ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামে নয় কামে পূর্ণাঙ্গ হবে- জামায়াত আমীর
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৩০:১২ অপরাহ্ন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রবাসী নির্ভর এই সিলেটে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। যদি এটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে, তাহলে সকল এয়ারলাইন্সের ক্রাফট এখানে নামবে না কেন?এতদিন ধরে এটা পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয় না কেন? সিলেটি প্রবাসীরা তো বাংলাদেশের রেমিটেন্সে বিশাল অবদান রেখে চলছেন। আমরা তাদেরকে কথা দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ, এই ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামে নয় কামে পূর্ণাঙ্গ হবে ইনশাআল্লাহ। প্রবাসীরা বিদেশে থাকেন, বিশেষ করে ইউকেতে যে সমস্ত বাংলাদেশী প্রবাসী আছেন, তাদের প্রায় ৯০ ভাগ সিলেটের বংশোদ্ভূত। ম্যানচেস্টার একটা গুরুত্বপূর্ণ হাত। সেখানে বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট আগে যেত আসতো। এখন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কেন? আমরা তো আগাবো পিছাচ্ছি কেন? আমরা কি চিংড়ি মাছের দৌঁড় শুরু করেছি? চিংড়ি মাছ দৌঁড়াতে শুরু করলে শুধু পিছনের দিকে যায়। আমরা তো সিংহের থাবা মেলে সামনে আগাতে চাই। রোড বন্ধ নয়, ওই রোডও চালু করা হবে, আবার নতুন নতুন রোড করা হবে ইনশাআল্লাহ। অ্যামেরিকার মতো দেশ, সেখানে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশি থাকেন। বাংলাদেশ বিমানের যাওয়ার মুরুদ হয় না নিউইয়র্ক এয়ারপোর্টে। আমরা ইনশাআল্লাহ এগুলো খুলবো, চালু করবো। রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার একই কথা, আমাদের লাভ হয় না, লাভ হবে কেমনে? ঝুঁড়ির তলা যদি ভাঙ্গা থাকে, সব তো সাগরে চলে যায়। দুর্নীতির রুট যখন বন্ধ হবে, চাঁদাবাজি যখন বন্ধ হবে, তখন সকল উন্নয়ন হবে ইনশাআল্লাহ। পাঁচ বছরে এই দেশের চেহারা পাল্টে যাবে ইনশাআল্লাহ।
শনিবার বিকেলে ঐতিহাসিক সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভাই-বোনেরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। আল্লাহর মেহেরবানীতে এই আওয়াজ আমরাই দিয়েছিলাম। অনেকে তার বিরোধিতা করেছিলেন। অনেকে বলেছেন প্রবাসীদের আবার ভোটের দরকার কি? ওরা বিদেশে যাবে, রুজি করবে, পরিবারকে টাকা পাঠাবে, দেশকে রেমিটেন্স দিবে- এর বাইরে তাদের আর কি আছে? লজ্জা। আমাদের ভাই-বোনদেরকে অপমান করা হয়েছে। আমরা বলেছিলাম ভোট যার যার পছন্দমতা দেবে। কিন্তু আমরা প্রতিটি প্রবাসীর ভোটের নিশ্চয়তা চাই। সরকার শেষ পর্যন্ত আমাদের দাবি মেনে নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বাস্তবায়ন করেছে। এবার যদি সবার ভোটার নাও হতে পারে, ভোট নাও দিতে পারে, দরজা খুলেছে আগামীতে নিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীনের সঞ্চালনায় অনুষ্টিত সভায় বক্তব্য রাখেন
জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জাগপার কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী সিবগাতুল্লাহ সিবগা সহ ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াতের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সবশেষে সিলেটের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াতের আমীর।
এর আগে এই সমাবেশে দুপুর থেকে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। এবারই প্রথম সিলেটে জামায়াতের সমাবেশে বিপুল সংখ্যক নারীরা অংশ নেন।




