দায়িত্ব নিলেন সিসিকের নয়া প্রশাসক কাইয়ুম চৌধুরী
‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’ গড়তে ছয় অগ্রাধিকার কর্মসূচি সিসিকের নয়া প্রশাসকের
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:১৫:০৭ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: ছয়টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রশাসক (মেয়র পদমর্যাদার) আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সিলেটকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক নগরীতে রূপ দেওয়া এবং একটি নাগরিকবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল বুধবার সিসিকের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি তার পরিকল্পনার কথা তুলেন ধরেন। দুপুরে সিলেট নগর ভবনের সভাকক্ষে (৬ষ্ঠ তলা) এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এ সভা।
অগ্রাধিকার ছয়টি হচ্ছে-পরিচ্ছন্নতা ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মশক নিধন, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, নাগরিক সেবায় হয়রানি হ্রাস এবং সিটি কর্পোরেশনের সকল কার্যক্রমে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’ ভিশনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ সিলেটকে একটি আধুনিক, বাসযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব শহরে রূপান্তরের জন্য এসব অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি। এ সময় প্রশাসক বলেন, বাস্তবায়নের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং নিয়মিত তদারকিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
নগরীতে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত, নাগরিক সমাজ এবং ওয়ার্ড প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদারেরও তাগিদ দেন তিনি।
কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিটি কর্পোরেশন একটি সেবামুখী প্রতিষ্ঠান। নাগরিকদের সেবা দিতে কর্পোরেশন দায়বদ্ধ। তিনি বলেন, যে কোনও ধরনের অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও ঘোষণা করেন এখন থেকে সিসিকের সমস্ত নাগরিক পরিষেবা সম্পূর্ণরূপে চালু থাকবে।
সভায় প্রশাসক তাঁর নতুন দায়িত্বে সমন্বয় ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে নগর উন্নয়নের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এসব লক্ষ্য ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে সিলেটকে একটি পরিচ্ছন্ন, মানবিক, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আধুনিক নগরীতে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতি ও প্রশাসনের মধ্যে সুসম্পর্ক পার্থক্য বজায় রেখে দল-মত নির্বিশেষে সকল নাগরিকের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালন করাই একজন প্রশাসকের মূল কর্তব্য। সিলেটের সকল নাগরিকই সমান অধিকার নিয়ে সেবা পাওয়ার দাবিদার।
সভায় প্রশাসক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে নগর পরিচালনায় স্বচ্ছতা, কার্যকর সমন্বয় এবং নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সভায় সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার ও চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ভারপ্রাপ্ত) আলী আকবরসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ
গতকাল বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরভবনে সদ্যবিদায়ী প্রশাসক ও সিলেট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খান মোঃ রেজা-উন-নবী’র কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নয়া প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
দায়িত্ব গ্রহণের পর আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নতুন মন্ত্রিসভায় সিলেটের দুজন মন্ত্রী রয়েছেন। শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এবং শ্রম ও জনশক্তি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সহযোগিতা নিয়ে নগরবাসীর সর্বোচ্চ সেবা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করব।
দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে বুধবার তিনি ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেটে আসেন। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে দলীয় ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে বিপুল অভ্যর্থনা জানান। এরপর তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। দুপুরে নগরভবনে এসে পৌঁছালে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার ও সচিব বিশ্বজিত দেব ফুল দিয়ে নবনিযুক্ত প্রশাসককে স্বাগত জানান। রাতে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জে তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন।
এর আগে সোমবার সরকার সিলেটসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়। এর ধারাবাহিকতায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পান জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।



