দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ ১৪ জন নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ মার্চ ২০২৬, ৪:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : বাগেরহাটের রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জন নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যবিশিষ্ট ওই তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
কমিটির প্রধান করা হয়েছে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মেজবাহ উদ্দীনকে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন পুলিশের রামপাল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) একজন পরিদর্শক। তদন্ত কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির বিষয়ে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ এবং বিআরটিএর সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, কার অবহেলায় ঘটল, তার সঠিক কারণ কীএসব অনুসন্ধানে কাজ করবে তদন্ত কমিটি। ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে কারও অবহেলা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে সহযোগিতা করা হবে। বর ও কনের দাফনের জন্য ২০ হাজার করে মোট ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিআরটিএ থেকে দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত আর্থিক সহায়তা তহবিলসহ অন্যান্য সহযোগিতা নিয়ম অনুযায়ী পাবে নিহত ও আহতদের পরিবার।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কে নৌবাহিনীর স্টাফ বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হন। নিহত ব্যক্তিরা সবাই মাইক্রোবাসের আরোহী। খুলনার কয়রা থেকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কনে-বরসহ ওই আরোহীরা মোংলা ফিরছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছেলে আহাদুর রহমানের (ছাব্বির)। কনের বাড়িতে বিয়ের পর ওই রাতে সেখানে থাকার পর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে নববধূসহ কয়রা থেকে মোংলার বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন বরযাত্রীরা।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন- বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তাঁর বাবা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সরদার, বরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, তাঁর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলমের স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাঁদের ছেলে আলিফ, আরফা ও ইরাম। কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তাঁর ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈম। মাইক্রোবাসচালক নাঈমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালি ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে।
গতকাল শুক্রবার বাগেরহাটের মোংলা, রামপাল ও খুলনার কয়রা উপজেলায় নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।



