ভোটে অংশ নিতে সিলেটে কয়েক হাজার প্রবাসী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:০২:৩৯ অপরাহ্ন
লবীব আহমদ :
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন উপলক্ষে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে প্রচারণায় যোগ দিতে ইতিমধ্যে দেশে ফিরেছেন কয়েক হাজার প্রবাসী। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ও পর থেকেই তারা দেশে ফিরতে শুরু করেন। বর্তমানে তারা নিজেদের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছেন। প্রতিদিন গণসংযোগ করছেন, মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন নিজেদের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে, প্রচার মিছিল করছেন। তারা বলছেন দীর্ঘ ১৭ বছর এদেশের মানুষের পাশাপাশি তারাও ভোট দিতে পারেননি। যার কারণে নিজেদের কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে নাড়ির টানে দেশে ফিরেছেন কেবল প্রিয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে ও সশরীরে ভোট দিতে।
বাংলাদেশের আধ্যত্মিক রাজধানী খ্যাত সিলেটের কয়েক লাখ মানুষের কর্মস্থল প্রবাসে। যার কারণে সিলেটকে প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা বলা হয়। সিলেটের মানুষ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বেশি থাকায় সিলেটকে দ্বিতীয় লন্ডন বলা হয়। সিলেটের বেশিরভাগ মানুষজনের আয়ের প্রধান উৎসই রেমিট্যান্স। এ অঞ্চলের গ্রামে গেলে প্রত্যেক বাড়িতে অন্তত একজন করে হলেও প্রবাসী পাওয়া যায়। সিলেটের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রবাসীরা কেবল ভোটার হিসেবেই নয় বরং নির্বাচনী প্রচারণার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন। যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা প্রবাসীরা ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছেন, গণসংযোগ করছেন। অংশ নিচ্ছেন প্রচারমিছিলেও। জামায়াত ও বিএনপির সিলেটের সমাবেশে ও প্রার্থীদের সাথে প্রচারণায় দেখা গেছে প্রবাসীদের। তারা প্রার্থীদের নিয়ে প্রচারণার পাশাপাশি প্রচার মিছিলও করেছেন।
এবারই প্রথম প্রবাসীরা প্রবাসে থেকেও ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি প্রবাসী এই পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হয়েছেন এবং প্রায় ৪ লাখেরও বেশি পোস্টাল ব্যালট দেশে এসে পৌঁছেছে। তবে যারা সরাসরি দেশের মাঠে আছেন, তারা জনসভা ও মিছিলে যোগ দিয়ে সাধারণ ভোটারদের উৎসাহিত করছেন। প্রবাসীদের অংশগ্রহণে নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হয়েছে আধুনিকতা। অনেক প্রবাসী তাদের ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে প্রার্থীর হয়ে লাইভ ক্যাম্পেইন করছেন, ভোট চাচ্ছেন।
সিলেট জেলা বিএনপি সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের ৬টি আসনেই প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ করে নেতাকর্মীরা দেশে এসেছেন। তারা এসে এখন দল ও দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্সসহ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে তারা এসেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি যুক্তরাজ্য ও লন্ডন থেকে এসেছেন।
আর জামায়াত সূত্রে জানা যায়, সিলেটের ৬টি আসনে প্রায় সহস্রাধিক নেতাকর্মী দেশে এসেছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে নির্যাতিত ছিলেন। নানা নির্যাতন ও মামলা নিয়ে তারা প্রত্যেকেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন। বর্তমানে দেশে একটি নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ থাকায় তারা দেশে এসে নিজ দলের হয়ে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সাবেক শিবিরের নেতাকর্মী বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স সহ ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে তারা এসেছেন।
পর্তুগাল বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও পর্তুগাল প্রবাসী মো. শামছুজ্জামান জামান বলেন, গত ১৫ বছর আমরা নির্যাতিত ছিলাম। দেশে থাকতে দলের জন্য একনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি। ফ্যাসিস্ট সরকার আসার পরে আমাদেরকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছে। এখন দেশে আসতে পারছি, নিজ দলের হয়ে কাজ করতে পারছি ভেবেই ভালো লাগতেছে। আগামী ১২ তারিখে ভোট দিতে পারবো বলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। গত ৬ মাসে আমি দেশে ৪ বার আসছি শুধু দলের প্রার্থীর হয়ে কাজ করার জন্য। আর প্রবাসীদের জন্য ভোটের ব্যবস্থা করায় অন্তবর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।
জাস্টিস ফর জুলাই ইউকের উপদেষ্টা ও ইউকে প্রবাসী আমিনুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে মানুষ পিপাসার্ত, অপেক্ষমাণ, গভীর উদ্বেগ নিয়ে বসা- একটু সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে আবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাবে। এক্ষেত্রে মানুষ মাঝে মাঝে উদ্বিগ্ন হচ্ছেন যে এই নির্বাচন কোনো দলে বাধাগ্রস্ত করবে কি না। মানুষ এখন খুব সচেতন এবং খুব সাহসী। মানুষ তার নিজের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে আগামীর প্রজন্ম রক্ষার্থে ভোট দিবেন এবং ভোট কেন্দ্র পাহারা ও সুষ্ঠু একটি নির্বাচন উপহার দিবেন। আমরা প্রবাসীরা বড় আশা নিয়ে দেশে এসেছি সুষ্ঠু একটি নির্বাচন উপহার দিতে। আশা করি নির্বাচন কমিশন দেশের মানুষের হয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিবে।
সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পরে দেশে ভোটের একটা আমেজ তৈরি হয়েছে মানুষের মাঝে। মানুষজন ১৭ বছর পরে তার ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছেন। প্রবাসীরাও দেশের টানে এসেছেন ভোট দেওয়ার জন্য। পাশাপাশি তারা নিজের দলের বা পছন্দীয় প্রার্থীর হয়ে কাজ করছেন, ভোট চাচ্ছেন। এটি আসলে নির্বাচনের উৎসবে নতুন আমেজ তৈরি করেছে। প্রবাসীরা ভোটাধিকার ফিরে পেতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন।
এ বিষয়ে সিলেট জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, প্রবাসীরা বিদেশে থাকলেও দেশের প্রতি তাদের আলাদা টান রয়েছে। তারা বিগত ১৭ বছর ভোট দিতে পারেননি। যার কারণে এবার তারা ভোট দিতে নিজ উদ্যোগে আগ্রহী হয়ে দেশে ফিরেছেন। তারা দেশে এসে আবার বসে থাকেননি, প্রচারণায়ও অংশ নিচ্ছেন। প্রবাসীরা এবার যারা প্রবাসে ভোট দিতে পেরেছেন, তাদের মধ্যে ভোটের আলাদা উৎসব বিরাজ করছে।




