‘আফনারা ভালা আছইন নি’ বলে বক্তৃতা শুরু করেন তারেক রহমান
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১:৫১:৫২ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : বেলা ১টায় বক্তৃতার জন্য ডায়াসে দাঁড়িয়েই তিনি সিলেট আলিয়া মাঠের জনসমুদ্রকে জিজ্ঞ্যেস করেন ‘আফনারা ভালা আছইন নি’? উপস্থিত উচ্ছ্বসিত জনতা জবাব দেয় ‘ভালা, ভালা’। এরপর বক্তৃতা শুরু করেন তিনি।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনী সমাবেশ ছিল আজ। সিলেট ও সুনামগঞ্জের সব আসনে প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় ভরে ওঠে আলিয়া মাঠ। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া সমাবেশে ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন। এরপর বেলা সাড়ে ১২টা দিকে সভামঞ্চে এসে হাজির হন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়; সবার আগে বাংলাদেশ। তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি গত ১৫/১৬ বছর অন্য দেশের কাছে কিভাবে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিয়েছিল। এজন্য আমি আগে বলেছি দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়; সবার আগে বাংলাদেশ। আমি আরেকটি কথা বলেছিলাম, স্বৈরাচার সরকার যখন মানুষের ঘাড়ে চড়ে বসেছিল, সেটা হচ্ছে ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’। আমরা ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশের’ অর্ধেক পথে এসেছি।
তিনি বলেন, উন্নয়নের নাম করে আমরা দেখেছি কিভাবে দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে পাচার করেছে। আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন করতে চাই। এ জন্য ধানের শীষের পাশে থাকবেন। আমরা কৃষকের পাশে থাকতে চাই। এ কারণে আপনাদের ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।
১২ তারিখের নির্বাচনের পর আমরা বিজয়ী হয়ে জিয়াউর রহমানের মতো খাল খনন করতে চাই বলে মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়য়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ করেছি। গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছি। ১২ তারিখে ধানের শীষকে নির্বাচিত করার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হবে।
এর আগে বুধবার রাত আটটার দিকে আকাশপথে সিলেটে পৌঁছান তারেক রহমান। পৌঁছে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। পাশাপাশি হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ কবরস্থানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর কবরেও শ্রদ্ধা জানান। এরপর তিনি দক্ষিণ সুরমার বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান।
সর্বশেষ ২০০৫ সালে সিলেট সফর করেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ২০ বছর পর সিলেটে ফিরে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, ২০০৫ সালে আমি ঢাকা থেকে সড়ক পথে সিলেটে এসেছিলাম, তখন সময় লেগেছিল সাড়ে ৪ ঘন্টা। কিন্তু আজ সিলেট থেকে ঢাকায় যেতে সময় লাগে সাড়ে ১০ ঘন্টা। সিলেট থেকে লন্ডন যেতেও এত সময় লাগে না, যত সময় লাগে ঢাকা যেতে। এই হলো উন্নয়নের নমুনা।
তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে আমরা খাল খনন করব। মা বোনদেরকে স্বাবলম্বী করার পদক্ষেপ নেব। মা বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তারা সহযোগিতা পাবেন। কৃষকদেরকেও কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যে যুবসমাজের জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। যাতে দেশে এবং দেশের বাইরে তারা দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী কায়দায় আবারও ভোট ডাকাতির চক্রান্ত চলছে। মধ্যপ্রাচ্যে ব্যালট নিয়ে কী হয়েছে আপনারা দেখতে পেয়েছেন।




