শিক্ষার জন্য সরকার টাকা খরচ করতে চায়না। অথচ, এদেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সরকার চলে। সরকারে যারা আসে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তারা পক্ষপাতমূলক আচরণ করে। আমাদের রাষ্ট্র এ জাতির দায়িত্ব নিতে চায়না। কারণ আমরা একটি অভিশপ্ত জাতি। শিক্ষা প্রসারে আমরা কোনদিনই কাজ করিনি। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার সংস্কার হচ্ছেনা দীর্ঘদিন থেকে।
তিনি বলেন, ভালো শিক্ষকের অভাব এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দূরত্বের কারণে শিক্ষা আনন্দদায়ক হচ্ছে না। বাংলা মাধ্যমকে অবহেলা করে ইংরেজিকে প্রাধান্য দেওয়াকে তিনি ‘ঔপনিবেশিক দাসত্ব’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষা বাংলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইংরেজি বা অন্য ভাষার আধিপত্য হ্রাস, শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার, যোগ্য শিক্ষক নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার রাষ্ট্রীয়করণ ও জাতীয়করণের দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার মো. রিয়াজুল কবির, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. কামাল আহমদ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম অনীক চৌধুরী। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক আব্দুল জব্বার জলিল, হোসেন আহমদ, ময়নুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক ডাক্তার কাওছার আহমদ, অধ্যাপক মতিউর রহমান, অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান শুয়েব, জহিরুল হক শিকদার প্রমুখ।
এদিকে, বেলা ২ টায় মধ্যাহ্নভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় নাটিকাসহ বিভিন্ন রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৬ টায় বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী যারা বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন তাদের নিয়ে প্রবাসী সন্ধ্যা নামে একটি স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী অংশ নেন। পরবর্তীতে রাত ৮ টায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক উপ পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান শুয়েবের সঞ্চালনায় গান পরিবেশন করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাক্তার জহিরুল ইসলাম অচিনপুরীসহ স্থানীয় শিল্পীবৃন্দ।
আজ রোববার দ্বিতীয় দিনে বিভিন্ন রকম অনুষ্টানমালার আয়োজন করা হয়েছে। বেলা আড়াইটায় সমাপনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।



